Daily Sunshine

বাঘায় ঈদে আকাশ ছুঁয়েছিল মিষ্টির দাম

Share

স্টাফ রিপোর্টার, বাঘা: রাজশাহীর বাঘায় প্রায় ৫ শত বছর ধরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে ঐতিহাসিক ঈদ মেলা। এ মেলায় দুর-দুরান্ত থেকে হরেক রকম (পসরা) পন্য নিয়ে আসত ব্যাসায়ীরা। এদের মধ্যে থাকতো প্রায় শতাধিক মিষ্টির দোকান। কিন্তু গত বছর থেকে মহামারি করোনা সংকোটের কারনে বন্ধ রয়েছে এই মেলা। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় মিষ্টি ব্যবসায়ীরা এখন ২শ টাকা দামের মিষ্টি বিক্রী করছে ৩৫০ থেকে ৪ শ টাকা। এ ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনাসহ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিঙ্গ মহল। ঈদের সময় মিষ্টি হাতে করে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে দাওয়াত খেতে যাওয়ার প্রচলন দীর্ঘ দিনের। বিশেষ করে ঈদ মেলা থেকে মিষ্টি কিনে জামাই-তার শশুর বাড়ি যাচ্ছে এমন দৃশ্য প্রতিয়মান। যার ব্যত্যয় ঘটেনি এবারও। তবে বিশ্ব ব্যাপী করোনা ভাইরাস আক্রমনের কারনে গত বছর থেকে এখানে ঈদ মেলা বন্ধ রয়েছে। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে মিষ্টির দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন অত্র এলাকার ব্যবসায়ীরা।
বাঘার আমোদপুর গ্রামের স্কুল শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক জানান, প্রয়াত বাবার মুখে শুনেছি আমাদের প্রিয় নবী হজরত মোহাম্মদ (সা:) এক মাস সিয়াম সাধনের পর সকালে মিষ্টি মুখ করে নাকি-ঈদগাহে নামাজ পড়তে যেতেন। সেই সূত্র ধরে বাবা প্রতি ঈদের-আগের দিন ইফতার করে মেলা থেকে হরেক রকম মিষ্টি বাড়িতে নিয়ে আসতো। আর আমরা কয়েক ভাই ঈদের দিন সকালে বাবার সাথে মিষ্টি-লুচি খেয়ে ঈদগাহে যেতাম।
তিনি বলেন, এ রেওয়াজ এখনও প্রচলিত আছে। তবে পর-পর দুই বছর এখানে ঈদ মেলা না হওয়ায় স্থানীয় মিষ্টি ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে সকল প্রকার মিষ্টির দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। যা দেখেও না দেখার ভান করছেন স্থানীয় প্রশাসন।
মিষ্টির দাম বাড়ানো প্রসঙ্গে উপজেলা সদরে অবস্থিত গৌর মিষ্টান্ন ভান্ডরের সাথে কথা বললে তারা বলেন, সবাই দাম বাড়িয়েছে তাই আমরাও বাড়িয়েছি।
এ বিষয়ে বাঘা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাড. লায়েব উদ্দিন লাভলু বলেন, ঈদ উপলক্ষে হটাৎ করে মিষ্টির দাম আকাশ সোয়া হয়েছে। অথচ-চিনি, দুধ এবং আটার দাম স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি জনস্বার্থে বিষয়টি দেখভালের জন্য স্থানীয় প্রশাসন এবং গনমাধ্যম কর্মীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
এ বিষয়ে বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিয়য়টি দেখবেন বলে জানান।

মে ১৭
০৪:০৮ ২০২১

আরও খবর