Daily Sunshine

অপরিপক্ক আম বাজারে, সরিয়ে ফেলা হলো ৮০ ঝুড়ি, ব্যবসায়ী পলাতক

Share

স্টাফ রিপোর্টার, বাঘা: আম প্রধান অঞ্চল হিসাবে খ্যাত রাজশাহীর বাঘা উপজেলার কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বেশি দাম পাওয়ার আসায় মৌসুমের শুরুতে অপরিপক্ক আমে ক্যামিকেল ব্যবহার করে তা চালান দেন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে। এতে আমের শুনাম খুন্ন হয়। এ জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গত তিনবছর ধরে আম পাড়ার সময় বেধে দেওয়া হচ্ছে। এ বছর নির্দেশনা রয়েছে ১৫ মের পর থেকে কেবল গুঠি আম পাড়া যাবে। তবে এ নিময় মানেননি বাঘার তেপুকুরিয়া গ্রামের নইর কসাই দুই পুত্র আম ব্যবসায়ী মনির ও মমিনুল। তারা গত বছরও একই কাজ করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা দিয়েছেন বলে জানান এলাকাবাসী।
তেপুকুরিয়া গ্রামের যুবলীগ নেতা আবু সাইদ বৃটেন শুক্রবার সন্ধ্যার পর স্থানীয় এক গণমাধ্যম কর্মীকে জানান, তাদের এলাকার মনির ও মমিনুল শুক্রবার দিন ব্যাপী ৮০ ঝুড়ি (ক্যারেট) অপরিপক্ক আম পেড়েছে। এর মধ্যে অর্ধেক লকনা ও অধেক গুটি। এই আমে ক্যামিকেল স্প্রে করা হচ্ছে, ঢাকায় চালান দেওয়ার উদ্দেশ্য।
এ খবর শুনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা ও বাঘা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নজরুল ইসলামকে তাৎক্ষণাত বিষয়টি অবগত করেন ঐ সাংবাদিক। এরপর মিলনের বাড়িতে ছুটে যান তিনি সহ আরো দুই সাংবাদিক। এ সময় মিলন বাড়িতে ছিলনা। তার চারটি ঘরের মধ্যে দুটি ছিল তালাবদ্ধ। তার স্ত্রীকে ঘরের তালা খুলতে বললে চাবি মিলনের কাছে আছে বলে জানান। ততক্ষণ পর্যন্ত প্রশাসনের লোকজন সেখানে উপস্থিত হয়নি।
এ সময় ছিলেন স্থানীয় ইউপি সদস্য রেজাউল করিম ও যুবলীগ নেতা বৃটেনসহ আরো অনেকে। ঘটনা জেনে মিলনকে মোবাইল করেন ইউপি সদস্য ও যুবলীগ নেতা বৃটেন। অবশেষে তিনি আসেন, তবে ১ ঘন্টা পর। এরপর তার কাছে আম দেখতে চাইলে তিনি ২০ ক্যারেট আম পাড়ার কথা স্বীকার করেন।
মিলন সাংবাদিকদের বলেন, আম দেখাতে গেলে আপনারা ছবি উঠাবেন। এতে করে আমার মান খুন্য হবে। তার চেয়ে আপনাদেরকে কিছু অর্থ দেই আপনারা চলে যান। এতে করে আম ও তার পরিমান দেখার আগ্রহ বেড়ে যাই সাংবাদিকদের। তবে মিলন কোন ভাবেই সাংবাদিকদের ম্যানেজ করতে পারেননি। এ ফাঁকে তিনি স্থানীয় সোর্স ও যুবলীগ নেতা বৃটেনের সাথে ফাঁকে গিয়ে ফিস-ফিস করে কথা বলেন। মিলনকে কৌশলে পালিয়ে দেন ঐ নেতা।
এ ঘটনার পরে সাংবাদিকরা থানায় এসে পুলিশের স্বরনাপূর্ণ হন। পুলিশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অথবা এসিল্যান্ড মহাদ্বয়কে বিষয়টি অবগত করে তাদের সহায়তা কামনা করেন। এরপর এসিল্যান্ড কে বিষয়টি জানানো হলে তিনি নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে কথা বলতে বলেন। নির্বাহী কর্মকর্তাকে ফের ফোন করে পুরো ঘটনা বলা হলে তিনি বিষয়টি দেখছি বলে ফোন কেটে দেন। এর কিছুক্ষণ পর তেপুকুরিয়া গ্রামে প্রবেশ করে বাঘা থানা পুলিশের পিকাপ। কিন্তু দুই ভাইয়ের কাওকে না পেয়ে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসে পুলিশ।
স্থানীয় ওয়ার্ড আলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম ও ইউপি সদস্য রেজাউল করিমসহ এলাকাবাসীরা অভিযোগ করে গনমাধ্যম কর্মীদের বলেন, সরকারি নিষেধ অমান্যকারি এ দুই সহচর অত্যান্ত মুনাফা লোভী ব্যবসায়ী।
তারা গত বছর আম মৌসুমের শুরুতে একই কাজ করে ভ্রাম্যমান আদালতে জরিমানা দিয়েছিল। এবারও ঠিক একই কাজ করলো। এদের ছাড় দেয়া ঠিক হবেনা। তাদের বিরুদ্ধে কার্যত ব্যবস্থা নেয়া ভিষণ জরুরী। তা না হলে তাদের দেখে অন্য ব্যবসায়ীরাও একই সুযোগ নিবে।
লোকজন আরো জানান, এই দুই ভাই সুদের ব্যবসা করে খুব অল্প সময়ে অনেক টাকার মালিক বনেছেন। এ কারনে এলাকার সাধারণ মানুষ তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ভয় পাই। লোকজনের দাবি, আজকের মধ্যে ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত দুই ভাইকে আটক করলে ৮০ ক্যারেট অপরিপক্ক আম বেরিয়ে পড়বে।

মে ০৯
০২:২৫ ২০২১

আরও খবর