Daily Sunshine

প্রত্যাশিত জয়ে সিরিজ শুরু বাংলাদেশের

Share

স্পোর্টস ডেস্ক: মোস্তাফিজ হাসছেন। তালি দিচ্ছেন। এতো কম রান আপে বোলিং করতে কখনো তাকে দেখা যায়নি। মনে হচ্ছিল ওয়ার্মআপ! সত্যি-ই কী তা নয়। দুষ্মন্ত চামিরা ও লাকশান সান্দাকানকে যখন বাঁহাতি পেসার বোলিং করছিলেন তখন বাংলাদেশের জয় প্রায় নিশ্চিত। শ্রীলঙ্কার জয় পেতে হলে অভাবনীয় কিছু করতে হতো। লেজের ব্যাটসম্যানরা তা করে দেখাতে পারেনি।
শেষমেশ তার বোলিংয়ে-ই জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের। তার আরেকটি কাটারে পয়েন্টে ক্যাচ দিলেন চামেরা। বাংলাদেশের দেওয়া ২৫৮ রানের টার্গেটে ব্যাটিং করতে নেমে শ্রীলঙ্কা সব উইকেট হারিয়ে তোলে ২২৪ রান। মিরপুর শের-ই-বাংলায় তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটি বাংলাদেশ জিতে নেয় ৩৩ রানে। টস জিতে ব্যাটিং করতে নেমে বাংলাদেশ ৬ উইকেটে ২৫৭ রান সংগ্রহ করে। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৮৪ রান করেন মুশফিকুর রহিম। এছাড়া ফিফটির স্বাদ পেয়েছেন অধিনায়ক তামিম ইকবাল (৫২) ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (৫৪) ।
উইকেট ছিল মন্থর। বল ব্যাটে আসছিল থেমে থেমে। এমন উইকেটে শট খেলা বেশ কঠিন। সঙ্গে শ্রীলঙ্কার বোলিংও ছিল নিয়ন্ত্রিত। বোলাররা সঠিক লাইন ও লেন্থ ঠিক রেখে ধারাবাহিক বোলিং করেছেন। ফলে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা চাইলেও হাত খুলে শট খেলতে পারেননি। পুরো ইনিংসে বাউন্ডারি ছিল ১৯টি। হাওয়ায় ভাসিয়ে বল মাঠের বাইরে গেছে তিনবার।
বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুতেই হোঁচট। দ্বিতীয় ওভারে পেসার চামিরার বলে আলগা শটে প্রথম স্লিপে ক্যাচ দেন লিটন (০) । দলে ফেরা সাকিব দারুণ কভার ড্রাইভে খুলেন রানের খাতা। কিন্তু মন্থর উইকেটে রান পেতে বেগ পেতে হচ্ছিল তাকে। ভিন্ন কিছু করার চেষ্টায় অফস্পিনার গুনাথিলাকাকে এগিয়ে এসে মিড অন দিয়ে উড়াতে চেয়েছিলেন। ওই শটে বিপদ ডেকে এনে সাকিব আউট হন ১৫ রানে। দ্বিতীয় উইকেটে তামিম ও সাকিবের জুটিতে আসে ৩৮ রান।
এরপর দলের হাল ধরেন তামিম ও মুশফিক। তাদের ৬৫ বলে ৫৬ রানের ইনিংসে অতিথিদের পাল্টা জবাব দেয় বাংলাদেশ। কিন্তু ২৩তম ওভারের শেষ দুই বলে দুই উইকেট হারিয়ে আবার ব্যাকফুটে বাংলাদেশ। ক্যারিয়ারের ৫২তম ফিফটি পাওয়া তামিম স্পিনার ধনাঞ্জয়া ডি সিলভার বল ফুলটস বানিয়ে খেলতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হন। শ্রীলঙ্কার আবেদনে সাড়া দিয়ে আম্পায়ার মাসুদুর রহমান বাংলাদেশের অধিনায়ককে আউট হন ৫২ রানে। সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তামিম রিভিউ নিয়েছিলেন। তাতে কাজ হয়নি। ৭০ বলে ৬ চার ও ১ ছক্কায় তামিম ফেরেন সাজঘরে। নতুন ব্যাটসম্যান মিথুন প্রথম বলেই আউট। অফস্টাম্পের বাইরের বল স্কুপ করতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হন। তিনিও রিভিউ নিয়ে মাসুদুর রহমানের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানান। কিন্তু ফল পক্ষে আসেনি। ক্যারিয়ারের প্রথম গোল্ডেন ডাকে শেষ তার ইনিংস।
৯৯ রানে ৪ উইকেট হারানো বাংলাদেশকে পঞ্চম উইকেটে টেনে তোলেন মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ। তাদের ১২২ বলে ১০৯ রানের জুটিতে বাংলাদেশ পায় লড়াইয়ের পুঁজি। এ সময়ে মুশফিক ফিফটি তুলে শতকের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু তার ইনিংস আটকে যায় ৮৪ রানে। লাকশান সান্দাকানকে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে ক্যাচ দেন পয়েন্টে। ৮৭ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কায় শেষ তার ইনিংস। সঙ্গী বিদায়ের পর মাহমুদউল্লাহ ফিফটি তুলে নিলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ধনাঞ্জয়া ডি সিলভাকে উড়াতে গিয়ে ক্যাচ দেন ৫৪ রানে। ৭৬ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় ইনিংসটি সাজান মাহমুদউল্লাহ।
সপ্তম উইকেটে আফিফ হোসেন ও সাইফ উদ্দিনের ১৭ বলে ২৭ রানের জুটিতে বাংলাদেশের রান আড়াইশ পেরিয়ে যায় আফিফ ২২ বলে ২৭ ও সাইফ উদ্দিন ৯ বলে ১৩ রান করেন। ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা ৪৫ রানে ৩ উইকেট নিয়ে শ্রীলঙ্কার সেরা বোলার। ১ উইকেট করে পেয়েছেন চামেরা, গুনাথিলাকা ও সান্দাকান।
বোলিংয়ে মিরাজের হাত ধরে শুরুতে সাফল্য পেলেও আরেকপ্রান্তে তাসকিন ছিলেন বেহিসেবী। দুই ওভারে লাগাতার শর্ট বলে ৫ বাউন্ডারিতে ২১ রান দেন ডানহাতি পেসার। পঞ্চম ওভারে মিরাজের বলে ফিরতি ক্যাচ দেন তাসকিনকে ৫ চার মেরে ভয় দেখানো গুনাথিলাকা। দ্বিতীয় উইকেটের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। অষ্টম ওভারে বোলিংয়ে এসে মোস্তাফিজ তুলে নেন পাথুম নিশাক্কার উইকেট।
তৃতীয় উইকেটে অধিনায়ক কুশল পেরেরাকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন কুশল মেন্ডিস। ৬৩ বলে ৪১ রান করে দলের রান এগিয়ে নেন। বোলিংয়ে এসে এ জুটি ভাঙেন সাকিব। বাঁহাতি স্পিনারের হাওয়ায় ভাসানো বল ড্রাইভ করতে গিয়ে কভারে ক্যাচ দেন মেন্ডিস। ৮২ রানে তৃতীয় উইকেট হারানোর পর আরও ২০ রান যোগ করতে আরও ৩ উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। ৩টি উইকেটটি নেন মিরাজ। নিজের দ্বিতীয় স্পেলে বোলিংয়ে এসে প্রথমে লঙ্কান অধিনায়ককে (৩০) বোল্ড করেন অফস্পিনার। এরপর ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা (৯) ও আশেন বান্দারাকেও (৩) বোল্ড করেন মিরাজ।
পাঁচ উইকেট পাওয়ার হাতছানি দিচ্ছিল তাকে। কিন্তু আটে ব্যাটিংয়ে নামা উইন্দু হাসারাঙ্গা তার বোলিং স্পেল এলোমেলো করে দেন। উইকেটের চারিপাশে কয়েকটি শট খেলে প্রতি আক্রমণে রান বাড়ান ডানহাতি ব্যাটসম্যান। ডানহাতি এ ব্যাটসম্যান ভয় দেখাচ্ছিল বাংলাদেশকে। দাসুন শানাকার সঙ্গে তার ৪০ বলে ৪৭ রানের জুটি এবং ইসরু উদানাকে নিয়ে ৫৯ বলে ৬২ রানের জুটি বাংলাদেশের জয় আটকে রেখেছিল।
শেষ পর্যন্ত সাইফ উদ্দিন শানাকে (১৪) এবং হারাঙ্গাকে (৭৪) ফেরালে জয় নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশ। ৬০ বলে ৩ চার ৫ ছক্কায় হারারাঙ্গা ইনিংসটি সাজান। শেষ দিকে মোস্তাফিজ উদানার (২১) ও চামেরার (৫) উইকেট নেন। স্বাগতিকদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের দিনে বিবর্ণ ছিলেন তাসকিন। ৯ ওভারে ৬২ রান দিয়ে ছিলেন উইকেটশূণ্য।
এ জয়ে আইসিসি ওয়ার্ল্ড কাপ সুপার লিগের আরও ১০ পয়েন্ট নিশ্চিত করলো বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে ৭ ম্যাচে বাংলাদেশের পয়েন্ট ৪০। সিরিজের আরও একটি ম্যাচে জয় পেলে বাংলাদেশ এ লড়াইয়ে শীর্ষে উঠে যাবে। মিরপুরে দ্বিতীয় ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে ২৫ মে।

মে ২৪
০৪:৫৫ ২০২১

আরও খবর