Daily Sunshine

নগরীতে রাজাকার থেকে শহীদ দাবি, বিস্মিত মুক্তিযোদ্ধার পরিবার!

Share

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী নগরীতে আরডিএ নকশা বহির্ভূতভাবে দোতলা বাড়ি নির্মাণের চেষ্টাকালে বাধার মুখে পড়ে এক রাজাকার পরিবার নিজেদের শহীদ পরিবার দাবি করে করুনা নেয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে এলাকাছাড়া করতে তাদের হামলা চালানো ও প্রাণনাশের হুমকি-ধামকি প্রদানেরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার (২১ মে) দুপুরে রাজশাহী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেছেন মো. তানজিলাল নামে এক ব্যক্তি। তিনি নগরীর ষষ্টিতলা এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা আকসেদ হোসেন মোজ্জাম্মেল হকের ছেলে।
সংবাদ সম্মেলনে মো. তানজিলাল বলেন, আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সন্তান। আমার ভাই বিজিবিতে কর্মরত ছিলেন। আমার বাবা ও ভাই দেশের জন্য লড়াই করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হন। আমাদের এক প্রতিবেশী মোবারক হোসেন আরডিএ নিয়ম ভেঙ্গে অবৈধভাবে দোতলা বাড়ি নির্মাণ শুরু করায় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় আমি গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) অভিযোগ করি। পরে ৩ মার্চ আরডিএ থেকে নির্মাণকাজ বন্ধ করতে বলা হয়।
তিনি বলেন, অভিযোগ দেয়ায় গত ২২ এপ্রিল রাজাকার পরিবারের সদস্য মোবারক ও এলকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী মামুন, ভোলা, আনোয়ার লেলিন, শান্তুুনুসহ তাদের সংঘবদ্ধ গ্রুপ আমাদের ওপর হামলা চালায়। শ্লীতাহানি করে আমার স্ত্রীর। প্রাণনাশের হুমকি দেয় আমাকে। এসব ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে বিজিবি রাজশাহীর সেক্টর কমান্ডারের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করি। পরে সেটি বোয়ালিয়া মডেল থানায় তদন্তের চন্য পাঠানো হয়। তবে এখনো কোনো নিরাপত্তা পাইনি আমরা।
তানজিলাল জানান, ওই সন্ত্রাসী বাহিনী বাঁচার জন্য বৃহস্পতিবার (২০ মে) উল্টো সংবাদ সম্মেলন করে তারা নিজেদেরকে সংখ্যালঘু ও শহীদ পরিবারের সদস্য পরিচয় দিয়েছে। যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। স্থানীয় শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রুপের গডফাদার মামুনকে ২০০৭ সালের ২০ জুলাই র‌্যাবের সঙ্গে গুলি বিনিময় করে আহত হয়। অতীতে বিএনপি সরকারের আমলে রেলওয়ে, কাস্টমস ও পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিসে ত্রাসের রাজত্ব কায়েক করে সে।
এছাড়া এর আগে ১৯৮০ সালে শাহানাজের বাবা মো. বারিক আমাদের ওপর অত্যাচার করে। আর তার মা তাসলিমা অনৈতিক কর্মকান্ড করে ধরা পড়ে। সেসময় বিজিবি রাজশাহী থেকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়। আর মোবারকের বাবা মোকবুল ভারত থেকে খুন করে এদেশে পালিয়ে আসে।
তারা তো শহীদ পরিবারের নয়ই, বরং তারা রাজাকার পরিবারের সন্তান। আবারো তারা জাগ্রত হয়েছে। তাদের অত্যাচারে বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবার চরম হুমকিতে। সংবাদ সম্মেলন থেকে তানজিলাল তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতপূর্বক ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি।
এ বিষয়ে মো. মোবারক হোসেন জানান, তারাই শহীদ পরিবারের সদস্য। তার স্ত্রীর নানা বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। নিয়ম মেনে নিজেদের জমিতে তিনি বাড়ি নির্মাণ করছেন।
এ ব্যপারে অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা আরএমপির বোয়ালিয়া মডেল থানার এএসআই নাজমুল ইসলাম বলেন, বাড়ি নির্মাণের ঘটনায় থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। উভয়পক্ষকে নিয়ে বসে সমাধান করে দেয়া হবে।

মে ২২
০৪:১৮ ২০২১

আরও খবর