Daily Sunshine

১৯ দিনে ভার্চুয়াল শুনানিতে জামিনে মুক্ত ৩৩ হাজার বন্দি

Share

সানশাইন ডেস্ক: মহামারীর কারণে সরকার ঘোষিত ‘সর্বাত্মক লকডাউন’র মধ্যে সীমিত পরিসরে চলা দেশের অধস্তন আদালত থেকে এ পর্যন্ত ৩৩ হাজার ৮৫০ কারাবন্দি জামিনে ছাড়া পেয়েছেন। করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার পর গত ১২ এপ্রিল থেকে রোববার পর্যন্ত মোট ১৯ কার্যদিবসে ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে শুনানি করে এসব বন্দিদের জামিন দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র মোহাম্মদ সাইফুর রহমান।
তিনি সোমবার বলেন, দেশে আইনের শাসন বলবৎ রাখতে এবং জনগণের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় করোনাভাইরাসের এই অতিমারির মধ্যেও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ, চেম্বার আদালত ও হাই কোর্ট বিভাগে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে আদালতের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অনুরূপভাবে অধস্তন দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত এবং ট্রাইব্যুনালগুলোতেও ভার্চুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে জামিন ও জরুরি বিষয়ের শুনানি এবং নিষ্পত্তি হচ্ছে।
“শুধু তাই না, প্রধান বিচারপতির আদেশে গত ২৭ এপ্রিল দেওয়া সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী দেশের অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালগুলোর আদেশের প্রত্যায়িত অনুলিপি (ফটো-সার্টিফাইড কপি)অতি স্বল্প সময়ে মধ্যে প্রদান করা হচ্ছে। ফলে মামলার পক্ষগণ খুব সহজেই তা সংগ্রহ করে উচ্চতর আদালতে দাখিল করতে পারছেন।” এ কর্মকর্তার জানান, রোববার পর্যন্ত ১৯ কার্যদিবসে ভার্চুয়াল শুনানি করে সারাদেশে অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালে ৬৩ হাজার ১০৯টি মামলায় জামিন আবেদনের নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
এসব আবেদনে মোট ৩৩ হাজার ৮৫০ কারাবন্দি ব্যক্তি জামিনে কারাগার মুক্ত হওয়ার পাশাপাশি শিশু আদালত থেকে ৪৭০ শিশুর জামিন হয়েছে। সাইফুর রহমান জানান, গত বছরের ১৩ জুলাই থেকে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের ভার্চুয়াল আপিল বেঞ্চে ১০ হাজার ৩টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। তিনি বলেন, “এই চরম দুঃসময়ে বিচারক, আইনজীবী এবং আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জীবনবাজী রেখে অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে যাচ্ছেন। অধস্তন আদালত থেকে সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে অতিমারি মোকাবেলার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে ন্যায়বিচার প্রাপ্তির দ্বার উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।”
তিনি জানান, করোনাভাইরাসের এই মহামারীকালে আদালতে বিচারকাজ পরিচালনা ও দায়িত্ব পালন করে উচ্চ আদালতের বিচারপতি, অধস্তন আদালতের বিচারক এবং আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলিয়ে এ পর্যন্ত ৯১০ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৮৭৮ জন। আর বিচারকসহ ৭ জন কর্মচারী মারা গেছেন। বাকিরা চিকিৎসাধীন।
করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের বিস্তার ঠেকাতে সরকার প্রথম দফায় গত ৫ এপ্রিল থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে শপিং মল, দোকান-পাট, হোটেল-রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি গণপরিবহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেয়। ওই দিনই সীমিত পরিসরে দেশের আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত আসে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের কাছ থেকে। বিচার বিভাগ প্রধানের আদেশে এ সংক্রান্ত আলাদা তিনটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।
এসব বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৬ এপ্রিল থেকে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে শুধু আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত, হাই কোর্টের চারটি বেঞ্চ চালু থাকবে। আর মুখ্য বিচারকি হাকিম বা মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালত সীমিত পরিসরে চালু থাকবে, তবে সব অধস্তন আদালত বা ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
এরপর গত ১৩ এপ্রিল আরেক বিজ্ঞপ্তিতে ভার্চুয়ালি সীমিত পরিসরে আপিল বিভাগের বিচারকাজ পরিচালনার কথা জানানো হয়। এর আগের দিন অর্থাৎ গত ১২ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সর্বাত্মক বিধিনিষেধ ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়, যেটিকে ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ বলা হচ্ছে। এ সময়ে ১৩টি নির্দেশনা দেওয়া হয় সরকারের পক্ষ থেকে।
এর আগে গত বছর মার্চে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করে দেশের সব আদালতেও সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। ওই সময় দেশের বিচার ব্যবস্থা কার্যত বন্ধ ছিল। পরে সুপ্রিম কোর্টের অনুরোধে মামলার বিচার, বিচারিক অনুসন্ধান, দরখাস্ত বা আপিল শুনানি, সাক্ষ্য বা যুক্তিতর্ক গ্রহণ, আদেশ বা রায় দিতে পক্ষদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে আদালতকে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষমতা দিয়ে গত বছর ৯ মে অধ্যাদেশ জারি করা হয়।
এরপর ১০ মে সুপ্রিম কোর্ট ভিডিও কনফারেন্সসহ অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে আদালতের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ‘প্র্যাকটিস’ নির্দেশনা জারি করে। পরদিন দেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে প্রথম ভার্চুয়াল আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি কমতে থাকলে প্রথমে কিছু ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শারীরিক উপস্থিতিতে নিম্ন আদালত চালু করা হয়।
এক পর্যায়ে শারীরিক উপস্থিতির মাধ্যমে হাই কোর্টেও চালু করা হয় কয়েকটি বেঞ্চ। পাশাপাশি ভার্চুয়াল আদালতও চালু থাকে। তবে দেশের সর্বোচ্চ আদালত অর্থাৎ আপিল বিভাগ এবং চেম্বার আদালত তখন থেকেই ভার্চুয়াল প্লাটফর্মেই চলছে।

মে ১১
০৫:০৬ ২০২১

আরও খবর