Daily Sunshine

জমির বিরোধে বাঘায় ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুন

Share

স্টাফ রিপোর্টার, বাঘা : রাজশাহীর বাঘায় জমি নিয়ে দুই ভাইয়ের বিরোধের জের ধরে রক্তক্ষয়ী সংঘষে ছোটভাই সাজদার রহমানের হামলায় বড়ভাই সাহাবুদ্দিন খুন হয়েছেন। শনিবার সকালে উপজেলার কলিকগ্রাম এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ছোট ভাই সাজদার রহমান ও তার স্ত্রী রুবিনা বেগমও আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার কলিগ্রাম এলাকার মৃত সামাদ মন্ডলের দুই ছেলে সাজদার রহমান (৫০) এবং তার বড়ভাই সাহাবুদ্দিনের (৫৫) মধ্যে ৫৩ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এই বিবাদের জের ধরে শনিবার সকাল ১১ টার দিকে উভয় পরিবারের মধ্যে প্রথমে তর্কবিতর্ক পরে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এই সংঘর্ষে ছোটভাই সাজদার রহমান এবং তার দুই মেয়ে ও স্ত্রী বড়ভাই সাহাবুদ্দিন বেধড়ক মারপিট করে। এতে তিনি সঙ্গাহীন হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন সাহাবুদ্দিনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রিফায়েত হোসেন জানান, এ ঘটনায় সাজদার রহমান নিজে এবং তার স্ত্রী রুবিনা আহত হয়েছেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহত সাহাবুদ্দিনের স্ত্রী সালামা বেগম বলেন, পরিকল্পিত ভাবে তার স্বামী সাহাবুদ্দিনকে মারপিট করে হত্যা করেছে তার দেবর সাজদার রহমান, তার স্ত্রী রুবিনা বেগম ও দুই মেয়ে সুমনা-মহনাসহ চাচী শাশুড়ি হামিদা। এ বিষয়ে তিনি বাদী হয়ে বাঘা থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন।
তবে নিহতের ছোটভাই সাজদার রহমান দাবি করেছেন, বড় ভাইয়ের দুই ছেলে তাকে মারপিট করে রক্তাক্ত করে। আর এ দৃশ্য দেখে বড়ভাই স্টোক করে মারা গেছেন। বাঘা থানা অফিসার ওসি (তদন্ত) মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধারের পর ময়না তদন্তের জন্য রামেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ তদন্ত পুর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান ওসি।
নওগাঁ : নওগাঁয় শহরের মুক্তির মোড় ইডেন চাইনিজ রেস্টুরেন্টের নৈশপ্রহরী আতাউর রহমানকে (৪৫) কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
শনিবার সকালে হোটেলের ভিতর থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত আতাউর জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর থানার চকমহিতুল গ্রামের আহম্মদ মণ্ডলের ছেলে। দীর্ঘদিন যাবৎ নওগাঁ শহরের কোমাইগাড়ী এলাকায় বসবাস করে আসছিলন।
হোটেলের ম্যানেজার মুনজুরুল ইসলাম জানান, প্রতিদিনের মতো শুক্রবার রাত সড়ে ১০টার দিকে হোটেল বন্ধ করে তিনি বাসায় চলে যান। সকাল সাড়ে সাতটায় হোটেলের বাবুর্চি হোটেলে এসে নিহত আতাউর রহমানকে ডাকাডাকি করলে কোন সাড়াশব্দ পায় না। পরে বাবুর্চি তাকে বিষয়টি জানালে সে রেস্টুরেন্টে এসে তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে অনেক খোঁজাখুঁজির পর কাপড়ের ভিতরে তার মরদেহ দেখতে পায়।
তিনি আরো জানান, দীর্ঘদিন যাবত এ রেস্টুরেন্টের নৈশ প্রহরীর কাজ করে আসছিল আতাউর। কিন্তু নিহত আতাউর রহমানের সাথে বাদল নামে একজন তার সাথে রাতে থাকতো। কিন্তু ঘটনার পর থেকে সে নিখোঁজ রয়েছেন।
নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল জানান, নিহত আতাউর এবং ওই রেস্টুরেন্টের সহকারী রাধুনি বাদল রাতে একসঙ্গে ছিল। সকালে প্রধান রাধুনি রেস্টুরেন্টে আসলে আতাউরের মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ রেস্টুরেন্টের তৃতীয় তলা থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করে। এ সময় ধারালো ছুরি দিয়ে শরীরজুড়ে খোঁচানোর চিহ্ন পাওয়া যায়।
পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আবদুল মান্নান মিয়া জানান, শহরের প্রাণকেন্দ্রে এমন ঘটনা গুরুত্বের সাথে দেখছে পুলিশ। পাশাপাশি যৌথ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ, সিআইডি ও পিবিআই। রাজশাহী সিআইডি ফরেন্সিক বিভাগের একটি দল ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত শেষে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্যে নওগাঁ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরো জানান, ঘটনা রপর থেকে পলাতক সহকারি বাবুচি বাদলকে আটকের অভিযান চলছে। বাদলকে আটক করা সম্ভব হলে তার মৃত্যুর প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন সম্ভব হবে আশা করা হচ্ছে।

মে ৩০
০৫:৩৭ ২০২১

আরও খবর