Daily Sunshine

কাজ না পেয়ে ভিক্ষাই পুঁজি সার্কাস কর্মী আছাদের

Share

আবু সাঈদ রনি : চার ফুট এক ইঞ্চি উচ্চতার আছাদ প্রামানিক (৪৬)। পেশায় সার্কাসের জোকার। দেড় বছর আগেও নানা অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে বিনোদনের খোরাক যুগিয়েছেন দর্শনার্থীদের। করোনা পরিস্থিতিতে সার্কাস বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েন তিনি। মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও পান নি কাজের সন্ধান। কর্মের খোঁজে সম্প্রতি পাবনা থেকে রাজশাহী এসেছেন তিনি।
সোমবার রাতে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের সামনে শুয়ে ছিলেন তিনি। প্রতিবেদককে দেখে উঠে বসলেন তিনি। কিছুক্ষণের আলাপচারিতায় জানা গেল নানা তথ্য।
পাবনার সাথিয়া উপজেলার শিবপরের মনছেন প্রামাণিকের ছেলে আছাদ। জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী তিনি। উচ্চতায় ছোট হওয়ায় সার্কাসে কাজ করতেন তিনি। সে আয় দিয়েই কোন রকম চলতো ৪ জনের ছোট্ট সংসার। কোভিড-১৯ প্রকোপের কারণে সব রকমের মেলা ও সার্কাস বন্ধ রয়েছে দীর্ঘ দিন। অন্যদের মতো কর্মহীন হয়ে পড়েছেন তিনিও। ফলে দীর্ঘ দিন কর্মহীন থাকায় কাজের সন্ধ্যানে রাজশাহী আসতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। ভাগ্যের নির্মমতায় ৫ দিনেও সন্ধান পান নি কোনো কাজের। নিরূপায় হয়ে ভিক্ষা করে জোগাচ্ছেন পেটের খাবার।
এসময় আবেগাপ্লুত কন্ঠে আছাদ বলেন, সার্কাস জগতে বড় বড় সার্কাস মারছি। টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া, বিশেষ করে রাজশাহী-রংপুর বিভাগের মধ্যে এককালে নাম ডাক ছিল। এখন আর নাই। করোনার জন্য সার্কাস বন্ধ, আমরা কি করে খাবো এখন?
তিনি আরো বলেন, দেশের বাড়ি পাবনা আতাইকুলা। রাজশাহীতে আসছি কর্ম করে খেতে। বেতন কয় ১শ টাকা, খাবার হোটেলের কাজ। এক বেলা খাইতে দিতে চায়। আমরা কি করে খাবো। দুপুরে খাবার আছে তো রাতে নাই, সকালে কি খাবো? বাধ্য হয়ে মানুষের কাছে দুই এক টাকা ভিক্ষা নিয়ে খাচ্ছি। এছাড়া তো উপায় নাই। আমি কি করে খাবো? বাপ নাই, মা ডা আছে, তারে খাওন লাগবি না। একটা মাত্র মেয়ে ছিল তারও বিয়ে দিছি। বউ আছে, ছেলে আছে, আমি কি করে খাবো এই ছোট মানুষ?
শুধু আছাদই নয়, করোনা মহামারির প্রভাবে সার্কাস বন্ধ থাকায় দেশের সর্বত্র এ পেশায় জড়িতরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন বাধ্য হয়ে। বিশেষ করে সার্কাসের জোকাররা উচ্চতায় ছোট হওয়ায় কাজ না পেয়ে বেছে নিয়েছেন ভিক্ষাবৃত্তির পথ। সরকারি সহায়তার আশা ছেড়ে দিয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রামে শুদ্ধ এক সকালের দিন গুনছেন তারা।

জুন ০২
০৫:৫০ ২০২১

আরও খবর