Daily Sunshine

করোনার নতুন ‘হটস্পট’ রাজশাহী বিভাগ

Share

স্টাফ রিপোর্টার : দেশে করোনাভাইরাসের নতুন ‘হটস্পট’ হয়ে উঠছে রাজশাহী বিভাগ। প্রতিদিন দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যায় ঢাকাকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও এ বিভাগে বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (৮ জুন) সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহীতে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৪ হাজার ১৩৭টি। ৬৭৩ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা দেশের আট বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ।
অন্যদিকে এই সময়ে ঢাকা বিভাগে ৯ হাজার চারজনের নমুনা পরীক্ষায় ৫৪৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। খুলনা বিভাগে ১ হাজার ৪৬৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৫৪৪। শনাক্তের হারের দিক দিয়ে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা খুলনা বিভাগের।
এছাড়া চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ৬৪৩ নমুনা পরীক্ষায় ২৯১ জন, রংপুরে ৪৪৩ নমুনা পরীক্ষায় ১১৪ জন, বরিশালে ২৭০ নমুনা পরীক্ষায় ৩৯ জন, সিলেটে ৬০০ নমুনা পরীক্ষায় ৬৯ জন এবং ময়মনসিংহে ৬০২ নমুনা পরীক্ষায় ৪৮ জন মিলিয়ে সারা দেশে মোট ২ হাজার ৩২২ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে।
ঢাকায় শনাক্তের হার ৬ শতাংশের মতো, চট্টগ্রামে ১১ শতাংশ, রাজশাহীতে ১৬ শতাংশ, রংপুরে ২৬ শতাংশ এবং খুলনায় ৩৭ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগে ১১ জন করে মারা গেছেন। সারা দেশে মারা যাওয়া ৪৪ জনের অর্ধেকই এই দুই বিভাগের।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, করোনাভাইরাসে দেশে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে ৮ লাখ ১৫ হাজার ২৮২ জনে দাঁড়িয়েছে এবং মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১২ হাজার ৯১৩ জন।
এদিকে, রাজশাহী বিভাগে করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ৬০০ ছাড়ালো। সোমবার থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় বিভাগে মোট ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে বিভাগে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৬০৯ জনে। এর মধ্যে বিভাগের বগুড়ায় সর্বোচ্চ ৩২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ২৪ ঘন্টায় মোট ১২ জন কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগী মৃত্যুবরণ করেছেন। এদের মধ্যে রাজশাহীতে ১ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩ জন, নওগাঁয় ৩ জন, নাটোরে ১ জন, জয়পুরহাটে ১ জন ও বগুড়ায় ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে সিরাজগঞ্জ ও পাবনায় এদিন কেউ মারা যায়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার পর্যন্ত বিভাগে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬০৯ জনে। যার মধ্যে বিভাগের রাজশাহীতে ৯৪ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫৯ জন, নওগাঁয় ৪৮ জন, নাটোরে ২৮ জন, জয়পুরহাটে ১৩ জন, বগুড়ায় ৩২১ জন, সিরাজগঞ্জে ২২ জন ও পাবনায় ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বিভাগে এ পর্যন্ত করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩৯ হাজার ১০৪ জন। এদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪ হাজার ৮৭ জন। আর সুস্থ হয়েছেন ৩২ হাজার ৫৩২ জন রোগী।
এদিকে, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনায় মৃত্যু সংখ্যার সাথে রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে পাঠানো মৃতের তথ্যের সংখ্যার সাথে মিল থাকছে না। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ে মৃতের সংখ্যা হাসপাতালের মৃত্যুর হার অনুযায়ী বেশি হওয়ার কথা। কারণ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শুধু তাদের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃতদের তথ্যই দিতে পারে। আর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক সিভিল সার্জন অফিসের মাধ্যমে হাসপাতালে মৃত ছাড়াও যেকোন জেলার সদর হাসপাতাল কিংবা বাড়িতে থেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃতদের তথ্যও সংগ্রহ করে দিতে হয়।
এইজন্য হাসপাতালে মৃতদের সংখ্যা অনুযায়ী জেলার তথ্যেও বেশি মৃতের সংখ্যা থাকা উচিত। অথচ ঘটছে তার উল্টো। গত ১২ দিনে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে পাঠানো মৃতের সংখ্যা থেকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনায় মৃত ১১ জনের তথ্য বেশি পাওয়া গেছে। অর্থাৎ বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে ১১ জন মৃতের সংখ্যা কম পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৭ মে থেকে ৭ জুন পর্যন্ত এই ১২ দিনে করোনার উপসর্গ ও করোনা নিয়ে মোট ৮৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৬৪ জন করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। এর মধ্যে রাজশাহীতে করোনায় মারা গেছেন ১৩ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩৭ জন, নাটোরে ৫ জন, নওগাঁয় ৪ জন, পাবনায় ২ জন ও সিরাজগঞ্জে এক জন করোনায় মারা গেছেন।
অথচ বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে পাঠানো তথ্যে এই ১২ দিনে মৃতের সংখ্যা দেখানো হয়েছে ৫৩ জন। অর্থাৎ হাসপাতাল থেকে ১১ জন মৃতের সংখ্যা কম পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রাজশাহী থেকে মৃতের সংখ্যা দেওয়া হয়েছে ১২ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২৮ জন, নাটোরে ৬ জন ও নওগাঁয় ৭ জন মৃত দেখানো হয়েছে।
যেমন গত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৩ জন, রাজশাহী, নাটোর, পাবনা ও নওগায় একজন করে মারা গেছেন।
অথচ বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে পাঠানো তথ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী, নওগাঁ ও নাটোর থেকে কোনো মৃত্যু দেখানো হয়নি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে শুধু দুইজন মৃত্যু দেখানো হয়েছে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, আমরা করোনায় মৃতের সব তথ্য বিভাগীয় পরিচালকের কার্যালয় থেকে শুরু করে সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ সব জায়গায় পাঠানো হয়। ফলে তারা কেন মৃতের সংখ্যা কম দিচ্ছে তা বলতে পারছি না।
রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. কাইয়ুম তালুকদার জানান, সিভিল সার্জন অফিসের কাজ হাসপাতালে কেউ মারা গেলে সেই তথ্য দিবেই। আবার বাড়িতে বা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স যেখানেই হোক না কেন জেলার মধ্যে করোনায় কেউ মারা গেলে তার তথ্যও স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়। আমার মনে হয়, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মৃতের সংখ্যা বাড়িয়ে বলছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. হাবিবুল আহসান তালুকদার ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. জাহিদ নজরুল চৌধুরীকে বেশ কয়েকবার ফোন দিলেও তারা ফোন ধরেন নি।

জুন ০৯
০৫:৪৯ ২০২১

আরও খবর