Daily Sunshine

নিয়ামতপুরে করোনার সংক্রমণ নিয়ে আশঙ্কা

Share

নিয়ামতপুর প্রতিনিধি: নওগাঁর নিয়ামতপুরে ঈদুল ফিতরের পর থেকে করোনা সংক্রমণের হার বেড়ে চলেছে। গত ৫ দিনে নওগাঁর নিয়ামতপুরে করোনা শনাক্তের হার ৩৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। গত ২৭ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত চারদিনে ১৩৬টি নমুনা পরীক্ষায় ২৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। অর্থাৎ পাঁচদিনে করোনা শনাক্তের হার ৩৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
করোনা সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ায় নিয়ামতপুর উপজেলার গ্রামীণ হাটগুলো ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে বন্ধ করা হয়েছে। তবে সোমবার দুপুর পর্যন্ত এ সম্পর্কে এখন পর্যন্ত বিশেষ লকডাউনের কোনো নির্দেশনা পাননি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, নিয়ামতপুরে গত বছরের ১৩ মে থেকে গত ৩১ মে পর্যন্ত ১ হাজার ৬২ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১৩৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ হিসাবে এ উপজেলায় এ পর্যন্ত সংক্রমণের হার ১২ দশমিক ৬২ শতাংশ। তবে পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর থেকে নওগাঁর নিয়ামতপুরে করোনা সংক্রমণের হার বেড়ে চলেছে।
সবশেষ পাঁচদিনে (গত বৃহস্পতিবার থেকে সোমবার) ১৩৬টি নমুনা পরীক্ষায় ২৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ হিসাবে পাঁচদিনে করোনা শনাক্তের হার ৩৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। এ পর্যন্ত নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১ হাজার ৬২ জনের, করোনা সনাক্ত হয়েছে ১৩৪ জনের, সুস্থ হয়েছে ৯০ জন, মৃত্যু ১ জন। বর্তমানে উপজেলায় করোনা সনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৪৪। এর মধ্যে শ্রীমন্তপুর ইউনিয়নের শ্রীমন্তপুর মধ্যপাড়ায় করোনা সনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১১ জন। আইসোলিশনে রয়েছে ২ জন, হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ৬ জন।
উপজেলায় করোনা টিকার জন্য এ পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশন করেছেন ৯ হাজার ১২২ জন, প্রথম ডোজ টিকা গ্রহন করেছেন ৭ হাজার ৭২০ জন, দ্বিতীয় ডোজ টিকা নিয়েছেন ৫ হাজার ৩৭২জন। টিকা এসেছিলো ১ম দফায় ৮০২ ভায়াল অর্থাৎ ৮ হাজার ২০ ডোজ, দ্বিতীয় দফায় ৫৭৮ ভায়াল অর্থাৎ ৫ হাজার ৭৮০ ডোজ।
নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘নিয়ামতপুরে ঈদুল ফিতরের পর সংক্রমণ বেড়ে গেছে। এরমধ্যে করোনা শনাক্তের হার প্রতিদিনই বাড়ছে। এটা বেশ উদ্বেগের। এ অবস্থায় আমরা অ্যান্টিজেন পরীক্ষার ওপর বেশি জোর দিচ্ছে। মানুষকে মাস্ক ব্যবহার ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসনের উদ্যোগে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।’
নিয়ামতপুরে বিশেষ লকডাউন ঘোষণার বিষয়ে নির্দেশনা এসেছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা পাইনি। তবে সংক্রমণের হার যেভাবে বাড়ছে, তাতে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ লকডাউনের পক্ষে। শ্রীমন্তপুর ইউনিয়নের শ্রীমন্তপুর মধ্যপাড়ায় করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সেখানে লকডাউন দেওয়া আছে। নির্দেশনা আসলে প্রশাসনের সঙ্গে লকডাউন কার্যকরে আমরা সচেষ্ট থাকবো।’

জুন ০১
০৫:৩৫ ২০২১

আরও খবর