Daily Sunshine

নগরীতে সংবাদ সম্মেলনে বাড়ির মালিকানা দাবি

Share

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী মহানগরীর রাণীবাজার মিয়াপাড়া এলাকার একটি টিনশেড বাড়ি নিয়ে দুই ব্যক্তির মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। দুজনেই দাবি করছেন, বাড়িটি তাঁর কেনা। এ নিয়ে এক ব্যক্তি থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়ার পর আরেক ব্যক্তি সংবাদ সম্মেলন করেছেন। দুজনেই বাড়িটির মালিকানা দাবি করেছেন।
রোববার দুপুরে মোসাদ্দেক হোসেন লাভলু নামের এক ব্যক্তি ভাঙাচুরা ওই বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। এরআগে গত ৪ মে হারুন-অর-রশীদ থানায় অভিযোগ করেন যে, তাঁর বাড়িটি দখলের চেষ্টা চলছে। দুই লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে বাড়িটি ভাঙচুরও করা হয়েছে।
হারুন চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দরের একজন আমদানি-রপ্তানিকারক। থানায় দেয়া অভিযোগে তিনি বলেন, ২০১৬ সালে তিনি টিনশেড বাড়িসহ ২ শতাংশ জমি কেনেন। ২০২০ সালে তিনি সেখানে একটি ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা করেন। খবর পেয়ে নগরীর ১২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আহসান হাবীব ওরফে হাসান ও আওয়ামী লীগ নেতা লাভলু ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হারুন ২ লাখ টাকা চাঁদা দিয়েই নির্মাণকাজে হাত দেন। পরে করোনার কারণে আর কাজ তেমন এগোয়নি। হঠাৎ গত ৩০ এপ্রিল সকালে লাভলু ও হাসান জোর করে তার বাড়িতে প্রবেশ করেন। তাঁরা আরও ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। কিন্তু তিনি এবার চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে বাড়ি ঘরে ভাঙচুর চালান। হারুনের থানায় এ অভিযোগ করার পর এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়। এরপর লাভলু রোববার সংবাদ সম্মেলন করলেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমার স্ত্রীর নামে ২০১৭ সালে টিনশেড বাড়িসহ এই জমি কিনি। কেনার পর ২০১৭ সাল থেকে বাড়িটি গুদাম হিসেবে ভাড়া দিয়ে রাখি। গত ৩০ এপ্রিল বাড়িটি সংস্কারের জন্য মিস্ত্রি লাগিয়ে কাজ শুরু করি। আর এরপরই ৪ মে রাতে তাঁর নামে থানায় অভিযোগ করা হয়।’ লাভলু বলেন, ‘জমি কেনার পর চার বছরেও হারুন কোনদিন আমার সাথে যোগাযোগ করেননি। এমনকি তিনি আমাকে চেনেনও না। বোয়ালিয়া থানার ওসি নিবারণ চন্দ্র বর্মনের কাছে স্বীকার করেছেন যে তার সাথে আমার কোন বিবাদ নেই। কিন্তু তাঁর অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমাকে ও হাসানকে জড়িয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে।’
লিখিত বক্তব্যে লাভলু সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি আপনাদের সামনে বলছি- যদি চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিএনএফ ব্যবসায়ী হারুন-অর রশীদ আমার কেনা জমির মালিক হয়ে থাকেন এবং যথোপযুক্ত দলিল দেখাতে পারেন তাহলে আমি স্বেচ্ছায় তাকে জায়গা বুঝিয়ে দেব। আর যদি তিনি ভুল জায়গা কিনে থাকেন, তাহলে তিনি যেন আমাকে হেয় প্রতিপন্ন না করেন।’
যোগাযোগ করা হলে হারুন বলেন, জমি তাঁর কেনা সম্পত্তি। তিনিই হয়রানির শিকার হচ্ছেন। বোয়ালিয়া থানার ওসি নিবারন চন্দ্র বর্মন বলেন, ‘এক বাড়ির মালিক তো দুই ব্যক্তি হতে পারেন না। যে কোন একজন মালিক হবেন। আমরা অভিযোগটি খতিয়ে দেখছি। লাভলুরও কাগজপত্র দেখছি।’

মে ১০
০২:২২ ২০২১

আরও খবর