Daily Sunshine

বাঘায় বর্জে বিপন্ন পরিবেশ

Share

নুরুজ্জামান, বাঘা: রবিবার ছিল বিশ্ব পরিবেশ দিবস। দিবসটি অনেকের কাছে কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ। যার আইন থাকলেও প্রয়োগ নেই বলে মন্তব্য করেন অনেকে। এর বাস্তব চিত্র দেখতে হলে চলে আসতে হবে রাজশাহীর বাঘা উপজেলা সদরে অবস্থিত প্রথম শ্রেণির বাঘা পৌর সভায় অবস্থিত বাঘা হাটের মাংস পট্টি এলাকায়।
সরেজমিন সোমবার সকালে মাংস কিনতে গিয়ে দেখা যাই, পশু জবাইয়ের জন্য যে টিনসেড ঘরটি রয়েছে তার পশ্চিম পাশ দিয়ে জমে আছে অসংখ্য বর্জ। অর্থাৎ গরু, মহিষ ও ছাগলের মলমুত্র।
এ ছাড়াও ঘরের মধ্যে রয়েছে সেঁত সেতে পানি। এতে করে ছড়াচ্ছে ব্যাপক দুরগন্ধ। আর সেই বর্জগুলো খাওয়ার চেষ্টা করছে কাক ও কুকুর। অপরদিকে বেড়েছে সরকারি ভাবে নিষিদ্ধ প্লাস্টিক (পলিথিন)এর পূর্ণ ব্যবহার। যা তৈরীর ক্ষেত্রে নেই এখন পর্যন্ত বিকল্প উদ্যোগ।
স্থানীয় লোকজন বলছেন, এমনি ভাবে বর্জ ব্যবস্থাপনার গলদ ও ব্যবসায়ীদের অসচেতনতা ভয়ংকর পরিনতির পথে এগোচ্ছে প্রাণ, প্রকৃতি ও পরিবেশ। ফলে চরম স্বাস্থ্য ঝুকিতে পড়ছে মানুষ।
বাঘা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে খ্যাদের মান এবং পরিবেশ দেখার জন্য একজন সেনেটারি (স্বাস্থ্য) কর্মকর্তা ও জেলায় ভোক্তা অধিকার আইন প্রয়োগকারি সংস্থা কাকলেও এদিকে তাদের কোন দৃষ্টি নেই। ফলে অন্য যে কোন উপজেলার চেয়ে এখানে মাংসের দামও লাগাহীন।
বাঘার সুধীজনরা বলছেন, বর্তমানে বিশ্যব্যাপী মহামারি করোনা প্ররিস্থিতিতে মানুষকে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতা মূলক করা হলেও পৌর এলাকায় বর্জ অপসারণের কোন ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত কারো নজরে পড়েনি। অথচ করের বোঝা দিন-দিন বেড়ে চলেছে। তারা এ সমস্যাগুলো প্রতিকারের জন্য অতিদ্রুত সংশ্লিষ্ঠ দপ্তরের সুদৃষ্টি কামনা করেন।
বাঘা বাজার বনিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন বলেন, বাঘার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিতি ঐতিহ্যবাহী এ হাট থেকে পৌর কর্তৃপক্ষ প্রতিবছর ইজারা বাববদ অর্থ পেয়ে থাকেন ৬০ থেকে ৭০ লক্ষ টাকা। অথচ এ হাটের তেমন কোন উন্নয়ন নেই। নেই মান সম্মত গণসোচাগার।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার সর্তে একজন পৌর কাউন্সিলর বলেন, গত চারবছর পূর্বে বাঘা হাটের সরকারি জমির উপর ভুমি অফিসের অনুমোদন ছাড়া পৌর কর্তৃপক্ষ একটি মার্কেট নির্মাণ করেন। সেই মার্কেটের আয়-ব্যায়ের হিসাবে কোন কাউন্সিলর রাখেন না। উপরন্ত মার্কেটের ঘর বাবদ সিকুরিটির সমুদ্বয় টাকা এখন পর্যন্ত পৌর সভার ব্যাংক একাউন্টে জমা হয়নি। যা তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে।
এ প্রসঙ্গে বাঘা মোজাহার হোসেন মহিলা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ ও আ’লীগ নেতা নছিম উদ্দিন এবং বাঘার বিশিষ্ট সমাজ সেবক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান খন্দকার মনোয়ারুল ইসলাম মামন সহ অনেকেই বলেন, বিশ্ব পরিবেশ দিবস বলতে যা বোঝায় তার নুন্যতম ছোঁয়া নেই প্রথম শ্রেণির বাঘা পৌর সভায়। এখানে সপ্তায় দু’দিন রবি ও বৃহস্পতিবার যখন হাট বসে, তখন মাজার এলাকাসহ রাস্তা দখল করে বসে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরা। এর ফলে মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হতে হয় যান-চালকসহ পথচারিদের।
সার্বিক বিষয়ে বাঘা পৌর মেয়র আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমরা অতি সম্প্রতি পৌর এলাকার প্রতিটা মোড়ে মোড় বর্জ ফেলার জন্য বস্ক দিবো। বর্তমানে বাঘার হাটের যে স্থানে পশু জবাই এবং মাংস বিক্রী হচ্ছে তার স্থান পরিবর্তন করবো।
ইতোমধ্যে পার্শ্ববর্তী নারায়নপুর বাজারে অনেক বড় টিন সেড ঘর তুলেছি। আগামীতে ব্যবসায়ীদের (কসাই) সেখানে গিয়ে পশু জবাই এবং মাংস বিক্রী করতে হবে। এতে করে হাটের দিন ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে যে চাপ তথা জায়গা সল্পতা সেটিও কমে আসবে।

জুন ০৮
০৬:৫৫ ২০২১

আরও খবর