Daily Sunshine

গোদাগাড়ীতে রমরমা মাদক ব্যবসা

Share

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ফুলতলা ভাটুপাড়া ও কদম হাজীরমোড় এলাকায় রাতদিন চলছে রমরমে মাদক ব্যবসা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রেমতলী পুলিশ ফাঁড়ি এলাকায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মাদক ব্যবসায়ীরা। একাধিক মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা ও ওয়ারেন্ট থাকার পরেও কি এক অদৃশ্য কারনে তাদেরকে গ্রেপ্তার করতে পারছে না প্রশাসন। সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে মাদক ব্যবসায়ীদের তৎপরতা। সম্প্রতি গোদাগাড়ী ফুলতলা এলাকার মাদক সম্রাট তরিকুলের প্রকাশ্যে ফেনসিডিল বিক্রির ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে তরিকুল ও তার তিন-চারজন সহযোগীকে ফেনসিডিল বিক্রি করছে দেখা যাচ্ছে। এলাকাবাসী অভিযোগ করে জানান, তরিকুলের বিরুদ্ধে মাদক মামলার একটি ওয়ারেন্ট রয়েছে। যে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা প্রেমতলী পুলিশ ফাঁড়ির দেলোয়ার হোসেন। তারপরেও তরিকুল প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাকে কেন গ্রেপ্তার করতে পারে না পুলিশ? এমন প্রশ্ন তাদের।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গোদাগাড়ী ফুলতলা ঘাট এলাকার শীর্ষ মাদক সম্রাট মো. তরিকুল ইসলাম (৩২)। ফুলতলা কদম হাজিরমোড় এলাকার মৃত বাবলু ইসলামের ছেলে সে। শুধু তরিকুল নয়, ওই এলাকার প্রিন্স ও শুভ নামের দুই মাদক ব্যবসায়ী পুলিশের সোর্স পরিচয় দিয়ে এলাকায় মাদকের রমরমে ব্যবসা করে যাচ্ছেন। অবশ্য কিছুদিন আগে শুভকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে এদের মধ্যে মাদক ব্যবসায় শীর্ষে রয়েছেন তরিকুল ইসলাম। তিনি ওই এলাকার মাদক সম্রাট হিসেবে পরিচিত। অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, মাদক সম্রাট তরিকুল ফুলতলা ঘাট দিয়ে ভারত থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার পিস ফেনসিডিল পাচার করেন। এরপর এলাকার একটি ভাটার চারপাশে, বাড়িতে ও আরও অনেক জায়গায় সেগুলো লুকিয়ে রাখেন। সেই মাদক বিভিন্নস্থানে পৌঁছে দিতে ও বিক্রি করার জন্য প্রায় ১০ জন মানুষ কাজ করেন।
আরো জানা গেছে, তরিকুল ওই এলাকায় মাদকের সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। সম্প্রতি ভারতে করোনা সংক্রমণ অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় কমে যায় মাদক আমদানি। ওই এলাকায় ফেনসিডিলের সঙ্কট দেখা দিলে তরিকুল বেশি দামে সেগুলো সরবরাহ করে অনেক টাকার মালিক হয়েছেন। এক পিস ফেনসিডিল ২ হাজার ২০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে বিক্রি করেছেন বলে জানা গেছে। এতে করে তিনি বিপুল অবৈধ অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছেন।
এলাকাবাসীর কাছে জানা যায়, গোদাগাড়ীর ফুলতলাঘাট এলাকার ফেনসিডিলের একমাত্র ডিলার হিসাবে পরিচিত এই তরিকুল। তার সাথে রয়েছেন ওই এলাকার প্রিন্স, আশিক, শুভ, মাদ্রাসার মোড় এলাকার কাঁনাইয়ের ছেলে বাবুসহ শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী। তারা মাদক ব্যবসার জন্য বিশাল একটা সিন্ডিকেট গড়ে তুলছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, অসংখ্য অভিযোগ থাকার পরেও তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়। মাদক বেচাকেনাও চালিয়ে যাচ্ছে। একাধিক মাদক মামলাও রয়েছে তাদের নামে। তারপরেও অদৃশ্য কারনে মাদক সম্রাট তরিকুলসহ অন্যদের গ্রেপ্তার করতে পারেনা পুলিশ। এ বিষষে জানতে তরিকুল ইসলামের মুঠোফোনে ০১৭৯০৪২৪৭৫০ নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মাদক বিক্রির ভিডিও বিষয়ে যে বলছেন, যারা মাদক সেবন করেছে তারাই ভিডিও করেছে। পুলিশ, ডিবি, র‌্যাব, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সবাই তরিকুলের কাছে হাজিরা দেয়।
এ বিষয় গোদাগাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খলিলুর রহমান বলেন, তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট রয়েছে কিনা জানা নেই। ওয়ারেন্ট থাকলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশের মুখপাত্র এআইজি সোহেল রানার সঙ্গে হোয়াটসএ্যাপে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি জানাচ্ছি।

জুন ০৮
০৬:৫১ ২০২১

আরও খবর