Daily Sunshine

চাঁপাইনবাবগঞ্জে লকডাউন ঘোষণা

Share

স্টাফ রিপোর্টার: ঈদের ছুটির পরপরই ভারতের সঙ্গে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে করোনার সংক্রামণ বাড়তে দেখা গেছে। আর ওইসব এলাকা থেকে এ করোনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, রাজশাহী, যশোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও সিলেটে জেলাগুলোতে সংক্রমণ বেশি হওয়ার সঙ্গে ভারতে যাতায়াতের একটি সম্পর্ক থাকতে পারে বলে ধারণা করছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) এর কর্মকর্তারা। এসব জেলাগুলোর মধ্যে বিশেষ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অবস্থা বেশ খারাপ। সংক্রামণ ঠেকাতে ইতোমধ্যেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাকে লকডাউন ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
সোমবার ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগি শনাক্ত হয়েছে আরও ১ হাজার ৪৪১ জন। ১৮ হাজার ৩৩৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষা করা হয়েছে ১৭ হাজার ৬৮৩টি। নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ। এটা সারাদেশের চিত্র হলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জের অবস্থা আরো ভয়াবহ। গত এক সপ্তাহে সংক্রমণের হার পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এখানে শনাক্ত রোগি ৫৫ শতাংশের বেশি। শেষের দুই দিন এ সংক্রামণের হার ৫৫ শতাংশে ঠেকেছে। জেলায় এ পর্যন্ত ১ হাজার ২৭৫ জনের মধ্যে করোনা সংক্রামণ দেখা দিয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে মঙ্গলবার থেকে ৭ দিনের লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ১১ দফা নির্দেশনা দিয়ে এই ঘোষণা দেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মঞ্জুরুল হাফিজ।
মঞ্জুরুল হাফিজ বলেন, সম্প্রতি এই জেলায় করোনার সংক্রমণে ঊর্ধমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত এক সপ্তাহে সংক্রমণের হার পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এখানে শনাক্ত রোগি ৫৫ শতাংশের বেশি। তিনি আরও বলেন, লকডাউনে সব দোকানপাট ও যানচলাচল বন্ধ থাকবে। অ্যাম্বুলেন্স, জরুরি ও অন্যান্য সেবাদানকারী যানবাহন ছাড়া অন্য কোনো যান চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রবেশ ও জেলা থেকে বের হবে না।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় ৯৫ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৫৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সদরে ৪৯ জন, শিবগঞ্জে তিনজন, গোমস্তাপুরে ছয়জন ও ভোলাহাটে একজন রয়েছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. জাহিদ নজরুল চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, সোমবার সকাল থেকে করোনা আক্রান্তদের উপসর্গ না থাকায় তাদের বাড়িতে চিকিৎসা দেয়া শুরু করা হয়েছে। এদিকে জেলার ২৫০ শয্যার হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ১৯ জন রোগি চিকিৎসা নিচ্ছেন। এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত এক হাজার ১৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ও মারা গেছেন ২৫ জন।
এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও ভৌগলিক কারণে রাজশাহী জেলাও পড়েছে ঝুঁকির মধ্যে। একে সীমান্তবর্তী জেলা তার উপরে করোনা চিকিৎসা নিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রোগিরা ছুটে আসছেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে। শনিবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্য অনুযায়ি হাসপাতালে ১৪৬ জন করোনা রোগি ভর্তি ছিলেন, এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দা ৭৭ জন। শতাংশের হিসেবে তা প্রায় ৬০ শতাংশ। শুধু চাঁপাইনবাবগঞ্জের রোগি সামলাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে রামেক হাসপাতালকে।

মে ২৫
০৪:১৬ ২০২১

আরও খবর