Daily Sunshine

পশ্চিমবঙ্গে করোনা সংক্রমণ কমছে

Share

সানশাইন ডেস্ক: ভারতের পশ্চিমবঙ্গে করোনা সংক্রমণ কমতে শুরু করেছে। ১৭ দিনের মাথায় এই রাজ্যে দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা কমে অর্ধেক হয়েছে। ক্রমে ফাঁকা হচ্ছে কলকাতার সেফ হোমগুলো। অন্যদিকে সরকারি হাসপাতালেও এখন পাওয়া যাচ্ছে করোনা রোগীর বেড। ফলে এই রাজ্যের বাসিন্দাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরছে।
সোমবার রাতে রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর বুলেটিনে জানিয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় এই রাজ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১০ হাজার ১৩৭ জনের। মাত্র ১৭ দিন আগে ১৪ মে এই সংখ্যা ছিল ২০ হাজার ৮৪৬। একই সঙ্গে মৃত্যুও কিছুটা কমেছে। গত রোববার থেকে গতকাল মৃত্যুর সংখ্যা ১১ জন কমে হয়েছে ১৩১।
এই খবরে এখন রাজ্যের হাসপাতালগুলোতে স্বস্তির হাওয়া বইতে শুরু করেছে। তবে করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের আতঙ্কে আগাম প্রস্তুতিও শুরু করছে তারা। এক মাস আগে এই রাজ্যে নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় পজিটিভ রোগীর হার ছিল ৪০ শতাংশের বেশি, এখন তা নেমে দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৫ শতাংশে।
রাজ্যের প্রধান স্বাস্থ্য অধিকর্তা অজয় চক্রবর্তী গতকাল বলেছেন, রাজ্যে করোনা নিয়ে বিধিনিষেধ আরোপ হওয়ায় এবং করোনার নমুনা পরীক্ষা বেড়ে যাওয়ায় সংক্রমণ কমেছে। তিনি বলেছেন, এখন এই রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালে করোনা রোগীর বেড পেতে অসুবিধা হচ্ছে না। সব হাসপাতালেই কমবেশি করোনা বেড মিলছে।
অজয় চক্রবর্তী জানান, করোনা মোকাবিলায় মৃদু উপসর্গযুক্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য কলকাতা শহরে তিনটি বড় ধরনের সেফ হোম গড়া হয়েছিল। এর মধ্যে দুটি সেফ হোম হলো বাইপাসের পাশে ‘প্রতিদিন ভবন’ আর ‘উত্তীর্ণ ভবন’। এর মধ্যে প্রতিদিন ভবনে বেডের সংখ্যা আছে ২০০। গত ২৯ এপ্রিল সেখানে মাত্র ১০টি বেড ফাঁকা থাকলেও গতকাল সেখানে ফাঁকা ছিল ১৩৪টি বেড। পাশাপাশি উত্তীর্ণ সেফ হোমে ৫০০টি বেড থাকলেও এখন এই বেডের মধ্যে মাত্র ৪৯টিতে রোগী আছেন। বাকি ৪৫১টি বেড ফাঁকা।
একইভাবে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে ৪৩৩টি করোনা বেড। ২৯ এপ্রিল এই বেডের মধ্যে ১৫টি ফাঁকা থাকলেও গতকাল সেখানে ১৩৭টি বেড ফাঁকা ছিল। বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে ৩১৫টি বেডের মধ্যে ১৩০টি ফাঁকা। অন্যদিকে কলকাতার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২১৬টি বেডের মধ্যে গতকাল ১৪৬ বেড ফাঁকা ছিল। আর কলকাতার শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালের ২০০টি বেডের মধ্যে গতকাল ফাঁকা ছিল ৬১টি বেড। এভাবে এখন বিভিন্ন হাসপাতালে মিলছে করোনা বেড।
রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর বলেছে, রাজ্যে করোনার জন্য বিধিনিষেধ আরোপ করায় কমছে সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা। এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকছে ১৫ জুন পর্যন্ত। ফলে ওই সময়ের মধ্যে এই রাজ্যে করোনায় সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা আরও কমবে। ১৫ জুনের মধ্যে এসব বেডের ৮০ শতাংশ ফাঁকা হয়ে যেতে পারে।
তবে চিকিৎসকেরা এ কথাও বলছেন, রোগীর সংখ্যা কমে গেলেও এই মুহূর্তে হাসপাতাল বা সেফ হোমের করোনা বেডের সংখ্যা কমানো উচিত হবে না। কারণ, এরপর করোনার তৃতীয় ঢেউ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই রাজ্য প্রশাসনের উচিত হবে তৃতীয় ঢেউ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি রাখা।
স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে গতকাল রাতে প্রকাশিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে বলা হয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় কলকাতাসহ এই রাজ্যে করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ১০ হাজার ১৩৭ জন। আর মারা গেছেন ১৩১ জন। এর মধ্যে কলকাতায় সংক্রমিত হয়েছেন ১ হাজার ৩২৪ জন, আর মারা গেছেন ২৮ জন। আর গত ২৪ ঘণ্টায় করোনামুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৭ হাজার ৮৫৬ জন।
সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত কলকাতাসহ এই রাজ্যে করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ১৩ লাখ ৭৬ হাজার ৩৭৭ জন। আর মারা গেছেন ১৫ হাজার ৫৪১ জন। এখন এই রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৮৭ হাজার ৪৮ জন। আর করোনা থেকে এখন পর্যন্ত মুক্ত হয়েছেন ১২ লাখ ৭৩ হাজার ৭৮৮ জন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় এই রাজ্যে করোনার নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৫৮ হাজার ৮৪৩ জন। এখন পর্যন্ত সব মিলিয়ে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১ কোটি ২৪ লাখ ২০ হাজার ৯৭৭ জনের।

জুন ০২
০৬:০২ ২০২১

আরও খবর