Daily Sunshine

বাস্তবতা মেনে ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে সাইফ

Share

স্পোর্টস ডেস্ক: পছন্দের পজিশনে ব্যাটিং করতে কার না মন চায়? সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহরা তো রীতিমত ‘যুদ্ধ’ করেছেন নিজেদের স্বাচ্ছন্দ্যের জায়গায় ব্যাটিং করতে। এখন তারা থিতু হয়েছেন। নিজেদের মেলে ধরছেন। তবে যারা নতুন আসছেন, তাদের জন্য জায়গাটা অনেক কঠিন।
সাইফ উদ্দিনের কথাই চিন্তা করুন, ঘরোয়া লিগ ও বয়সভিত্তিক দলগুলোতে মিডল অর্ডারে ব্যাটিংয়ে অভ্যস্ত এ ব্যাটসম্যান। কিন্তু জাতীয় দলে তাকে খেলতে হচ্ছে আট নম্বরে, কারণ ব্যাটিং লাইন আপে তার আগে আছেন সাকিব-মুশফিকের মতো নামী ক্রিকেটাররা। তাতে অবশ্য তার কোনও আক্ষেপ নেই। কিন্তু উপরে ব্যাটিং করার আবদারও করতে পারছেন না হার্ডহিটার।
তবে বাস্তবতা মেনে নিয়েছেন সাইফ, ‘অবশ্যই দল যেভাবে চাইবে, সেভাবেই প্রস্তুত। সেটা আট নম্বর হোক বা সাত নম্বরে। ব্যক্তিগতভাবে আমার আগ্রহের কথা জানতে চাইলে বলবো, পাঁচে বা ছয়ে ব্যাটিং করতে চাই। যদিও এটা সম্ভব না দলের কম্বিনেশনের কারণে। অনেক অভিজ্ঞ বড় ভাইরা আছেন। যদি ধারাবাহিকভাবে খেলতে থাকতে পারি ইনশাআল্লাহ সুযোগ আসবে।’
নতুনের আগমনে পুরোনোদের জায়গা ছেড়ে দেওয়া পৃথিবীর সবথেকে রুঢ় সত্য। একালের সাকিব, তামিম, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহরা জায়গা করে নিয়েছিলেন হাবিবুল বাশার, জাভেদ ওমর, আফতাব আহমেদ ও খালেদ মাসুদ পাইলটদের বিদায়ে। ঠিক তেমনই একদিন সাকিব, মুশফিকদের শূন্য রেখে যাওয়া জায়গা পূরণ করবেন সাইফ, মোসাদ্দেক হোসেন ও মেহেদী হাসান মিরাজরা। তাদের হাতেই থাকবে লাল-সবুজের পতাকা।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে রোববার প্রথম ওয়ানডেতে সাইফ ৯ বলে ১৩ রান করেন দুটি বাউন্ডারিতে। আফিফ হোসেনের সঙ্গে তার জুটিতে আসে গুরুত্বপূর্ণ ১৭ বলে ২৭ রান। বোলিংয়েও ২ উইকেট নিয়ে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন। বাংলাদেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ানো ৬০ বলে ৭৪ রান করা ভানিন্দু হাসারাঙ্গাকে ফিরিয়ে স্বস্তি এনে দিয়েছেন ডানহাতি পেসার। আগে থেকে জানাশোনার কারণে হাসারাঙ্গার উইকেট পেতে সুবিধা হয়েছে বললেন সাইফ, ‘হাসারাঙ্গার সঙ্গে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে খেলেছি। কিছুটা হলেও ওকে চিনি। অবশ্যই ভালো ব্যাটিং করেছে। উইকেট বুঝে ফিল্ডিং সাজিয়ে ওর উইকেট নিতে পেরে খুশি।’
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ১০ ম্যাচ জয়হীন থাকার খরা কাটিয়েছে বাংলাদেশ। তাতে সাইফের মুখেও ফুটেছে হাসি, ‘মন থেকে চাচ্ছিলাম (জয়)। নিজের সর্বোচ্চটা উজার করে দিতে চেয়েছিলাম। একটা জয় বাংলাদেশের জন্য খুব দরকার ছিল। সেখানে ভূমিকা রাখতে পেরেছি, এজন্য নিজে খুব খুশি।’
প্রথম ওয়ানডেতে নিজের বোলিং সাফল্যের জন্য মোস্তাফিজুর রহমানকেও কৃতিত্ব দিলেন এ পেসার, ‘বোলিংয়ে জুটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। একপাশ থেকে যদি একজন বোলার ভালো অ্যাটাকে বল করতে পারে সেক্ষেত্রে আরেক প্রান্ত থেকে আমার জন্য কাজটা সহজ হয়ে যায়। অন্য প্রান্তে যদি ১০-১৫ রান হয়ে যায়, তাহলে আমার জন্য চ্যালেঞ্জিং হয়। ব্যাটসম্যান আমার ওপরও চড়াও হতে পারে। মোস্তাফিজ অন্য প্রান্ত থেকে ভালো আক্রমণাত্মক বোলিং করেছে বলে আমার কাজ সহজ হয়েছে।’
শ্রীলঙ্কা সিরিজে ভালো করার লক্ষ্য নিয়ে ফেনীতে ঈদের ছুটি কাটিয়ে ঢাকা এসেছিলেন সাইফ। প্রথম ওয়ানডেতে অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে দ্যুতি ছড়িয়েছেন। বাকি দুই ম্যাচেও ধারাবাহিক হতে চান এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার।

মে ২৫
০৪:১৭ ২০২১

আরও খবর