Daily Sunshine

কেমিকোয় বকেয়া নিয়ে শ্রমিক অসন্তোষ

Share

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী নগরীর সাগরপাড়াস্থ কেমিকো ফার্মাসিউটিক্যাল নামক ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে বকেয়া বেতন, ওভারটাইম ও অন্যান্য ভাতাদি নিয়ে আবারো শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। গত ১২ এপ্রিল বকেয়ো বেতন ও ঈদ বোনাসের পাওনা নিয়ে সেখানে কর্মরতরা আন্দোলনে নামে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত দেখে ওইসময় কোম্পানি কর্তৃপক্ষ প্রশাসনের সহোযোগিতায় পরিস্থিতি অনুকুলে আনেন। ৩০ মে সকলের সমুদয় পাওনা টাকা দেবার আশাবাদ ব্যক্ত করে বোয়ালিয়া থানা কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত প্রতিশ্রুতি দিলে আন্দোলনরত শ্রমিকেরা চলমান আন্দোলন থেকে সড়ে আসে। কর্তৃপক্ষের দেয়া প্রতিশ্রুতির উপর নির্ভর করে তারা আবারো কাজে যোগদান করেন বলে জানান কর্মরত শ্রমিকেরা। প্রতিশ্রুতিনুযায়ী গেলমাসের ৩০ তারিখে ঈদ বোনাস ও অন্যান্য বকেয়া শ্রমিকদেরকে দেবার কথা থাকলেও তার কয়েকদিন আগে থেকে কোম্পানির দায়িত্বরতরা বলে বেড়াচ্ছিলেন বকেয়ার কোন অর্থ কাউকে দেয়া হবেনা। যার কারণে সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণে শ্রমিকেরা সকাল থেকে কারখানার সামনে আবারো আন্দোলনে নামেন। আবারো পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে প্রশাসন এসে পরিস্থিতি অনুকূলে আনেন। শ্রমিকদের দাবি দাওয়া আর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত করার লক্ষে বকেয়া পাওনার আংশিক দিয়ে শ্রমিকদেরকে শান্ত করা হয় বলে জানান আন্দোলনরত একাধিক শ্রমিক। কিন্তু, ২০১৭ সাল থেকে চলতি বছরের সর্বমোট পাঁচ বছর সময়কালের ওভার টাইমসহ অন্যান্য বকেয়ার টাকা পরিপূর্ণ পরিশোধ না করায় শ্রমিকদের মধ্যে এখানো অসন্তোষ বিরাজ করছে। উপরন্তু, যে সকল স্থায়ী কর্মচারি আজ থেকে পাঁচ বছর পূর্বে অবসর গ্রহণ করেছে তাদের এককালিন পাওনা প্রোভিডেন্ট ফান্ডের টাকাও দিচ্ছে না কোম্পানী কর্তৃপক্ষ বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
কেমিকো প্রায় দুইযুগের বেশি সময় ধরে কাজ করার পর অবসরে গিয়েছেন সিকিউরিটিগার্ড মোহাম্মদ বাদশা। তিনি অভিযোগ করে বলেন, অবসরে যাওয়া অন্যান্য কর্মচারির ন্যায় কর্তৃপক্ষ আমার প্রোভিডেন্ড ফান্ডের টাকাও দিতে গড়িমসি করছে বছরের পর বছর ধরে। এছাড়াও একই অবস্থা অবসরে যাওয়া সিকিউরিটি গার্ড জালাল ও সাইদুল ইসলামের। এছাড়াও কোম্পানীতে জৈষ্ঠ্য উৎপাদন সহকারি দেলোয়ারা বেগম পাখি নিজের কর্মস্থল থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন ২০১৭ সালে। কিন্তু তিনিও পাননি নিজের প্রভিডেন্ড ফান্ডের টাকা। ভুক্তভোগীরা জানান, কর্তৃপক্ষের কাছে নিজের পাওনার অর্থ চাইতে গেলে তাঁরা নানারকম টালবাহানা করে বছরের পর বছর সময়ক্ষেপন করেন।
কোম্পানীর ফ্যাক্টরী ম্যানেজার জাকির হোসেনের কাছে বিষয়টি জানতে চাওয়ার জন্য দেখা করতে চাইলে তিনি দেখা না করে প্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটকের ভেতরে থাকা ইন্টারকমের মাধ্যমে ফোনালাপে বলেন, আমি এই বিষয়ে কোন কিছুই বলতে পারবো না। তিনি কোম্পানীর রাজশাহীস্থ ইনচার্জ আব্দুল হামিদের সাথে এবিষয়ে কথা বলতে বলেন। কিন্তু আব্দুল হামিদও জাকিরের ন্যায় পত্রিকার প্রতিনিধির সাথে দেখা করতে চাননি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দৈনিক ভিত্তিতে কর্মরতরা বলেন, উচ্চমূল্যের এই বাজারে প্রাত্যহিক ১২০ থেকে একশ ৩০ টাকার বিনিময়ে আট ঘন্টা কাজ করা অনেকটাই কষ্টকর। কিন্তু তবুও অভাবের সংসারে বাধ্য হয়ে কাজ করতে হচ্ছে বছরের পর বছর ধরে। আবার অন্যরা বলেন, এখানে কর্মের কোন মূল্য নেই। ম্যানেজার জাকির ও নাসিরের চোঁখে যাদেরকে ভাল লাগে তারা বেশি বেতন ও মজুরিতে কাজ করছেন। আর যারা তাদের কাছে ভাল না তারা অতিরিক্ত কাজ করেও পাচ্ছেনা অর্থ। আবার কেউ কেউ অভিযোগ করে বলেন, শ্রম অফিস ও অডিটের কাছে বেতনের যে তালিকা দেওয়া হয় সেখানে আমাদের বেতনের মার্জিন কয়েকগুণ বৃদ্ধি করে দেখানো হয় বলেও আমরা শুনেছি। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আমরা নামমাত্র বেতনে কাজ করছি বছরের পর বছর ধরে।
বিগত প্রায় পাঁচ বছরের ওভারটাইমের পাওনার টাকা চাইতে গেলে ম্যানেজার জাকির আমাদের চাকুরিচুত্য করার পাশাপাশি মিথ্যা মামলা দেবারও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলে অভিযোগ অনেকের। নিজেদের প্রাপ্য পাওনার অর্থ ফিরে পেতে ভুক্তভোগী শ্রমিকেরা নগর পিতা ও রাসিক মেয়রসহ প্রশাসনের হর্তকর্তাদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন।

জুন ০১
০৫:৩৩ ২০২১

আরও খবর