Daily Sunshine

উপহারের বাড়িতে ৭৩৭ গৃহহীন

Share

স্টাফ রিপোর্টার, শিবগঞ্জ: ‘আশ্রয়ণের অধিকার, শেখ হাসিনার উপহার’ এ প্রতিবাদ্যে- আশ্রয়ণ প্রকল্প-২এর অধীনে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় ৭৩৭টি বাড়ি নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। ইতোমধ্যে বসবাস করতে শুরু করেছে ৭৩৭টি পরিবার।
সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের এ প্রকল্পের বাড়ি গুলোকে পরিবার নিয়ে অসহায়রা বসবাস করতে পেয়ে মহাখুশী। জীবনের প্রথম পেয়েছে টয়লেটসহ সেমি পাকা বাড়ি। তাই তারা যেন বাড়ি দাতা প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখার জন্য পাগল।
দূর্লভপুর ইউনিয়নের তেত্রিশ রশিয়ায় বাড়ি পাওয়া নায়েমা বেগম জানান, আগে বাড়ি ছিল বাররশিয়া এলকায়। শ্বশুরের মাত্র দেড় কাঠা জমি ছিল। সেটাও বিক্রি করে দিয়েছে। অবশেষে পরের জমিতে বাস করছিলাম। শেখ হাসিনার উদ্যোগে ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় আমিসহ এখানে ১৬টি পরিবার বাড়ি পেয়েছে। সবাই আমার মতো অসহায় ছিল।
আবেগজড়িত কণ্ঠে নায়েমা আরো জানান, যতদিন বাঁচবো ততদিনই শেখ হাসিনার জন্য দোয়া করবো। শুধু নায়েমাই নয়, উপজেলার প্রায় ৭৩৭টি পরিবারের বেশীর ভাগ পরিবারের সরজমিনে দেখা করলে, একই কথা বললেন।
তবে তাদের দাবি- জীবনে একবার হলেও শেখ হাসিনার সাথে দেখা করবো। উপজেলার মনাকষা বাজার সংলগ্ন ও সাহাপাড়া বনপাড়া, তর্তিপুর, তেত্রিশরশিয়া, ঘোড়াপাখিয়ার চক দেবোত্তর, কানসাটের গুদামবাগান-নিরালা গুচ্ছগ্রাম, সোনামসজিদ গৌড় এলাকাসহ প্রতিটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি পরিবার তাদের নিজ নিজ বাড়ি পরিস্কার ও গোছানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে। তবে পানি, বিদ্যুৎ ও রাস্তাসহ কিছু সমস্যও কথাও বলছেন তারা।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে উপজেলার ভূমিহীন ও আশ্রয়হীন ৭৩৭টি পরিবারের জন্য ১২ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে গেল বছরের ৪ নভেম্বর ৭৩৭টি বাড়ি নির্মাণের কাজের উদ্বোধন করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তৎকালিন যুগ্ম-সচির হুমায়ুন কবির। প্রতিটি বাড়ির জন্য ২ শতক জমির উপর সেমি পাকা দুটি ঘর, একটি রান্না ঘর, একটি টয়লেট ও একটি বারান্দা রয়েছে। সবগুলো বাড়ির নির্মাণ কাজ শেষের পথেছ। ইতোমধ্যে পরিবারগুলো বসবাস করতে শুরু করছে। তিনি আরো জানান, প্রতিটি বাড়িতে খরচ ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাকিব আল-রাব্বি জানান, দূর্লভপুরে ২১৪টি, ঘোড়াপাখিয়ার ৭৬টি, মনাকষাতে ৬৩টি, কানসাটে ৮৮টি, উজিরপুরে ৮৭টি, শাহাবাজপুরের ৭৫টি ও বোগড়াউড়িতে ৪০টিসহ মোট ৭৩৭টি বাড়ির নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে। সেগুলোতে অসহায় ও ভুমিহীন পরিবার গুলোকে দলিদ প্রদান ও উপযুক্ত তালিকার মাধ্যমে উঠানো হয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী আরো ১শ’ বাড়ি নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের পথে।
তিনি আরো জানান, ৮৩৭টি পরিবারের জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী দপ্তরের উদ্যোগে ৮৩টি টিউবওয়েল বসানো কাজ চলছে। এলজিডির ব্যস্থাপনায় রাস্তার কাজ খুব শীঘ্রই শুরু হবে। তবে বাড়ির মালিদের নিজ খরচে বিদ্যুতায়নের কাজ চলছে। বৈদ্যুতিক খুঁটি ও মিটার বসানো হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে বিদুৎ সংযোগ চালু হবে। বিদ্যুৎ বিভাগকে সেভাবে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যাতে এ প্রকল্পের বাসিন্দারা কোন কষ্ট না পাই সে চেষ্টা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিদিনই পরিদর্শন করা হচ্ছে। তাদের সমস্যার কথা শুনে সমাধানের চেষ্টা চলছে।

মে ০৮
০২:২২ ২০২১

আরও খবর