Daily Sunshine

পুলিশি নিষেধাজ্ঞায় গাছেই নষ্ট হচ্ছে লাখ টাকার লিচু

Share

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি: ঈশ্বরদীর প্রধান অর্থকারী ফসল লিচুর ভরা মৌসুমে পুলিশের নিষেধাজ্ঞা থাকায় গাছেই নষ্ট হচ্ছে শামসুল হক (৫৫) নামের এক কৃষকের লাখ টাকার টসটসে পাকা লিচু। ১৫টি গাছের পাকা লিচু ওই কৃষকের চোখের সামনে প্রতিদিনই ঝরে নষ্ট হচ্ছে। নিরবে দেখা ছাড়া তার যেন কোন উপায় নেই।
ঈশ্বরদী উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের জয়নগর মধ্যপাড়া গ্রামের এ ঘটনাটি এখন স্থানীয় এলাকাবাসীর মুখে মুখে। ভাইদের মধ্যে দ্বন্দ্ব থাকায় লিচু পাড়া নিয়ে সংঘর্ষের আশংকায় পুলিশের পক্ষ থেকে এমন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে বলে জানান ঈশ্বরদী থানার ওসি আসাদুজ্জামান। রবিবার ওই বাগানে গিয়ে দেখা যায়, পাকা লিচু অবিরত ঝরে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে।
অভিযোগ সুত্রে ক্ষতিগ্রস্থ লিচু চাষী শামসুল হক জানান, ২০০০ সালে তার পিতা মহিউদ্দিন প্রামানিক মারা যাওয়ার পর তারা তিন ভাই ও ৪ বোনের মধ্যে তাদের জমিজমা ভাগ বাটোয়ারা করা হয়। বাটোয়ারা অনুযায়ী শামসুল হক প্রায় ৫৯ শতাংশ জমি ও কিছু লিচুর গাছ পান। সেখানে তিনি আরও কিছু লিচুর গাছ রোপন করে বড় করেন।
প্রায় ২০ বছর ধরে ভোগ দখল করে থাকা ওই জমির ২২ শতাংশ তিনি দুই জনের কাছে বিক্রি করেন। বাকি জমিতে শামসুল হকের বসত ভিটা ও ১৫টা লিচুর গাছ রয়েছে। অসহায় শামসুল হক নিঃসন্তান হওয়ায় তার অন্য দুই ভাই ও বোনেরা তার জমিজমা দখলে নিতে উঠেপড়ে লাগে।
তারা অযাচিত ভাবে শামসুল হকের লিচু বাগান দখলে নেওয়ার চেষ্টা করে। গত ২৫ মে এ ঘটনায় শামসুল হক ঈশ্বরদী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। আসামীরাও একটি মিথ্যা অভিযোগ সাজিয়ে শামসুল হকের বিরুদ্ধে থানায় পাল্টা অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগে প্রেক্ষিতে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ শামসুল হককে লিচু পাড়তে নিষেধ করে। ফলে ভরা মৌসুম হওয়া সত্বেও লিচু ভাংতে না পারায় তা ঝরে নষ্ট হচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্থ লিচু চাষী শামসুল হক অভিযোগ করেন, আমার গাছের লিচু আমি পাড়বো এটাই নিয়ম, কিন্তু মিথ্যা অভিযোগে পুলিশ আমার বাগানের পাকা লিচু পাড়া বন্ধ করে দিয়েছে, এটা অন্যায়। তদন্তপূর্বক আমি সকলের সহযোগীতা চাই।
ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসাদুজ্জামান বলেন, লিচু পড়ে নষ্ট হলে আমার কিছু যায় আসে না। ওই বাগানের লিচু পাড়তে যে যাবে তাকেই গ্রেফতার করা হবে।

মে ৩১
০৫:০৯ ২০২১

আরও খবর