Daily Sunshine

রাণীনগরে পুকুরখনন দুর্ভোগের শিকার পাঁচ গ্রামের বাসিন্দারা

Share

নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর রানীনগর উপজেলার বড়গাছা ইউনিয়নের গোহেলাপুর গ্রামে সরকারি রাস্তার পাশে অপরিকল্পিতভাবে ব্যক্তিমালিকানাধীন একটি পুকুর খনন করায় প্রতিবছর বর্ষার পানিতে ভাঙছে সরকারী রাস্তা ও পাড়ে থাকা বাড়ি-ঘর।
গ্রামবাসীরা প্রতিবাদ করলেও পুকুরের মালিক তা কর্ণপাত করছেন না বলে অভিযোগ।
সরকারী খাস প্রায় ২ শতক জমি অবৈধ দখলে নিয়ে মাত্র ১৬ শতক জমির পাটক্ষেতে পুকুর তৈরী করলেও ভাঙতে ভাঙতে তা এখন প্রায় ২ বিঘা জমির আয়তনে দাঁড়িয়েছে। এতে ওই এলাকার পাঁচটি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষকে এখন প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এদিকে পুকুরের চারপাশে সিসি ঢালাইয়ের মাধ্যমে প্যালাসাইডিং ওয়াল নির্মাণ ও খাস জমি উদ্ধারসহ সরকারি রাস্তা স্থায়ীভাবে মেরামত করার দাবি জানিয়ে গত বুধবার গ্রামবামীবাসীর পক্ষে ৫০ জনের স্বাক্ষতির একটি লিখিত অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে দাখিল করা হয়েছে।
অভিযোগে জানা গেছে গোহেলাপুর গ্রামের বাজারের ব্রীজের মোড় থেকে ঈদগাহ মাঠ হয়ে সরকারি ইট সোলিং এর একটি রাস্তা সুবিশাল মাঠের মধ্যে গিয়ে মিশে গেছে। একমাত্র এ রাস্তা দিয়ে গ্রামের আকন্দপাড়ার ৯০ পরিবার, কুমারপাড়ার ৭৫ পরিবার, হিন্দুপাড়ার ৭০ পরিবারসহ পাশের কচুয়া ও ঝিনা গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ চলাচল করে আসছে।
শুধু তাই নয়, গ্রামের শতভাগ মানুষ একমাত্র ওই রাস্তাটি ব্যবহার করে রিকসাভ্যান, পাওয়ার ট্রলি, হালের গরু, কৃষি সরঞ্জামের মাধ্যমে বিশাল মাঠে বিভিন্ন ধরনের ফসলাদি চাষাবাদ করে ফসল ঘরে তুলে থাকে।
এ অবস্থায় ওই গ্রামের আকন্দপাড়ার বাসিন্দা আব্দুস ছাত্তার প্রামানিক, প্রায় ১০-১২ বছর আগে তার বাড়ির সামনে ও একই পাড়ার মোফাজ্জল আকন্দের বাড়ির দক্ষিণে ও সিরাজুল ইসলামের বাড়ির উত্তরে এবং সরকারি রাস্তার সংলগ্ন পূর্বদিকে দেড় থেকে ২ শতক খাস জমি জবর দখল করে প্রায় ১৫-১৬ শতক পাট ও পাতি চাষের জমি অপরিকল্পিতভাবে খনন করে পুকুর করেন।
পুকুর খননের সময় গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে বাধা দিলেও উক্ত আব্দুস ছাত্তার কারো কোন কথা কর্ণপাত না করে সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে গভীর গর্তের মাধ্যমে মাছ চাষ করে আসছেন।
গ্রামের ভুক্তভোগী তছলিম উদ্দিন (৭০) বলেন তার পুকুরের নিজস্ব কোন পাড় নেই। অন্যের জমিতে পুকুরের পাড় করে ব্যবহার করছেন। বাধা দিলেও তিনি তা শুননেন না। গ্রামের বাসিন্দা আবু জাফর (৫৫) বলেন বর্ষা এলইে আমাদের আর দুর্ভোগের সীমা থাকে না। ওই পুকুরের পাড় ভেঙ্গে রাস্তা ভেঙ্গে পড়ে তখন আর রিকসা ভ্যান তো দুরে থাক হেঁটে পর্যন্ত মাঠে যাওয়া যায় না।
ওই গ্রামের সিরাজুল ইসলাম বলেন পাড় ভাঙতে ভাঙতে এখন আমার বাড়ি হুমকির মুখে পড়েছে। একইভাবে বর্ষায় বৃষ্ঠির পানির কারণে একই গ্রামের মোফাজ্জল আকন্দের বাড়িও হুমকির মুখে রয়েছে।
অভিযোগকারীদের প্রধান মাহমদুুন নবী, রেজাউল ইসলাম বলেন সরকারি রাস্তাটিও প্রতিবছর ভাঙ্ঘনের কারণে ওই এলাকার প্রায় ২০ হাজার মানুষকে চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হচ্ছে। ওই একমাত্র রাস্তা দিয়ে গ্রামের মানুষ মাঠ থেকে ফসল ঘরে তোলেন। প্রতিবছর ওই রাস্তা ধসে পুকুরে বিলীন হয়ে যায়। এসময় ওই রাস্তায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়।
এ বিষয়ে পুকুর মালিককে পুকুরের পাড় সংস্কারসহ রাস্তা মেরামত করে দেওয়ার জন্য বার বার বলা হলেও তিনি তা কর্ণপাত করেন না। বাধ্য হয়ে গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে ব্যক্তিগত ভাবে অর্থ সংগ্রহ (চাঁদা তুলে) করে নিজেরাই রাস্তা মেরামত করে যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছে। অনেক বলার পর ওই পুকুর মালিক এবার পুকুরের কাদা দিয়ে কোনভাবে পাড় বেঁধেছেন। বর্ষা এলইে তা আবার পুকুরের মধ্যে নেমে যাবে বলে জানান অভিযোগকারীরা।
এ ব্যাপারে আব্দুস ছাত্তার প্রামানিক পাড় না থাকার কথা স্বীকার করে বলেন এবার আমি পাড় বেঁধে দিয়েছি।
রানীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুশান্ত কুমার মাহাতো অভিযোগ পাওয়ার কথা নিশ্চিত করে বলেন বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

মে ২৭
০৬:০১ ২০২১

আরও খবর