Daily Sunshine

অপরিপক্ক আম চালান দিয়ে মাথায় হাত ব্যবসায়ীদের

Share

নুরুজ্জামান, বাঘা: বেশি দাম পাওয়ার আসায় মৌসুমের শুরুতে অপরিপক্ক আম চালান দেওয়ায় মাথায় বাড়ি পড়েছে কতিপয় অসাধু ব্যাসায়ীদের। গত কয়েক বছর তারা এ কারবার করে লাভবান হলেও এবার পত্রিকায় আগাম সংবাদ প্রকাশ এবং মানুষের মধ্যে জনসচেতনতা সৃষ্টি হওয়ায় আগের ন্যায় কেউ আম কিনছেন না। এতে করে লোকসান গুনছেন ঐ সকল মোনাফা লোভি ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানান, আম প্রধান অঞ্চল হিসাবে খ্যাত রাজশাহীর বাঘা উপজেলার কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী বেশি দাম পাওয়ার আসায় জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে আম পাড়ার জন্য সর্ব প্রথম গুঠি (১৫ মে) এরপর পর্যায় ক্রমে বিভিন্ন জাতের আমের নাম উল্লেখ করে দিন-ক্ষণ (সময়) বেঁধে দিলেও তার এক সপ্তাহ আগ থেকে গোপনে গুঠি এবং লক্ষন ভোগ ভাঙ্গা শুরু করে কতিপয় ব্যবসায়ী। এরপর সেই আমে ক্যামিকেল মিশিয়ে চালান দেয় বিভিন্ন শহরে।
এদিক থেকে যারা এবছর এসব অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত ছিলো তাদের মাথায় হাত পড়েছে। উপজেলার কয়েকজন সুনামধন্য ব্যবসায়ী জানান, এবছর যারা আগাম আম ভেঙ্গে চালান দিয়েছে তারা অন্যবারের ন্যায় অধিক দাম পায়নি। এর প্রধান কারণ করেনা সংকটের কারনে লক ডাউন এবং দ্বিতীয় কারণ গণমাধ্যম কর্মীদের মাধ্যমে বেশি-বেশি সংবাদ প্রকাশ।
উপজেলার বলিহার গ্রামের আম বাগান মালিক খালেদুল ইসলাম, বাঘার মুক্তার হোসেন এবং পাকুড়িয়ার আশরাফুদৌল্লা বলেন, রাজশাহীকে আমের জন্য বিখ্যাত বলা হলেও আম প্রধান অঞ্চল হিসাবে খ্যাত জেলার চারঘাট-বাঘা এবং চাপাই নবাবগঞ্জকে ঘিরে।
এ দিকে থেকে বাঘার আমকে সু-স্বাধুর দিক থেকে ঢাকার ব্যবসায়ীরা দেশ বিখ্যাত আখ্যা দিয়েছেন। মাটিগত কারনে এ অঞ্চলের আম গত কয়েক বছর ধরে দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশে রপ্তানী হচ্ছে।
কিন্ত মৌসুমের শুরুতে কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ীরা অতি গোপনে অপরিপক্ক আম ভেঙ্গে দেশের বিভিন্ন শহরে চালান দেওয়ায় এ অঞ্চলের আমের যে শুনাম তা নষ্ট হচ্ছে। এ দিক থেকে এ বছর যারা আগাম আম পাঠিয়েছেন তারা ন্যায্য দাম না পাওয়ায় বড়ই বিপাকে রয়েছেন। এ অঞ্চলের বাগান মালিকদের দাবি,অসাধু ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় এনে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জরিমান করা হউক।
উপজেলা কৃষি বিভাগের দেয়া তথ্য মতে, বাঘায় আম বাগান রয়েছে প্রায় সাড়ে চার হাজার হেক্টর জমিতে। খাদ্য শস্যের পাশা-পাশি অর্থকরী ফসল হিসেবে এখানে আমই প্রধান। প্রতিবছর বাঘা উপজেলার কৃষকরা শুধু আম বিক্রি করে অর্থ উপারজন করেন ৬ থেকে ৭শ কোটি টাকা। অনুরুপ অর্থ উপারজন করেন পাশ্ববর্তী চারঘাট উপজেলার আম চাষীরা।

মে ২৩
০৫:২১ ২০২১

আরও খবর