Daily Sunshine

আমচাষীর স্বপ্ন ভাঙলো করোনা

Share

এ কে এস রোকন, শিবগঞ্জ: ৪ শ মণ আম কি করব। আম পাকার সময় হয়ে গেল, কিন্তু লকডাউনের ভয়ে পাড়তে পারছি না। এক ভ্যান পেড়ে আনলাম বাজারে কিন্তু ৫ ঘণ্টা পর কম দামে বেচে দিলাম। এভাবেই গণমাধ্যম কর্মী পরিচয় পাবার পর আক্ষেপ করে বলছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের আমচাষী আমিনুল ইসলাম।
শুক্রবার দুপুরে কানসাট আমবাজারে তিনি ২ হাজার টাকা কেজির আম ১৬শ টাকা মণ দরে বিক্রির পর এসব বলছিলেন। শুধু তাই নয় একই এলাকার আম ব্যবসায়ী বেনাউল ইসলাম বেনুও ক্ষোভের সাথে জানান, আমরা জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় বিশেষ লকডাউন মেনে নিয়েছি। কিন্তু প্রশাসন তো শহরে লকডাউন পালন করছে। গ্রামে ও সীমান্তে পালন করতে ব্যর্থ হচ্ছে। গ্রামের মোড়গুলোতে মাক্স বিহীন আড্ডা চলছে। যদি এ অবস্থা চলে লকডাউন সফল না হয় তবে আম ছালা ২ টোয় যাবে। একদিকে সংক্রমণ আরো বেড়ে যাবে, অন্যদিকে আমের বাজার হারাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ। এতে করে হাজার কোটি টাকার ব্যবসা চলে যাবে নওগা ও রাজশাহীতে। পঙ্গু হয়ে যাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অর্থনীতি। তার আহবান অন্তত বাকী ৩ দিন আমরা লকডাউনটা স্বর্তফূতভাবে পালন করে সংক্রামণ হার ১০ এর নিচে নিয়ে আসি।
শিবগঞ্জ ম্যাঙ্গো প্রডিউসার ও কো-অপারেটিভের সাধারণ সম্পাদক ইসমাঈল খাঁন শামিম জানান, আম লকডাউনের অওতামুক্ত থাকলেও চাষীরা আম ভাঙ্গতে সাহস পাচ্ছেনা। বাইরে থেকে ক্রেতা না আসলে বাজার জমবেনা। বিক্রিও বাড়বে না। এজন্য আমাদের অনলাইনে বেচাকেনা বাড়ানোর পাশাপাশি নিজ দায়িত্বে স্বাস্থ্য বিধি মেনে ও বাইরের ক্রেতাদের নিরাপদ স্থানে থাকার নিশ্চয়তা দিতে হবে। নয়লে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে।
তিনি আরও জানান, বিদেশি এক ক্রেতা ঢাকার একজনের মাধ্যমে ৪ টন আম রপ্তানীর আদেশ দিলেও করোনার প্রদুর্ভাবের কথা শুনে সেই বিদেশী ক্রেতা দেড় টন আমের রপ্তানী আদেশ বাতিল করেছে। এতে করে আম সংশ্লিষ্টরা বিপাকে পড়েছে।
শুক্রবার সকাল থেকে দেশের বৃহত্তম কানসাটের আমবাজারে গিয়ে দেখা যায় বাজারে শুনসান নিরাবতা। বিশাল বাজারের এক কোনে ২ ভ্যানে ৮ ডালি আম নিয়ে দাঁড়িয়ে মাক্স পরিহিত ৪ জন আমচাষী ও ভ্যানচালক দাঁড়িয়ে। পাশে আমগুলো নিয়ে দর কষাকষি করছেন ৩ জন আড়ৎদার। তবে বাইরের ক্রেতা না থাকায় আড়ৎদাররাও আম কেনা নিয়ে ছিলেন সংশয়ে।
এ ব্যাপারে আম আৎড়দার সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক টিপু জানান, কানসাট বাজারে অন্যান্য বছর এ সময় অন্তত শতাধিক ট্রাক আম পরিবহনের জন্য লোড হয়, কিন্তু এবছর দিনে সর্ব্বোচ্চ ৫-৭ টি ট্রাকে আম লোড করা সম্ভব হচ্ছে। তিনি স্বাস্থ্যবিধি মেনে আড়ৎগুলো চালু করতে বাইরের ক্রেতাদেও আসার জন্য ব্যাপক প্রচারনা ও নিরাপদ আবাসিক হোটেলে থাকা এবং নিরাপদে চাঁপাইনবাবগঞ্জে চলাফেরা করতে দেয়ার দাবী জানান।
অপরদিকে কানসাট হাট ইজারাদার কমিটির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বাবু, জানান, তিনি কানসাটের ৩টি হাট প্রায় কোটি টাকা দিয়ে কিনে পথে বসার মতো অবস্থা। গরু ও সাপ্তাহিক হাট বন্ধ থাকলেও তিনি আশাবাদি ছিলেন আমের হাটটি নিয়ে কিন্তু চাঁপাইনবাবগঞ্জে গত ২১ মে আমার উদ্ধোধনের পরও কানসাট আম বাজারটি ফাঁকা।
চাষীরা লকডাউনের ভয়ে বাজারে আম নামাতে সাহস পাচ্ছেন না। এতে করে তিনি পুঁজি হারিয়ে পথে বসার পাশাপাশি চাঁপাইনবাবগঞ্জের অর্থনীতি পঙ্গু হয়ে যাবে।
এ ব্যাপারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ জানান, আম শিল্পকে রক্ষার জন্য ট্রেন চালুর পাশাপাশি আম বাগানগুলোতে এবং বড় বড় আড়ৎ গুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আম বাজারজাত ও পরিবহনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি কানসাট আম বাজারকে বিস্তৃত করে দেয়া হয়েছে। এরপরও ক্রেতা না আসলে প্রশাসনের কিছু করার নেই। তবে তিনি অনলাইনে আম বিক্রিতে চাষীদের অভ্যস্ত হবার পরামর্শ দেন।

জুন ০১
০৫:২৯ ২০২১

আরও খবর