Daily Sunshine

দূরপাল্লার বাস বন্ধ তবুও থেমে নেই ঢাকা যাত্রা

Share

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীসহ সারাদেশে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে নানা পন্থায় রাজশাহী থেকে ঢাকা বা ঢাকা থেকে রাজশাহীর উদ্দেশে মানুষের যাত্রা থেমে নেই। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এক শ্রেণীর মানুষ যাত্রীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ। রাজশাহী থেকে ঢাকা যেতে মাইক্রোতে নেয়া হচ্ছে এক হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার টাকা। আর ট্রাকে করে গেলে নেয়া হচ্ছে এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৩০০ টাকা।
দূরপাল্লার পরিবহণ শ্রমিকদের দাবি সরকারি সিদ্ধান্তকে শ্রদ্ধা জানিয়ে তারা বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে। তবে প্রশাসনের নাকের ডাগায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গাদাগাদি করে মাইক্রো ও ট্রাকে করে মানুষকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হলেও এদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। অথচ করোনার দোহাই দিয়ে দিনে পর দিন পরিবহণ বন্ধ থাকায় তাদের শ্রমিকরা না খেয়ে দিনাতিপাত করছেন নয়তো মারা যাচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা যান নগরীর সিরোইল বাস টার্মিনাল, দরিখরবোনা, সিরোইল কলোনী, ভদ্রা, বেলদারপাড়ার মতো এলাকা থেকে প্রকাশ্যে মাইক্রোতে গাদাগাদি করে যাত্রীদের তোলা হচ্ছে দূর গন্তব্যে। একই ভাবে ট্রাকে করেও যাত্রী নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
সিরোইল কলোনী এলাকার মাসুদ জানান, প্রতিদিন খাদ্য গুদামের কাছ থেকে বিকেলে দুইটা বা একটা করে মাইক্রো দাড়িয়ে থাকে, সেখান থেকে যাত্রী তোলা হয়। ফোন দিয়ে যাত্রীদের ডেকে নেয়া হয়। তাদের দালাল স্টেশন, বাসটার্মিনাল ও মাইক্রো স্ট্যান্ডগুলোতে সেট করা আছে। মাইক্রোতে ঢাকায় যেতে নেয়া হচ্ছে ১৮শ থেকে ২ হাজার টাকা। স্বাভাবিক সময়ে ঢাকা কোচে এই ভাড়া ছিল ৫০০ থেকে সাড়ে ৫০০ টাকা।
নগরীর ভদ্রা এলাকার ব্যবসায়ী করিম মোল্লা জানান, সরকারি সিদ্ধান্তের ওপর শ্রদ্ধা রেখে বলতে চাই, সবই যখন স্বাভাবিক আছে তবে কেন অহেতুক মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। দূরপাল্লার বাসগুলো স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলাচলের অনুমতি দিলে সাধারণ মানুষদের অহেতুল অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হতো না বা হয়রানিতে পড়তে হতো না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেলদারপাড়া মাইক্রো স্ট্যান্ডের একজন মাইক্রো চালক জানান, যাত্রীদের চাহিদার ওপর তারা মাইক্রো নিয়ে বের হচ্ছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রসঙ্গে তিনি জানান, রাস্তায় পুলিশকে টাকা দিতে হয়। এছাড়া বঙ্গবন্ধু সেতুতেও অতিরিক্ত টাকা দিতে হচ্ছে। এসব কারণে তারা ভাড়া বেশি নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ফেডারেশনের রাজশাহী বিভাগীয় আঞ্চলিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব হোসেন চৌধুরী জানান, করোনা মহামারি রোধে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুসারে ঘর থেকে মানুষ বের হবে না। দূরপাল্লার গাড়ি চলবে না। আমরা সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে মাঠ পর্যায়ের প্রশাসন বিশেষ করে পুলিশ সরকারের সেই আদেশ বাস্তবায়ন করতে পারেনি। তারা দূলপাল্লার বাস চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করেছে। অথচ আমরা দেখছি পুলিশের চোখের সামনে দিয়ে রাস্তায় মাইক্রো ও ট্রাকে গাদাগাদি করে যাত্রী তোলা হচ্ছে এবং ঢাকার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আবার ঢাকা থেকে এসব যানবাহনে একই ভাবে যাত্রী রাজশাহীতে আসছে। এর জন্য যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। অথচ প্রশাসন এসব যানবাহনের বিষয়ে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে আমাদের পরিবহণ শ্রমিকরা না খেয়ে, চিকিৎসার টাকা জোগাড় না করতে পেরে মারা যাচ্ছে। এমন অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য আমরা সরকারের কাছে দাবি রাখতে চাই, আমাদেরকে স্বাস্থ্য বিধি মেনে দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল করতে অনুমতি দেয়া হোক। এতে করে যাত্রী ও পরিবহণ সংশ্লিষ্ট সকলেরই স্বার্থ রক্ষা হবে।

মে ১৯
০৫:২৪ ২০২১

আরও খবর