Daily Sunshine

জীবনযাত্রার পরিবর্তনে চাঙা দেশের এসি বাজার

Share

সানশাইন ডেস্ক : জীবনযাত্রার মান পরিবর্তনের সাথে সাথে বাংলাদেশে স্থানীয় এয়ার কন্ডিশনার বাজারে লক্ষণীয় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। যেখানে অন্য সব বিলাসপণ্যের বাজার মন্দা, এয়ার কন্ডিশনারের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখ্য ঊর্ধ্বগতি বিদ্যমান। স্থানীয় এসি প্রস্তুতকারী ও ব্যবসায়ীদের মতে, বছরের প্রথম ৩ মাসে এসির বিক্রি ২৫-৩০% বেড়েছে, যা গতবছরের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি।
২০২০ সালে করোনা সংক্রান্ত ভুল তথ্য ও মহামারিকালে ব্যবসায়িক জটিলতায় এসির বিক্রয় অনেকাংশে কমে গিয়েছিলো। কিন্তু ঘরে অধিক সময় থাকার কারণে আবাসিক এসির প্রয়োজনীয়তা বেড়ে যায়। এছাড়াও, দ্রুত নগরায়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি, মধ্যবিত্ত শ্রেণির প্রসার, সুলভমূল্যে এসি ও এসিকে বিলাসপণ্য থেকে প্রয়োজনীয় পণ্যে পরিণত করা বাজার বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।
বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বিশ্বস্ত এসি ব্র্যান্ড গ্রি। গ্রি এসির বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান ইলেক্ট্রো মার্ট লিমিটেড-এর উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল আফসার বলেন, বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বের তাপমাত্রা বেড়ে গেছে। ফলে, গরম অনেক বেড়ে গেছে। গরম থেকে রক্ষা পেতে মানুষজন আগের চেয়ে বেশি এসি ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছেন। তাছাড়া, এসিতে নতুন নতুন ফিচার যোগ হচ্ছে, যা বিদ্যুৎসাশ্রয়ের পাশাপাশি ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ধুলাবালু থেকে ঘরের বাতাস পরিশুদ্ধ রাখে। তাই, এই করোনাকালেও এসি বিক্রি বাড়ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকাসহ সারাদেশের তাপমাত্রার পারদ ঊর্ধ্বমুখী। গরমে অবস্থা সবারই চরমে। ঘরে কিংবা অফিসে প্রাণ ওষ্ঠাগত। প্রাত্যহিক কাজ করতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন, কেউ কেউ আবার অসুস্থও হয়ে যাচ্ছেন। ফ্যানের বাতাসেও এই তীব্র গরম এড়ানো বেশ কঠিন কাজ। তাই তীব্র গরমের সময়ে হিমেল হাওয়ার প্রশান্তির পরশ পেতে সবাই এসি ব্যবহারে আগ্রহী হচ্ছেন। এজন্য এসির বাজার এখন ঊর্ধ্বমুখী। এছাড়াও এসির দাম মধ্যবিত্তের সামর্থ্যের মধ্যে আসার কারণে এর ব্যবহার বাড়ছে।
বাংলাদেশে এসি মার্কেট : বর্তমানে এসিকে আর বিলাসপণ্য নয় বরং নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য হিসেবে ভাবা হচ্ছে। অনেক উচ্চমধ্যবিত্ত ঘরে এখন এসির ব্যবহার দেখা যায়। ঢাকা শহরে এর ব্যবহার আরো বেশি। শহরবাসীরা গাড়ি, দোকান, সিনেমা হল, হোটেল, রেস্টুরেন্ট সবখানে এসির সুবিধা চেয়ে থাকেন। রেসিডেন্সিয়াল ক্ষেত্রে এসির ব্যব্যহার বর্তমান মার্কেট উন্নয়নে বিশাল ভূমিকা রাখে।
এসি প্রস্তুতকারীদের তথ্য অনুযায়ী ২০১৯ সালে সারাদেশে সাড়ে চার লাখ এসি বিক্রি হয়, যা আগের বছরের তুলনায় ১৫% বেশি। এতে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হয়।
এই মার্কেট ২০২০ সালের মহামারিতে অনেকটাই ভেঙে পরে। গতবছর প্রায় ৩ লাখ এসি বিক্রি হয়। তবে এবছর বাজারের চাহিদা থেকে আশা করা যায় ৬ লাখ এসি বিক্রি করা সম্ভব। ১০ বছর আগেও এসি মার্কেট বিদেশি আমদানি নির্ভর ছিল যেখানে গ্রি, জেনারেল, হিটাচি, প্যানাসনিক, সিঙ্গার, স্যামসাং এবং এলজি অন্যতম। এখন অনেক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের বাজারের জন্য স্থানীয়ভাবে এসি উৎপাদন করছে। ফলে আমদানি নির্ভরতা অনেকটাই কমে গেছে।
হাতের নাগালে দামের কারণে বাজারে ঊর্ধ্বগতি : একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মার্কেটিং বিভাগে কাজ করছেন নওশাদ হোসেন। তার মাসিক আয় ৫০ হাজার টাকা। এক বছরের শিশু সন্তানসহ তার পরিবারে সদস্য ৩ জন। সম্প্রতি তিনি ৪০ হাজার টাকা দিয়ে একটি এসি কিনেছেন। তার ভাষ্যমতে, “ঢাকায় এখন অসহনীয় গরম। আমি অনেক সাহস করে একটি এসি নিয়েছি শুধুমাত্র দামটি সাধ্যের মধ্যে এবং ইএমআই সুবিধা আছে বলে। এটি আমার সন্তানকে গরম থেকে প্রশান্তির আরামে রাখবে।
৫ বছর আগেও এক টন এসির দাম এক লাখ টাকা ছিলো। আর এখন মার্কেটে চীন থেকে আমদানি করা এসির দাম ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা । এছাড়াও স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এসির বাজারমূল্যও ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। পাঁচ-ছয় বছর আগে এই দাম কল্পনাতীত ছিলো। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির পাশাপাশি হাতের নাগালে দামের কারণে এসির বাজার দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে।

মে ২৭
০৫:৫৮ ২০২১

আরও খবর