Daily Sunshine

মাটি বহনে ‘মাটি’ হচ্ছে সড়ক

Share

মাহফুজুর রহমান প্রিন্স, বাগমারা: অবৈধ ট্রাকে মাটি পরিবহন করায় বাগমারার রাস্তা ঘাটের বেহাল দশা দেখা দিয়েছে। পবিহনের সময় এসব ট্রাক থেকে মাটি রাস্তায় পড়ে এবং সামান্য বৃষ্টিতে সেই মাটিতে কাঁদাময় হয়ে রাস্তা চলাচলের আযোগ্য হয়ে পড়েছে। সরকার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করছে রাস্তা। আর এ রাস্তা নিমিষেই ধুলোয় মিছিয়ে দিচ্ছে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহৃত দানবীয় মাটির ট্রাক। গোটা উপজেলা ব্যাপি দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ এসব যানবাহন। তারা ভেঙ্গে চুড়ে একাকার করে ফেলছে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার নির্মিত নতুন নতুন রাস্তা-ঘাট। বিষয়টি যেন দেখার কেউ নেই। তারা প্রশাসনের নাকের ডগায় শুধু মাত্র ব্যক্তি স্বার্থেই সরকারের এমন কোটি কোটি টাকা ক্ষতি সাধন করে চলছেও কেউ তাদের বাঁধা দিচ্ছে না। গতএক সপ্তাহের ব্যবধানে বাগমারা উপজেলা প্রশাসন এমন বেশ কিছু অবৈধ ট্রাকের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালতে প্রায় লক্ষাধিক টাকা জরিমানা করলেও থামছে না তাদের দৌরাত্ম।
সম্প্রতি বাগমারা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার রাস্তা ঘুরে এমন ভয়াবহ চিত্রই লক্ষ করা গেছে। স্থানীয়রা জানান, এখন শুস্ক মৌসুমে বাগমারা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে পুকুর দিঘী খননের মহোৎসব। যে যার মত পারছে শত শত বিঘা দুইতিন ফসলী জমি পুকুর খনন করছে। সবচেয়ে বেশি পুকুর দিঘী খনন হচ্ছে উপজেলা যশোর বিলে। পুকুর খননের এসব মাটি বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটায়। আর এসব মাটি পরিবহন করা হচ্ছে অবৈধ যানবাহনে যার স্থানীয় নাম কাঁকড়া। এ কাঁকড়াতে করে মাটি পরিবহনের ফলে সদ্য নির্মিত রাস্তা ঘাট ভেঙ্গে চুড়ে একাকার হয়ে যাচ্ছে।
উপজেলার ভবানীগঞ্জ-তাহেরপুর রাস্তা, তাহেরপুর-–শিকদারী রাস্তা, ভবানীগঞ্জ-গাঙ্গোপাড়া রাস্তা, ভবানীগঞ্জ মোহনগঞ্জ রাস্তা ও মোহনগঞ্জ-তাহেরপুর রাস্তাসহ গোটা উপজেলার এমন কোন রাস্তা নেই যেখানে মাটির ট্রাকের অবাধ চলাচল নেই।
ভবানীগঞ্জ বাজারের সিএনজি চালকরা জানান, আগে নতুন রাস্তা নির্মাণ হলে ৪-৫ বছর সেই রাস্তা দিয়ে নির্বিগ্নে চলাচল করা যেত। আর এখন নতুন রাস্তা নির্মাণের ২-৩ মাসের মধ্যেই মাটির ট্রাক ও মাছের ট্রাক চলাচল করায় রাস্তা ভেঙ্গেছুড়ে একাকার হয়ে যাচ্ছে।
তারা জানান, এসব ট্রাকে অতিরিক্ত মাটি তুলে নিয়ে যাওয়ার ফলে রাস্তায় যত্রতত্র মাটি পড়ে বিভিন্ন যানবাহনের মারাত্বক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। ওই মাটি পড়ার ফলে অনেক যানবাহন দুর্ঘটনায় পতিত হচ্ছে। সাধারন পথচারী ও যানবাহন চালকরা জানান, গত রাতের সামান্য বৃষ্টিতে কাদাপানিতে ওইসব রাস্তা একাকার হয়ে গিয়েছে। সেখানে এখন যানবাহন নিয়ে চলাচলে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা।
জনদুর্ভোগের এসব বিষয়ের সমাধান সম্পর্কে জানতে চেয়ে উপজেলা প্রকৌশলী সানোয়ার হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি খুবই জনগুরুত্বপূর্ণ। দু’একজন ব্যক্তির এমন হীন স্বার্থে সরকারের এমন বিশাল ক্ষতি ও জনদুর্ভোগ কোন ভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। বিষয়টি উপজেলার মাসিক সভায় তুলে ধরে অচিরেই এর সমাধান করা হবে।
জানতে চাইলে বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাক আহম্মেদ বলেন, বিষয়গুলো পুলিশের একতিয়ারের বাইরে হলেও মাঝে মধ্যে মাটি পরিবহনের ওইসব অবৈধ ট্রাক (কাঁকড়া) গুলো নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশের পক্ষে চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি আরো কঠোর ভাবে নিয়ন্ত্রন করা হবে। অবৈধ এসব যানবাহনের তান্ডব বন্ধ ও জনগনের চলাচল নির্বিগ্ন ও রাস্তার পরিবেশ সুন্দর ও সুষ্ঠ রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরিফ আহম্মেদ বলেন, আমাদের এ অভিযান অভ্যাহত থাকতে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই এ অসাধু প্রবনতা রোধ করা সম্ভব। আগামীতে উপজেলার মাসিক সভায় বিষয়টি তুলে ধরে এর প্রতিরোধের জন্য আরো কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

মে ০৫
০৩:০৫ ২০২১

আরও খবর