Daily Sunshine

জয়পুরহাটে দিনদিন আগ্রাসী করোনা

Share

স্টাফ রিপোর্টার, জয়পুরহাট: ভারতীয় সীমান্তবর্তী জেলা জয়পুরহাটে দিন দিন করোনা রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ৭ দিনে করোনা রোগী পরীক্ষা বিবেচনায় সনাক্তের হার শতকরা ৩৮.০৫ ভাগ। এ অবস্থায় করোনা সংক্রমণ ঝুঁকি এড়াতে রাত ৮ টার পর জেলার সকল দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে জয়পুরহাট জেলা প্রশাসন। কঠোর লক ডাউনের চিন্তা করছে প্রশাসন। এখন করোনা রোগীর সংখ্যা ১৮৭৬ জন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০ কিলোমিটারের বেশী সীমান্ত এলাকায় বৈধ পথে ভারত হতে বাংলাদেশে যতজন প্রবেশ করছে তার চাইতে বেশীজন প্রবেশ করছে অবৈধভাবে। সীমান্তে বিজিবির নজরদারী থাকলেও প্রতিদিন ভারত ও বাংলাদেশের অনেকে এপার-ওপার হচ্ছে। অনেকে তাদের জমি চাষাবাদ করার জন্য পারাপার হচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় যাদের বাড়ী তারা চাষাবাদ কিংবা অন্য কারণে একে অপরের সংর্স্পশে আসছে। ফলে করোনার ভারতীয় ধরন যেকোন সময় জয়পুরহাট জেলাকে করোনা সংক্রমনে হটস্পটে পরিনত করতে পারে।
অপরদিকে করোনা টেস্ট করার জন্য ভীড় লেগই আছে কিন্তুু লোকবল কম থাকায় ধীরগতিতে টেস্ট চলছে। লোকবল বাড়ানো গেলে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে বলে জানান ল্যাব টেকনেশিয়ান।
জয়পুরহাট জেলা সিভিল সার্জন ডা ওয়াজেদ আলী জানান, গত ৮ দিনে জয়পুরহাট জেলায় ৫শ জন ব্যক্তিকে করোনা পরীক্ষা করা হয়। করোনা পজিটিভ করোনা সংক্রমণের হার শতকরা ৩৮ ভাগ। শনিবার জনের করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে। এক্ষেত্রে একদিনে করোনা শনাক্তের হার শতকরা প্রায় ৩৮ ভাগ। এপর্যন্ত জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ১২ জন। এরমধ্যে জয়পুরহাট সদরে ৭ জন, পাঁচবিবি ও কালাইয়ে ২ জন করে এবং ক্ষেতলালে ১ জন। জয়পুরহাট জেলা সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় করোনা সংক্রমণের ঝুকি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বৈধভাবে দিনাজপুরের হিলি সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে লোকজন পার হয়ে আসলেও অবৈধভাবে অনেকে সীমান্ত দিয়ে গোপনে জয়পুরহাটে প্রবেশ করতে পারে। এ ব্যাপারে প্রশাসনের বিশেষ সতর্কতা ও কঠোর নজরদারী প্রয়োজন বলে মনে করছেন জয়পুরহাট জেলাবাসী।
এদিকে করোনা সংক্রমনের হার আগের তুলনায় বৃদ্ধি পাওয়ায় সোমবার জয়পুরহাট জেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে জেলা করোনা সমন্বয় কমিটির এক সভা জেলা প্রশাসক শরীফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ঔষধ ও খাবারের দোকান ছাড়া জেলার সকল দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রাত ৮ টার পর বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
এব্যাপারে বিজিবি ১৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল নাদিম জানান, ১৪ ব্যাটালিয়নের অধীনে দিনাজপুর, জয়পুরহাট ও নওগাঁ জেলায় ভারতের সাথে ৮৭.০১ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে।
এরমধ্যে জয়পুরহাট জেলায় ভারতের সাথে ২০.৬ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। সীমান্তে ভারতীয় প্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির কড়া নজরদারি রয়েছে। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি সদস্যরা সার্বক্ষনিক কাজ করে যাচ্ছে।

জুন ০৮
০৬:৫৭ ২০২১

আরও খবর