Daily Sunshine

তুলশীগঙ্গা পুনঃখননে ৫ হাজার হেক্টর ফসল ঘরে তোলার স্বপ্ন

Share

মতলুব হোসেন, জয়পুরহাট: জয়পুরহাটের তুলশীগঙ্গা নদী পুনঃখনন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ সংস্কার হওয়ায় জয়পুরহাট সদর, ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুর উপজেলার প্রায় পাঁচ হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন ফসল ঘরে তোলার স্বপ্ন দেখছেন এলাকার কৃষক। দীর্ঘদিন থেকে নদী পুনঃখনন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ সংস্কার না হওয়ায় প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে প্রায় তিন দশক থেকে রোপা আমন ঘরে তুলতে পারেনি এলাকার কৃষকরা। সামান্য বৃষ্টিতে ডুবে যেত এসব ফসলের মাঠ। এতে কষ্টে দিন কাটতো কৃষকদের। কৃষকের সেই কষ্ট লাঘবে নদী খনন ও বাঁধ পুনঃ নির্মাণের কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এরই মধ্যে নদী পুনঃখনন ও বাঁধ সংস্কারের প্রায় ৮০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ফলে বন্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ফসলের স্বপ্ন দেখছে এলাকার কৃষকরা।
জানা গেছে, জয়পুরহাট সদর ক্ষেতলাল আক্কেলপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠ চিরে বয়ে গেছে তুলশীগঙ্গা নদী। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি অপসারণ এবং খরা মৌসুমে নদীর পানি ব্যবহার করে ফসল চাষের জন্য ১৯৯২ সালে নদীর উভয় তীরে নির্মাণ করা হয় ৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ।
একই সাথে নদীর পানি ফসল উৎপাদনের জন্য বাঁধের উভয় তীরে নির্মাণ করা হয় ১৭ টি সুইসগেট। কিন্তু নদী ভরাট হওয়ায় প্রতি বছর বর্ষার মৌসুমে জয়পুরহাট সদরের বানিয়াপাড়া, সোটাহার, সতীঘাটা, ক্ষেতলালের বটতলী, ইকরগাড়া, হাওয়ার বিল, সন্যাসতলী, দেওগ্রাম, জিয়াপুর, আমিরা, মহব্বত পুর এবং আলেপুরের সোনামুখী, হাম্ভাবসন্তপুর, জাফরপুর, ছিরামপুর মাঠ পানিতে ডুবে থাকে। নদী দিয়ে পানি অপসারণ না হওয়ায় প্রায় দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে এসব পানি মাঠে থাকায় রোপা আমন ধান উৎপাদন করতে পারে না এলাকার কৃষক। আর সেই থেকে কৃষকরা দাবি করে আসছিল নদী পুনঃখনন ও বাঁধ সংস্কারের।
প্রায় তিন দশক পর তুলশীগঙ্গা নদীর সাড়ে ৪১ কিলোমিটার পুনঃখনন এবং নদীর উভয় তীরের ৩০ দশমিক ৬৭ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ সংস্কার কাজ শুরু হয় গত বছরের জুলাই মাসে। আর এজন্য সরকারি বরাদ্দ মিলেছে ৭৪ কোটি টাকা। বর্ষার আগেই নদী খনন ও বাঁধ সংস্কার প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষের দিকে।
স্থানীয়রা বলেন, ভারি বৃষ্টিপাত হলেই নদীর তীরের বাঁধ উছলে পানি প্রবেশ করে মাঠে। বিস্তির্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে হাজার হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন ফসল তলিয়ে যায়। সেই সাথে ডুবে যায় নদী তীরবর্তী প্রায় ১৫ থেকে ২০ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। নদীটি যেভাবে খননের পাশাপাশি বাঁধও সংস্কার করা হয়েছে, তাতে আশা করছি এ অঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষের কষ্ট লাঘব হবে।
ক্ষেতলাল উপজেলার মহব্বতপুর সাখিদারপাড়া গ্রামের কৃষক মহির উদ্দিনসহ অন্যরা বলেন, নদীর পূর্ব পাড়ে হাওয়ার বিলে আমাদের গ্রামের অধিকাংশ কৃষকের জমি। আমরা জমিগুলো থেকে কোন দিন রোপা আমন ফসল ঘরে তুলতে পারিনি। কারণ বর্ষার সময় নদীর পানি আমাদের ফসল ডুবে দেয়।
নদী খনন এবং বাঁধ সংস্কারের কাজ এক সাথে করায় ফসল ছাড়াও ঘরবাড়ি ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা দূর হয়েছে। এবার রোপা আমন ফসল আমাদের ঘরে উঠবে। জয়পুরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বলেন, নদী খননের আগে ফসলহানি ঘটতো প্রতি বছর। খননের ফলে কৃষকরা এখনঅনেক লাভবান হবেন।
জয়পুরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী তাজমিনুর রহমান বলেন, তুলশীগঙ্গা নদী পুনঃখনন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ সংস্কারের প্রায় ৮০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। আশা করছি নির্দিষ্ট সময়ে অবশিষ্ট কাজও শেষ হবে। আর এ কাজ সম্পন্ন হলে এ অঞ্চলের অর্থনীতি অনেক সমৃদ্ধ হবে।

মে ২৩
০৫:০৪ ২০২১

আরও খবর