Daily Sunshine

নওগাঁয় উত্তর-দক্ষিণে বিভক্ত হচ্ছে নেসকোর বিদ্যুতজোন

Share

নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাচ্ছে নর্দান ইলেক্টিসিটি সাপ্লাই কোম্পানী লিমিটেড (নেসকো)। এ সুবিধার আওতায় আগের বিতরণ ব্যবস্থাকে ভেঙ্গে নেসকো (উত্তর) ও নেসকো (দক্ষিণ) করা হয়েছে। নেসকো (উত্তর) অফিস থাকছে পুরাতন কার্যালয়ে। নেসকো (দক্ষিণ) এর ১০ মেগাওয়াট নতুন বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে শহর থেকে কিছুটা দূরে নওগাঁ সদর উপজেলার আরজী নওগাঁর চকপ্রসাদে।
সুত্র জানায়, এ উপকেন্দ্রটি ১০ মেগাওয়াট আপাতত থাকলেও উপকেন্দ্রটিতে ২০ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোড দেয়ার সুবিধা থাকছে। অফিসটির নাম দেয়া হয়েছে নেসকো বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ নওগাঁ (দক্ষিণ)।
উপকেন্দ্রটি এখন নির্মাণের শেষ পর্যায়ে। বর্তমানে কোভিডের কারণে থেমে আছে নির্মাণ শেষ পর্যায়ের কাজ। তবে আগামী ২১ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হবে অথবা তার আগেও হতে পারে বলে জানান প্রজেক্ট কর্তৃপক্ষ। উপকেন্দ্রটির নির্মাণ কাজ করছে চীনের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান হুয়াই ইন্টারন্যাশনাল।
সূত্র আরো জানায়, বর্তমানে নওগাঁস্থ ১৩২ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে নেসকো ১১টি ফিডারে বিভক্ত করে জেলায় বিদ্যুৎ বিতরণ ও সরবরাহ করছে। ফলে সামান্য ত্রুটিতে সব এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে না। ত্রুটি যে ফিডারে শুধু সেই ফিডারে সরবরাহ বন্ধ রেখে ত্রুটিমুক্ত করা হচ্ছে। এতে অনেকটাই কমে এসেছে বিদ্যুৎ গ্রহকদের ভোগান্তি। একে আরো আধুনিকায়ন করার জন্য নেসকো (উত্তর) ও নেসকো (দক্ষিণ) করা হয়েছে।
ইতোমধ্যে নতুন একজন নির্বাহী প্রকৌশলীকে নেসকো (দক্ষিণ) এর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। নেসকো আগে যে অবস্থায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চলছিল তাতে অনেক ওভারলোডেট হয়ে ছিল। দিন দিন গ্রাহক বাড়ছে নতুন নতুন কলকারখানা হচ্ছে। বিদ্যুতের চাহিদাও বাড়ছে। এ অবস্থায় নতুন উপকেন্দ্র চালু হলে ভোল্টেজ সমস্য থাকবে না ও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থায়িত্ব হবে।
এদিকে নেসকোর একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জানান, বর্তমানে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় অনেক নতুন স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি সংযোজন হয়েছে। এখন সরবরাহে তৎক্ষণাত কোন ত্রুটি দেখা দিলে ওই এলাকায় তখন স্বয়ংক্রিয় ভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। সাধারনত গাছ-পালার ডাল বা অন্য কিছু সরবরাহকৃত বিদ্যুৎ লাইনে এসে পড়লে এলাকাবাসী বা গ্রাহক তা জানতে পারলে নেসকো অফিসকে অবহিত করলে তড়িৎ ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হবে।
পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম ডেভেলোপমেন্ট প্রজেক্ট রাজশাহী জোন (বিউবো) রাজশাহীর নিবার্হী প্রকেীশলী নিজামুল হক সরকার জানান, উপকেন্দ্রটি নির্মাণের মাঝ পথে কোভিডের কারণে চীনের টিকাদারী প্রতিষ্ঠান হুয়াই ইন্টারন্যাশনাল তাদের কাজ আবাতত বন্ধ রেখেছে।
তবে আগামী ২১ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হবে। এর আগেও শেষ হওয়ার আশা আছে। উপকেন্দ্রটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৭ সালে। বিদ্যুৎ চাহিদা বাড়ায় আগের ব্যবস্থায় দিন দিন ওভারলোডেট হয়ে যাচ্ছিল। এ প্রজেক্টের কারণে সমস্যা সমাধান হবে। বিদ্যুৎ সরবরাহে স্থায়িত্বও থাকবে।

জুন ০২
০৫:৪৭ ২০২১

আরও খবর