Daily Sunshine

দূর্গাপুরে অপরের সম্পত্তি দখলে নেওয়ার অভিযোগ

Share

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর দূর্গাপুরে পৈত্রিক জমি দখলে নিয়ে প্রকৃত জমির মালিকদের মারপিটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে। উপজেলার পলাশ বাড়ি গ্রামের মৃত নছির শাহের ছেলে ভূমিদস্যু আব্দুর রশিদ ও মৃত মজু মন্ডলের ছেলে ভূমিদস্যু হায়াত আলীর বিরুদ্ধে দুর্গাপুর থানায় অভিযোগ হয়েছে।
অভিযোগ থেকে জানা গেছে, দূর্গাপুর উপজেলার পলাশবাড়ি মৌজা, জেএলনং-৫৯, খতিয়ান নং-আর এস ৯ ও ১৪০, দাগ নং ২৮০৩ ও ২০৮৬, রকম ধানী ও মাটিয়াল, পরিমান দুই দাগ মিলে মোট ১৩ বিঘা ১১শতক জমির মুল মালিক মৃত আব্বাস আলী ও তাঁর স্ত্রী মোছাম্মৎ হামিদা এবং তাঁর ভাই আজিজুল হক। কিন্তু তারা উভয়ে মারা যাওয়ায় বর্তমানে তাঁদের ওয়ারিসগণ মালিক হয়েছেন। জমির হালসন নাগাদ খাজনা দেয়া থাকলেও এই জমি দখলের পাঁয়তারা করছে পলাশবাড়ি গ্রামের ভূমিদস্যু আব্দুর রশিদ ও হায়াত আলীসহ তার লোকজন।
মালিক পক্ষ জমির কচুরীপানা পরিস্কার করতে গেলে আব্দুর রশিদ ও হায়াত আলীসহ তার লোকজন বাধা দেন এবং মালিক পক্ষের বেশ কয়েকজনকে মারপিট করেন। সেইসাথে মোবাইল ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেন। এর প্রতিবাদে এবং ভূমিদস্যুদের শাস্তির জন্য আব্বাসের ছেলে হাসান উদ্দৌলা সরাফী বাদি হয়ে দূর্গাপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
এতে তিনি উল্লেখ করেন উক্ত তপশিলভূক্ত সম্পত্তি তারা ভোগ দখর করে আসছেন। এই সম্পত্তি নিচু হওয়ায় সেখানে পানি জমে থাকে। ফলে এই জমিতে অনেক দেশীয় মাছ আছে। কিন্তু পুরো জমিটি কচুরীপানা দিয়ে ভরে থাকায় তা পরিস্কার করার জন্য লেবার লাগান। কিন্তু স্থানীয় পলাশ বাড়ি গ্রামের আব্দুর রশিদ, হায়াত আলী, মৃত নছির শাহ এর আরেক ছেলে আব্দুল জলিল ও হায়াত আলীর ছেলে শাহিন ও তাদের লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে, দেশীয় অস্ত্র সাথে করে জমিতে হাজির হন এবং কচুরীপানা অপসারণ করতে বাধা দেন এবং পাঁচ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবীসহ মারপিট ও মেরে ফেলার হুমকী দেয়। পাশাপাশি তারা মোবাইল ফোনসহ কাছে থাকা টাকা ছিনিয়ে নেয়।
জমির মালিকগণ তাদের বাধার মুখে প্রাণ বাঁচানোর জন্য ফিরে আসেন। এসময়ে রশিদ গংরা হাসান উদ্দৌলা সরাফীর নিকট থাকা অপপো স্মার্ট মোবাইল ফোন ও লেবার পেমেন্ট দেয়ার জন্য রাখা আশি হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় বলে জানান তিনি। যা পরে একই গ্রামের রশিদের নিকট আত্মীয় ও একান্ত সহচর বিশালের নিকট হতে উদ্ধার করেন দূর্গাপুর থানা পুলিশ।
এরআগে ১৭ মার্চ দূর্গাপুর থানায় আরেকটি অভিযোগ দায়ের করেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে দূর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ হাসমত আলী এস.আই রইস উদ্দিনকে দায়িত্ব দেন। সেইসাথে উভয় পক্ষকে থানায় ডেকে মিমাংসা করার জন্য এ.এস.আই আজমলকে দায়িত্ব দেন। আজমল বারবার বিবাদীদে থানায় ডাকলে তারা না এসে তালবাহানা করে বলে জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, গত ২৯ এপ্রিল থানায় উভয় পক্ষকে বসার কথা থাকলেও রশিদ ও হায়াত গংরা সেখানে উপস্থিত না হয়ে চলতি মাসের ৩ তারিখ আবারও সময় নেন। কিন্তু এ তারিখেও থানায় উপস্থিত না হয়ে এখন আবারও পাঁচ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করছেন বলে উল্লেখ করেন হাসান উদ্দৌলা সরাফী। সেইসাথে জমির মালিকদের দেখে নেবে বলে হুমকী দিচ্ছে।
জমির মালিক মৃত আব্বাসের আরেক ছেলে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের টি.আই এ.এন.এম মাসুদ বলেন, তিনি পুলিশের চাকরী করেও তাদের নিজস্ব সম্পত্তি ব্যবহার করতে পারছেন না। জমিটি নিচু হওয়ায় তারা সেখানে পুকুর কেটে মাছ চাষ করার উদ্যোগ নিয়েছেন । কিন্তু এই ভূমি দস্যুরা জোর করে পুকুর কাটতে এবং জমিতে যেতে বাধা প্রদান করছে। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন বলে জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, এই জমির ১৪২৭ সাল পর্যন্ত খাজনা পরিশোধ করা হয়েছে।
এ অবস্থায় ভুক্তভোগি পরিবার জমি উদ্ধারে সরকার, আইন শৃংখলাবাহিনী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ভূমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন এবং এই সকল ভূমি দস্যুদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবী জানান।
জমি সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে পলাশবাড়ি গ্রামের আব্দুর রশিদ বলেন, এই সম্পত্তি সরকারী সম্পত্তি। এই মাঠে ৫২বিঘা খাস জমি মৃত আব্বাস ৪০-৪৫ বছল পূর্বে সরকারের নিকট থেকে বন্দোবস্ত করে নেন এবং পরে তা তাদের নামে রেকর্ড হয়। কিন্তু তার বাব দাদারা বিষয়টি বুঝতে পেরে কোর্টে মামলা করলে সরকার এই জমির বন্দোবস্ত বাতিল করে রায় দেন এবং খাজনা নেয়া বন্ধ করে দেন বলে জানান তিনি। কিন্তু কিছুদিন পূর্বে আব্বাসের ছেলেরা ভূমি অফিসের অফিসারদের ম্যানেজ করে ১৩-১৮ বিঘা জমির খাজনা প্রদান করেছেন। এই জমি তারা এখন আবারও দখল করার চেষ্টা করছেন বলে জানান রশিদ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস.আই রইস উদ্দিন বলেন, তিনি কাউকে মিমাংসার জন্য ডাকেননি। থানার অফিসার ইনচার্জ তাদের ডেকেছিলেন বলে তিনি শুনেছেন। কিন্তু রশিদরা আসেনি বলে জানান তিনি । তিনি আরো বলেন, রশিদরা কখনো থানায় আসেনা। তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দ্রুত তদন্ত শেষ করে এর প্রতিবেদন দেবেন বলে জানান রইস উদ্দিন।

মে ২৫
০৪:২১ ২০২১

আরও খবর