Daily Sunshine

ইংল্যান্ড গেলো বাঘার তিন হাজার কেজি হিমসাগর

Share

স্টাফ রিপোর্টার, বাঘা : চলতি মৌসুমে রাজশাহীর বাঘা থেকে প্রথম ৩ হাজার কেজি হিমসাগর আম গেলো ইংল্যান্ডে। গত তিন বছর ধরে এই উপজেলার আম রফতানি হচ্ছে বিশ্বের ৬ টি দেশে। তারই অংশ হিসেবে এবার পথম ধাপে পাঠানো হলো ৩ হাজার কেজি আম।
এরমধ্যে আম রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান ডিপ ইন্টারন্যাশনাল ৬শ কেজি, তাছফিক ইন্টারন্যাশনাল ১ হাজার কেজি, ফারডন ইন্টারন্যাশনাল ৬শ’ কেজি এবং এনইবিসি অপারেশনের মাধ্যমে ৪শ কেজি আম রফতানী করা হয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে প্রথম চালানের এই আমগুলো সরবরাহ করেছেন বাঘা উপজেলার পাকুড়িয়া গ্রামের প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত লিড ফার্মার শফিকুল ইসলাম সানা। করোনা সংক্রমণের মধ্যেও দেশের বাইরে আম রফতানি করতে পারায় উপজেলার অন্যান্য আম চাষিদের মনে দেখা দিয়েছে আশার আলো। দেশের বাইরে আম রফতানি করতে পারা কৃষকরা আম বিপননে সহযোগীতা করার জন্য স্থানীয় সাংসদ ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। বাঘা উপজেলা কৃষি অফিসার শফিউল্লাহ সুলতান জানান, প্রতিবারের মত এবারো বাঘার সুমিষ্ট ও দেশবিখ্যাত আম রফতানি শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ইংল্যান্ড, নেদারল্যান্ড, সুইডেন, নরওয়ে, পর্তুগাল এবং ফ্রান্সসহ রাশিয়াতে পাঠানো হবে এই উপজেলার গোপালভোগ, হিমসাগার, আম্রপালি, ল্যাংড়া এবং ফজলি আম। ইতোমধ্যে সম্পুর্ণ ফরমালিন ও কেমিক্যালমুক্ত এই আম পাঠানোর জন্য রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় কৃষকদের আহবান জানিয়েছেন স্থানীয় সাংসদের ছোট ভাই সাইফুল আলম বাদল। উপজেলার কলিকগ্রামের আমচাষি আশরাফুদৌল্লা, বাঘার মুক্তার হোসেন এবং আড়পাড়ার মহাসিন আলী বলেন, আমরা গত তিন বছর থেকে দেশের বাইরে আম পাঠাচ্ছি। এর মধ্যে গতবার ভাল দাম পেয়েছি। তারা বলেন, যদি এ বছর অন্যবারের চেয়ে বেশি পরিমান আম রফতানি করতে পারি তাহলে আগামি বছর থেকে আমের উৎপাদনে তারা আরও যত্নবান হবেন। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, আম রফতানির জন্য উপজেলার ৫০ জন চাষিকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। উত্তম কৃষি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাগানে উৎপাদিত ও ক্ষতিকর রাসায়নিক মুক্ত আম ঢাকায় (বিএসটিআই ল্যাবে) নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এরপরে বিদেশে রফতানি করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, রাজশাহী জেলায় এবার ১৭০০০ হেক্টর আম বাগানের মধ্যে অর্ধেক অর্থাৎ ৮৫০০ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে বাঘা উপজেলায়। এখানকার প্রধান অর্থকারী ফসল আম। এ অঞ্চলের কৃষকরা প্রতি বছর আম বিক্রি করে আয় করে থাকেন ১৩ থেকে ১৪শ কোটি টাকা। প্রসঙ্গত, চলতি মৌসুমে সুমিষ্ট আমরাজ্য হিসেবে খ্যাত রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে অন্তত ১১ কোটি নিরাপদ ও বিষমুক্ত করা হচ্ছে। এসব আম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রফতানির আশা করছেন চাষিরা। তাই ফ্রুটব্যাগিংয়ের মাধ্যমে ইতিমধ্যে দুই জেলার চাষি ও ব্যবসায়ীরা নিরাপদ আম উৎপাদনের কার্যক্রম শুরু করেছে। নিরাপদ আম উৎপাদন ছাড়াও আমের বাহ্যিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি, কীটনাশক প্রয়োগে খরচ কমানো ও বিদেশে রফতানিযোগ্য আম উৎপাদনের লক্ষ্যে উত্তরের দুই জেলায় বাড়ছে ফ্রুট ব্যাগিংয়ের ব্যবহার।

মে ৩০
০৫:২৭ ২০২১

আরও খবর