Daily Sunshine

চাপ বাড়ছে করোনা রোগির: রামেক হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট

Share

রাজু আহমেদ : রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে প্রতিদিন করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আশপাশের জেলার হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ সহ অক্সিজেনের ব্যবস্থা না থাকায় ওইসব জেলার করোনা আক্রান্ত রোগী সহ উপসর্গ দেখা দেয়া রোগীরা উন্নত চিকিৎসার আশায় ছুটে আসছে রামেক হাসপাতালে। এসব রোগীদের সামাল দিতে অন্যান্য রোগে আক্রান্ত রোগীদের সরিয়ে ওয়ার্ডগুলোতে করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য বেডের ব্যবস্থা করে দিতে বাধ্য হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এতে করে হাসপাতালটিতে অন্যান্য রোগের চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। এদিকে এক হাসপাতালেই করোনা রোগীসহ সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে গিয়ে নতুন করে চিকিৎসক সংকট দেখা দিয়েছে হাসপাতালটিতে।
করোনা পরিস্থিতির মধ্যে বারবার রাজশাহীর সদক হাসপাতাল চালুর দাবি জানানো হলেও, দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকায় এই হাসপাতালটির অবকাঠামো সংস্কার করে চালু করতে প্রচুর অর্থের পাশাপাশি অন্তত দুই মাস সময়ের প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। হাসপাতালটি চালু করতে এরই মধ্যে গণপূর্ত অধিদপ্তরের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে।
রামেক হাসপাতালে দেয়া তথ্যমতে, শুরুর দিকে রামেক হাসপাতালে ৫০ টি বেড করোনা আক্রান্ত রোগীদের জন্য প্রস্তুত রাখা হলেও, এখন সেই বেডের সংখ্যা বৃদ্ধি করে সেখানে ২৬৪ টিতে উন্নীত করা হয়েছে। প্রতিদিনই বৃদ্ধি পাচ্ছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা, সেই সাথে বৃদ্ধি করা হচ্ছে বেডের সংখ্যা। সোমবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে ৮৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২১ জনের নমুনায় করোনা ধরা পড়েছে। একই দিন রাজশাহী মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে ৩৭১ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১৭২ জনের নমুনায় করোনা ধরা পড়েছে। যার মধ্যে রাজশাহীর ১১৩ জন, নওগাঁর ৫৯ জন।
সোমবার হাসপাতালটিতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনজন। করোনা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন আছে ২০৫ জন, যাদের মধ্যে ৮৩ জন করোনায় আক্রান্ত । ৯১ দিনে ২২২জনের মৃত্যুহয়েছে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উপপরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, সাধারণ সময়ে ১ হাজার ২৫০ বেডের এই হাসপাতালে দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার রোগী চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। তবে করোনার কারণে এখন গড়ে ১২শ থেকে ১৩শ রোগীকে চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। খুব গুরুতর রোগী না হলে তাদের প্রথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। রোগীদের স্বার্থেই এমনটা করা হচ্ছে। তিনি আরো জানান, করোনা রোগীদের পৃথক ভাবে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। সাধারণ রোগীদের পাশাপাশি করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে হাসপাতালে প্রথমিক ভাবে চিকিৎসক সংকট দেখা দিয়েছে। এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট বিভাগকে জানানো হয়েছে। তবে কোন রোগীকে চিকিৎসা না দিয়ে ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে না।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. নওশাদ আলী বলেন, রামেক হাসপাতালে সাধারণ রোগীদের সরিয়ে করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিতে বাধ্য হচ্ছে কর্তৃপক্ষ। অক্সিজেন ও আইসিইউ সুবিধা থাকায় রামেক হাসপাতালে রাজশাহীর বাইরের জেলার রোগীরাও ভিড় করছে। উপসর্গ দেখা দিলেই ভয়ে রোগীরা আগেভাগেই হাসপাতালে এসে ভর্তি হচ্ছে।
ডা. নওশাদ আলী আরও বলেন, রাজশাহী সদর হাসপাতাল চালু করার বিষয়ে শুরু থেকেই বলা হচ্ছে। এতে করে রামেক হাসপাতালে রোগীর চাপ কমবে। তবে এই মুহুর্তে সদর হাসপাতাল চালু করা সম্ভব না। করোনা ইউনিট চালু করতে গেলে সেখানে নতুন করে অক্সিজেন প্লান্ট বসানোর বিষয় রয়েছে। আবার দীর্ঘ দিন সদর হাসপাতাল বন্ধ থাকার ফলে এর অবকাঠামো নতুন করে সংস্কার করার প্রয়োজন আছে। আমরা সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করেছি। এটি চালু করতে অর্থ ও সময় দুটোরই প্রয়োজন। আমরা এরই মধ্যে গণপূর্ত অধিদপ্তরের সাথে কথা বলেছি। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করতে তারা কাজ করবে।

জুন ০১
০৫:৪০ ২০২১

আরও খবর