Daily Sunshine

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৭ জনের নমুনায় ভারতীয় ভেরিয়েন্ট

Share

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীতে প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য হারে করোনা রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার মধ্যে একটি বড় অংশই রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বসবাসরত। আর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) করোনা বা উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীদের অর্ধেকই চাঁপাইনবাবগঞ্জের। এমন অবস্থায় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের দাবি দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যকর লকডাউন না দিলে ঝুঁকির মধ্যে পড়বে রাজশাহীবাসী।
এদিকে, ঈদের আগে ৪২ জনের নমুনা জেনম টেস্টের জন্য ঢাকার আইইডিসিআর এর করোনা পরীক্ষা ল্যাবে পাঠানো হয়েছিল। যার মধ্যে ৭জনের নমুনায় ভারতীয় ভেরিয়েন্টের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এই ৪২ জনের নমুনার মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে পাঠানো হয় ৩৬ জনের নমুনা এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে পাঠানো হয় ৬জনের নমুনা।
তবে এই সাতজনের কে কোথায় অবস্থান করছে সে বিষয়ে কোন তথ্য দিতে পারেনি রাজশাহী সিভিল সার্জন ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিভিল সার্জনসহ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেয়া তথ্য মতে, হাসপাতালটিতে শনিবার (২৯মে) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। যাদেরমধ্যে ৩ জন করোনা আক্রান্ত এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দা। অপর দুইজন করোনা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। শনিবার সকাল পর্যন্ত করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন ১৯১ জন। যাদের মধ্যে ৯৪ জনই চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দা এবং রাজশাহীর ৭২জন। গত ৮৯দিনে করোনার উপসর্গ সমূহ করোনা রোগে মৃত্যুবরণ করেছেন ২০৬ জন।
রামেক হাসপাতালে শনিবার মোট রোগী ভর্তি আছে ১ হাজার ৩৫০ জন। করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য এই হাসপাতালে ২০০টি বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে এই হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা থাকে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ জন। তবে হাসপাতালে করোনা চিকিৎসা দেয়ায় অন্যান্য রোগীর সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ না হলে রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে না বা চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা সহ অন্যান্য রোগের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা থাকায় এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বেশি থাকায় হাসপাতালটিতে রাজশাহীর আশপাশের জেলার রোগীরও চিকিৎসাসেবা নিতে ভিড় করে।
এদিকে রাজশাহীর পার্শ্ববর্তী সীমান্ত জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে সাত দিনের লকডাউন ঘোষণা করেছে সরকার। মানুষজনকে বাইরের দেখা না গেলেও বিভিন্ন পন্থায় কর্মের তাগিদে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে মানুষজন রাজশাহীসহ ঢাকায় ছুটে যাচ্ছে। এদের মধ্যে অনেকে আবার ভয়েও চাঁপাইনবাবগঞ্জ ছাড়ছে। সন্ধ্যা হলেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহী সীমান্ত উপজেলা গোদাগাড়ী-তানোর হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষ রাজশাহীতে ডুকছে। এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জের গুরুতর অসুস্থ রোগীদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতলে প্রেরণ করা হচ্ছে।
রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. শামীম ইয়াজদানী জানান, হাসপাতালে প্রতিদিন করোনা রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই রোগীদের অধিকাংশ চাঁপাইনবাবগঞ্জ ফেরত। এই মুহূর্তে রাজশাহীকে লকডাউন এর আওতায় না আনা গেলে এর খেসারত দিতে হবে রাজশাহীবাসীকেই। সেই সাথে সাধারণ জনগণকে সচেতন হতে হবে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।
রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. কাইয়ুম তালুকদার জানান, সাধারণ জনগণকে সচেতন হতে হবে। শুধু নামেই লকডাউন নয়, লকডাউনকে প্রকৃত অর্থে বাস্তবায়ন করতে হবে। আর যদি তা না সম্ভব হয় তবে করোনা মহামারী রোধ করা কারো পক্ষে সম্ভব হবে না।

মে ৩০
০৫:৩৮ ২০২১

আরও খবর