Daily Sunshine

রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জে উচ্চমাত্রায় সংক্রমণ

Share

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে রোগি ও স্বজনদের নিয়ে প্রতিদিন যাতাযাত প্রায় ৫ হাজার মানুষের। ওই হাসপাতালেই চলছে করোনা ওয়ার্ড। করোনা আক্রান্ত রোগিরাও যে পথে হাসপাতালে ভর্তি হয় সেই পথেই যাতাযাত অন্য রোগিসহ সাধারণ মানুষের। সম্প্রতি সময়ে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় উচ্চ হারে সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। এসব রোগিরা এসে চিকিৎসা নিচ্ছেন রামেক হাসপাতালেই। করোনা রোগি ও তার স্বজনদের অবাদ চলাচল রামেক হাসপাতাল ও আশেপাশের এলাকাকে আরো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।
ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকা রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে করোনার সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। সোমবার চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৮২ জনের দেহে করোনা সংক্রমণের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। আর রাজশাহীতে ৫৪ জন।
এই দুই জেলার আক্রান্তদের বেশিরভাগ চিকিৎসা নিচ্ছেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। মঙ্গলবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৫৪ জন করোনা রোগীর মধ্যে ৮৬ জন চাঁপাইনবাবগঞ্জের এবং ৪৮ জন রাজশাহীর। এদের মধ্যে ১৪ জন আইসিইউতে রয়েছেন।
রামেক হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী, করোনার প্রথম ধাপে হাসপাতালে সর্বোচ্চ রোগি ছিল ৯৬ জন। কিন্তু দ্বিতীয় ধাপে সর্বোচ্চ রোগি বেড়ে দাড়ায় ১৩৬ জনে। ঈদের আগে সেটি কমে এসেছিল ৭১ জনে। কিন্তু ঈদের পর থেকে করোনা রোগি বাড়তে থাকে। যা একদিনে ১৬৮ জনে দাঁড়ায়। তবে রোগিদের বেশীর ভাগই চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দা।
তিনি বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে শনাক্তের হার ৫৫ ভাগ। তবে কম নয় রাজশাহীতেও। বর্তমানে রাজশাহীতে শনাক্তের হার ৪৫ ভাগ। করোনা আক্রান্ত রোগিদের চিকিৎসায় হাসপাতালে আরও একটি ওয়ার্ড বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমানে পাঁচটি ওয়ার্ডে তাদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এছাড়াও আরও একটি ওয়ার্ড প্রস্তুত করা হচ্ছে।
রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধিন ১৬৮ জন রোগির স্বজনরা অবাদে চলাচল করছেন হাসপাতালে। এতে অন্য রোগি ও তার স্বজনদের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা দিনে দিনে বাড়ছেই।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চারজন করোনা আক্রান্ত রোগির মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে দুইজন চাঁপাইনবাবগঞ্জের, একজন রাজশাহীর ও একজন পাবনার। এ নিয়ে গত তিনদিনে এই হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে ১৯ জনের মৃত্যু হয়। আর গত ১ মার্চ মাস থেকে এ পর্যন্ত এ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭১ জন করোনা আক্রান্ত রোগি ও ১১২ জন করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন।
রামেক হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, যে হারে হাসপাতালে রোগি ভর্তি হচ্ছে এ ভাবে চলতে থাকলে কয়েকদিনের মধ্যে আমাদের ক্যাপাসিটির বাইরে চলে যাবে। সে ক্ষেত্রে সদর হাসপাতাল চালুর জন্য সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, করোনা আক্রান্ত রোগিদের মধ্যে ভারতীয় ধরন আছে কি না তা পরীক্ষা করতে ৪৩ জনের নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআরএ পাঠানো হয়েছে। তবে ফলাফল এখনো পাওয়া যায়নি। তাদের নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পেলে এ বিষয়ে পরিবর্তি সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, করোনা রোগিদের জন্য ইচ্ছে থাকলেও অন্য জায়গায় ওয়ার্ড স্থানন্তর করা সম্ভব নয়। কারণ করোনা রোগিদের জন্য অক্সিজেনসহ যে পরিমান সার্পোট প্রয়োজন তা অন্য কোথাও নেই। সদর হাসপাতালকে বিকল্প হিসেবে ভাবা হলেও তাতে অন্য সুবিধা নেই।
এদিকে রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. কাউয়ুম তালুকদার বলেন, রাজশাহী সদর হাসপাতাল এখন বন্ধ রয়েছে। সেটি চালু করে করোনা ইউনিট করার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। অনুমতি পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

মে ২৬
০৫:৫৬ ২০২১

আরও খবর