Daily Sunshine

পাকা ধানে হঠাৎ পোকার আক্রমণ

Share

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর পবার বড়গাছিসহ অন্যান্য স্থানে হঠাৎ করে চলতি মৌসুমের আধাপাকা বোরো ধানের ক্ষেতে হানা দিয়েছে কারেন্ট ও নেকব্লাস্ট পোকা। ধান কাটার আগ মহুর্তে কারেন্ট ও নেকব্লাস্ট পোকা হানা দেওয়ায় কৃষকেরা আতঙ্কে আছেন। ভবিষ্যত চিন্তায় নির্ঘুম রাত কাটছে তাদের। অথচ কৃষি কর্মকর্তারা ক্ষেতে না যেয়ে জুম সভার মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেই তেমন ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছেন।
রাজশাহী জেলায় এবারে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশী জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। জেলায় লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৫ হাজার ২৫০ হেক্টর। আর আবাদ হয়েছে ৬৬ হাজার ৭৩২ হেক্টর। আর পবা উপজেলা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ হাজার ১১০ হেক্টর। আবাদ হয়েছে ৪ হাজার ৩৯০ হেক্টর জমিতে।
পবা উপজেলার বড়গাছির মাধরপুর, কাঞ্চিয়াপাড়া ও তালগাছি এলাকায় প্রায় তিনশো’ বিঘা জমিতে কারেন্ট ও নেক ক্লাস্ট পোকার আক্রমন দেখা দিয়েছে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে চাষিরা। বহুজাতিক ব্যবসায়ী কোম্পানির কীটনাশক দিয়েও ধান নস্ট হওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। শীঘ্রই ব্যবস্থা না নিলে একদিকে ধান কাটতে হবে না চাষিদের এবং অন্যদিকে লাখ লাখ টাকার লোকসান গুণতে হবে।
সোমবার সরোজমিনে গ্রামের মাঠে ক্ষেতে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি ধানের শীষ ঠিকই আছে কিন্তু কোন শীষেই ধানের খোসল থাকলেও চাল নেই। শীষের গোড়ায় কালো-সাদা সিটা দাগ আছে। এছাড়াও ধানেও ওই কালো-সাদা সিটা আছে। মূলত: এসব ধানের প্রতিটি থোকায় ধান নেই আছে চিটা।
ক্ষেতে উপস্থিত হওয়ার সাথে ১০-১২ জন কৃষক ছুটে আসেন। সেখানে কথা হয় মাধবপুর গ্রামের মুনতাজ আলীর ছেলে আহসান হাবিব ও একই গ্রামের বারিক হোসেনের ছেলে বেলাল উদ্দিন, কাঞ্চিয়াপাড়ার দুখাই মন্ডলের ছেলে এরশাদ আলী এবং আশরাফ আলীর সাথে। তারা বলেন, বিকালে ভালো ধান জমিতে দেখে গেলে সকালে গিয়ে জমিতে ধানের শীষে সাদা চিটা থাকলেও দানা থাকে না। এই সংকট কালে চাষীরা দিশেহারা হয়ে বিভিন্ন কোম্পানির নামিদামি ব্যান্ডের কীটনাশক ওষুধ ছিটিয়ে কোনা কাজে আসছে না।
জানা যায়, এই উপজেলার ২টি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়নে দিগন্ত জুড়ে পাকা ধানের সোনালী রঙের ঝিলিক ছিল। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও পোকার আক্রমন ছাড়া কৃষকেরা আগাম ধান ধান কেটে ঘরে তুলেছে। তবে আলু তুলে নামলা (দেরীতে) লাগানো ধানের ক্ষেতে কারেন্ট ও নেকব্লাস্ট পোকার আক্রমনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে তারা। বিশেষ করে এই উপজেলার বড়গাছি এলাকায় ব্যাপক জমিতে আলু চাষ হয়ে থাকে। পাশাপাশি বোরো ধানও রোপন হয়ে থাকে দেরিতে। আগাম ধান ঘরে তুললেও নামলা ধান ঘরে তুলতে পারিনি।
চাষি আহসান হাবিব জানান, এই এলাকায় বেশীরভাগ চাষিরাই জমি লীজ নিয়ে বোরো ধানের অবাদ করে থাকে। চলতি মৌসুমেও বোরো ধানের ভাল ফলনের বুকভরা আশা করলেও ধান কাটার আগ মহুর্তে ধানধ্বংসকারি কারেন্ট পোকা হানা দেওয়ার কারণে সব শেষ হয়ে যাচ্ছে। নানা জাতের ওষুধ ছিটিয়েও কাজ হচ্ছেনা।
রাস্তা দিয়ে যাওয়া মোহনপুর উপজেলার ধোড়সা গ্রামের কোবাদ আলীর ছেলে মহসীন আলী জানান, তার ধোড়সা গ্রামের মাঠে দেড় বিঘা জমিতে ধানের আবাদ রয়েছে। এরমধ্যে ১২ কাঠা জমিতে পোকার আক্রমন হয়েছে। কোন কিছুতেই আক্রমন থামছে না।
পবার কাঞ্চিয়াপাড়া এরশাদ আলী জানান, তিনি বিঘা প্রতি সাত হাজার টাকায় জমি লীজ নিয়ে ধানের আবাদ করেছেন। তার মত অনেকের জমিতে ধান কাটতে যেতে হবে না। তালগাছি গ্রামের কৃষক মিন্টুও একই কথা বলেন।
এদিকে একটি সূত্র বলছে, ওই এলাকার উপসহাকরি কৃষি কর্মকর্তা চাষির এই দুর্যোগের সময়ে ঈদ কাটাতে গিয়েছিলেন নিজ গ্রামে। চাষিরা অভিযোগ করেন তিনি থাকলে হয়তো আবাদের এতটা ক্ষতি হতো না। তবে তার ছুটির বিষয় অস্বীকার করেছেন পবা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা।
এব্যাপারে বড়গাছি ১নং ব্লকের উপ সহকারি কৃষি কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন বলেন, ঈদের আগে বড়গাছির কাঞ্চিয়াপাড়া, মাধবপুর, কালুপাড়া বিলে বেশ কিছু কৃষকের জমিতে নেক ব্লাস্ট ও কারেন্ট পোকার আক্রমন দেখা দিয়েছিল। পোকা দমনে মসজিদে মাইকিংসহ পাশে থেকে চাষিদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। চাষিরা সেইমত ব্যবস্থা নেয়ায় এখন পোকার আক্রমন নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। মাঠে সার্বক্ষনিক নজর রাখা হচ্ছে।
পবা উপজেলা কৃষি অফিসার শারমিন সুলতানা জানান, আবহাওয়াগত কারণে কিছু জমিতে পোকার আক্রমন হয়েছে। কৃষকদের প্রতিনিয়ত পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। বিশেষ করে দেরিতে লাগানো ধানে পোকার আক্রমন হচ্ছে। ফলন কিছুটা কম হলেও কৃষকের লোকসান হবে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। মাঠ পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রতিদিনই জুম সভায় এসব নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। প্রতিকারের বিষয়টিও কৃষকদের জানানো হচ্ছে।
তিনি জানান, মৌসুমের শেষ মহুর্তে কারেট পোকার আক্রমণ হচ্ছে। বৃষ্টি হলে হয়তো এমন হতো না। তবে চাষিদেরকে আমরা বিভিন্ন প্রকারের কীটনাশক ছিটানোর পরামর্শ দিচ্ছি। আশা করছি উৎপাদনের তেমন ক্ষতি হবেনা।

মে ১৮
০৪:৫৬ ২০২১

আরও খবর