Daily Sunshine

নিয়োগ ইস্যুতে ছাত্রলীগের দুপক্ষের সংঘর্ষ

Share

রাবি প্রতিনিধি : পুলিশি পাহারায় ক্যাম্পাস ছেড়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভিসি অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান। বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে তার মেয়াদ শেষে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভবন ত্যাগ করেন।
এসময় তার গাড়ির সামনে ও পেছনে ৩টি পুলিশের গাড়ি ছিল। উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে নগরের চৌদ্দপায় এলাকায় বিশ্ববিদালয় হাউজিং সোসাইটিতে (বিহাস) তার বাসায় উঠেছেন।
যাওয়ার বেলায় সাংবাদিকরা উপাচার্যকে অ্যাডহকে নিয়োগের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এটা আপনারা পরে জানবেন।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার মোখলেসুর রহমান বলেন, শেষ দিনে অ্যাডহকে ১৪১ জনকে নিয়োগ দিয়েছেন উপাচার্য।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসনের দুর্নীতির অভিযোগ তুলে আন্দোলন করে আসছিল বিশ্ববিদ্যালয়েরর প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের ‘দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষকবৃন্দ’ ব্যানারে একদল শিক্ষক। তাদের মুখপাত্র অধ্যাপক মো. সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, শিক্ষামন্ত্রণালয়ের নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নিয়োগ দিয়ে গেলেন উপাচার্য। উনি শেষ দিন পর্যন্ত অনিয়ম করে ক্যাম্পাস ত্যাগ করলেন।
২০১৭ সালের ৭ মে দ্বিতীয় মেয়াদে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান। বৃহস্পতিবার তার শেষ কার্যদিবস ছিল। শেষদিন বিভিন্ন পদে ১২৫ জনকে অ্যাডহকে নিয়োগ দিয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে।
এদিকে সকাল থেকেই প্যারিস রোড, প্রশাসন ভবন, শহীদুল্লা কলা ভবনের সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, চাকরিপ্রত্যাশী সাবেক ও বর্তমান ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অবস্থান করছিলেন। সকাল থেকে সবার মুখে মুখে অ্যাডহকে নিয়োগের কথা ছড়িয়ে পড়ে।
দুপুর ১২টার দিকে মহানগর ছাত্রলীগের শতাধিক নেতাকর্মী শেখ রাসেল স্কুলের মাঠ থেকে প্যারিস রোডে শোডাউন দিয়ে প্রশাসন ভবনের সামনে আসেন। এরপর তাঁরা প্রশাসন ভবনের পাশে শহীদ শামসুজ্জোহা চত্বরে অবস্থান নেন। এ সময় সেখানে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিপ্রত্যাশী সাবেক ও বর্তমান ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, মাস্টাররোলের কর্মচারীর মুখোমুখি অবস্থায় চলে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মহানগর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রথমে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সেকশক অফিসার মাসুদের ওপরও হামলা চালান। পরে রাবি ছাত্রলীগ এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা হয়। এ সময় রাবি ছাত্রলীগ সংগঠিত হয়ে ধাওয়া করলে মহানগর ছাত্রলীগেরর সাথে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে মহানগর ছাত্রলীগ পালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি সিয়াম আহমেদ বলেন, সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে উপাচার্য নিয়োগ দিচ্ছেন। এটা অন্যায়। এর প্রতিবাদ করতে তারা এসেছিলেন। কিন্তু নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি থেকে মারামারি বেঁধে যায়।
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘মহানগর ছাত্রলীগের কিছু সদস্য হঠাৎ এসে ক্যাম্পাসে ঝামেলা করে। তারা এখন আর নেই। তাদের প্রতিহত করা হয়েছে।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র মো. গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, উপচার্যের বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগের আগে মহানগর ছাত্রলীগ আর ক্যাম্পাস ছাত্রলীগ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। উপাচার্যের বিদায়ের বিষয়ে তিনি বলেন, পুলিশি পাহাড়ায় ক্যাম্পাস থেকে বিদায় নিয়েছেন উপাচার্য।
গত বছরের ৪ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুর্নীতির তথ্য-উপাত্ত সংবলিত ৩০০ পৃষ্ঠার অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) দিয়েছেন আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের একাংশ।
পরে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে অভিযোগগুলো তদন্তে ইউজিসি একটি কমিটি গঠন করে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তদন্ত কমিটি উভয়পক্ষের বক্তব্য উপস্থাপনে উন্মুক্ত শুনানির আয়োজন করে কিন্তু তাতে উপাচার্য উপস্থিত হননি।
এ তদন্ত শেষে গত ২১ অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সুপারিশসহ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় ইউজিসি। পরে গত ১০ ডিসেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক চিঠিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সব নিয়োগ স্থগিত করে দেয়। কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই অ্যাডহকে ১৪০ জনকে নিয়োগ দিয়ে বিদায় নিলেন উপাচার্য।

মে ০৭
০৩:০৭ ২০২১

আরও খবর