Daily Sunshine

রাজশাহী জেলা যুবদল নেতা সাগরকে হত্যার হুমকি

Share

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি লতিফুর রহমান সাগরকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন বাগমারা উপজেলার জেএমবি নেতা মাহাতাব খামারু। মাহাতাব এক সময়ের শীর্ষ জেএমবি নেতা বাগমারা উপজেলার হামিকুৎসা ইউনিয়নের তালঘরিয়া গ্রামের মোহাম্মাদ আলী খামারুর ছেলে।
বৃহস্পতিবার সাগরের বাবা এ্যাড. মুনছুর রহমানকে মুঠোফোনে তার ছেলেকে হত্যা না করা পর্যন্ত ঘুমাবেন না বলে হুমকি দেন মাহাতাব খামারু। এ ঘটনায় বাগমারা থানায় শুক্রবার বিকেলে একটি সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করেছেন জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি লতিফুর রহমান সাগর। তিনি রাজশাহী নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার হড়গ্রাম এলাকার বাসিন্দা।
জিডি সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৭ মে) জেএমবি নেতা মাহাতাব খামারু অস্ত্র হাতে রাজশাহী শহরে মোটরসাইকেল শোডাউন দেয়া একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের পেইজ থেকে শেয়ার করেন যুবদল নেতা সাগর। পোস্ট শেয়ার করাকে কেন্দ্র করে ওই দিন রাত ৮টার দিকে মাহাতাব খামারু তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর থেকে সাগরের বাবা এ্যাডভোকেট মুনসুর রহমানের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে ফোন করে সাগরকে হত্যার হুমকি প্রদান করেন। ফোনে মাহাতাব খামারু বলেন, ‘আপনার ছেলে সাগর এসব কি শুরু করেছে, আমার নাম ও আমার ভাইয়ের নামে ফেসবুকে? আপনার ছেলে আমার সাথে সম্মুখীন যুদ্ধে পড়ে গেছে। আপনার ছেলেকে খুন না করা পর্যন্ত আমি ঘুমাবো না’।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বাগমারা, রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় ২০০৪ সালে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে সিদ্দিকুর রহমান ওরফে বাংলা ভাই। জেএমবি ও বাংলা ভাইয়ের অন্যতম সেকেন্ড কমান্ডার ছিলেন মাহাতাব খামারু। ২০০৬ সালে ধরা পড়ার পরে আদালতের দেওয়া এজাহারে তাকে সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সেই মামলা এখনো আদালতে চলমান রয়েছে।
বাগমারায় বাংলা ভাইয়ের উত্থানের পর তার অন্যতম সহযোগী ছিলেন এই মাহাতাব খামারু। তার বিরুদ্ধে বাগমারা থানায় হত্যা, চাঁদাবাজি ও লুটপাট, হুমকিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। মামলাগুলো আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
জানা গেছে, জেএমবির আঞ্চলিক কমান্ডার মাহাতাব খামারু বাংলা ভাইয়ের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে ওই সকল এলাকায় চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন ধরনের বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ২০০৪ সালে জেএমবির উত্থানের সময় রাজশাহী নগরীতে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দিয়েছিলেন। আর এই অস্ত্রের মহড়ায় সহযোগী ছিলেন তার ছোট ভাই মো. রতন খামারু। বর্তমানে তিনি হামিরকুৎসা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতির পদে রয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রতন খামারু ২০১৬ সাল পর্যন্ত জাতীয় পার্টির কর্মী ছিলেন। তার বাবা ছিলেন জাতীয় পার্টির মনোনীত ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী খামারু। ২০১৬ সালের পর থেকে ধীরে ধীরে তারা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন ও সক্রিয় হন।
এদিকে, জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাক আহমেদ। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মে ২৯
০৪:৫২ ২০২১

আরও খবর