Daily Sunshine

আজ বিশ্ব মেডিটেশন দিবস

Share

সানশাইন ডেস্ক : আধুনিক মানুষের সুস্থ জীবনযাপনের পথে সবচেয়ে বড় হুমকি স্ট্রেস। হৃদরোগ, ক্যান্সার, ফুসফুসের জটিলতা, লিবার সিরোসিসসহ আরো নানা রোগের মূলে রয়েছে স্ট্রেস। এগুলো নিরাময়ে স্বাস্থ্যখাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়ের পরিমাণ ১৯০ বিলিয়ন ডলার।
এই সমস্যা মোকাবেলায় সে-দেশের শত শত হাসপাতালে চিকিৎসকরা প্রতিরোধমূলক যত্ন হিসেবে রোগীদের যোগ-মেডিটেশন প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন।
হার্ভার্ডের ফিজিওলজিস্ট ওয়াল্টার ক্যানন আজ থেকে প্রায় ১০০ বছর আগেই আবিষ্কার করেন যে, আমরা যখন স্ট্রেসড হই তখন আমাদের রক্তচাপ, হৃদস্পন্দন, মাংসপেশীর চাপ এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি বেড়ে যায়। হার্ভার্ডেরই আরেক গবেষক ডা. হাবার্ট বেনসন ১৯৬৭ সালে দেখান যে, মেডিটেশন আমাদের শরীরে স্ট্রেসের ঠিক বিপরীত প্রতিক্রিয়া ঘটায় অর্থাৎ রক্তচাপ, হৃৎস্পন্দন, মাংসপেশীর চাপ এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের গতিকে স্বাভাবিক রাখে। তার লেখা ‘দা রিলাক্সেশন রেসপন্স’ বইয়ে তিনি বলেছেন, স্টেসের কারণে আমাদের দেহে যে ফাইট অর ফ্লাইট রেসপন্স সৃষ্টি হয় সেটিকে প্রশমিত করে মেডিটেশন মন ও দেহকে অধিকতর শান্ত ও সুখী অবস্থায় নিয়ে আসে। বইটি ছিল সর্বাধিক বিক্রিত। অন্যান্য গবেষণায় দেখা গেছে যে, মেডিটেশন আমাদের দেহে স্ট্রেসের জন্যে দায়ী হরমোন কর্টিসলের নিঃসরণ কমিয়ে দেয়। ক্রনিক স্ট্রেস আমাদের শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বাড়িয়ে দিয়ে বয়স বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে এবং ক্যান্সার, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, রিউমাটয়েড আথ্রাইটিস, এজমা সোরিয়াসিসের মতো মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করে।
গবেষণায় দেখা গেছে, মেডিটেশন অক্সিডেটিভ স্ট্রেস হ্রাস করে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ২০০৬ ও ২০০৮ সালে গবেষক ড্যান উইজক ও তার সহকর্মীরা ৬০ জন স্বেচ্ছাসেবকের ওপর এক অভিনব পদ্ধতি আলট্রা উইক ফোটন ইমিশন মেসারমেন্ট প্রয়োগ করে তাদের দেহকোষে বিক্রিয়াশীল অক্সিজেন পরিমাপ করেন এবং দেখতে পান যে, যারা নিয়মিত মেডিটেশন করেন তাদের দেহে এই ফোটন রেডিয়েশন এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের মাত্রা অনেক কম। স্ট্রেস থেকে মুক্তি না পেলে শরীর মন পেশা সবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কাজেই এতসবের ক্ষতি না করে প্রতিদিন নিয়মিত মেডিটেশন করাই বুদ্ধিমানের কাজ। বিশ্বে মেডিটেশন দিবস এই বার্তাটিই নিয়ে এসেছে।

মে ২১
০৪:৪৬ ২০২১

আরও খবর