Daily Sunshine

রাবি শিক্ষকদের গুলির হুমকি ছাত্রলীগের

Share

রাবি প্রতিনিধি : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য এম আব্দুস সোবহানের মেয়াদের শেষ সিন্ডিকেটে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ১৫০ জনকে এডহকে নিয়োগ দেয়ার গুঞ্জন ওঠে। এই উদ্দেশ্যে বুধবার গভীর রাতে উপাচার্যের জামাতা সিনেট ভবনের তালা ভেঙ্গে নিয়োগ সংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে যান বলে অভিযোগ ওঠে। এতে অবৈধ নিয়োগের আশঙ্কায় মঙ্গলবার সকালে সিন্ডিকেট স্থগিতের জন্য আওয়ামীপন্থী দুর্নীতি বিরোধী শিক্ষকরা উপাচার্য বাসভবনের সামনে অবস্থান নিলে তাদের ওপর ধাক্কাধাক্কি করে চাকরী প্রত্যাশীরা। এতে প্রক্টরসহ একাধিক শিক্ষক লাঞ্ছিত হয়েছেন। এই সময় বহিরাগত এক ছাত্রলীগ কর্মী শিক্ষকদের প্রকাশ্যে গুলি করে মারার হুমকি দেন।
এদিকে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নিয়োগ দেয়ার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী দফতর থেকে উপাচার্য এমন আব্দুস সোবহানকে ফোন করে এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। এতে বেলা ১১টার দিকে সিন্ডিকেট সভা বাতিল করতে প্রশাসন বাধ্য হয়। এসময় মতিহার থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ ও সিআইডি সদস্যরা সেখানে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে বেলা সাড়ে ১১টায় দুর্নীতি বিরোধী শিক্ষকরা সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষক লাঞ্ছনা ও হত্যার হুমকির প্রতিবাদ জানান।
বিশ^বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে নিয়োগের আশঙ্কায় সিন্ডিকেট সভা স্থগিত করার দাবিতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী দুর্নীতি বিরোধী শিক্ষকেরা। এর আগে থেকেই উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেয় চাকুরি প্রত্যাশীরা। সকাল সোয়া ১০টার দিকে শিক্ষকরা উপাচার্যের সাথে সাক্ষাৎ করতে তার বাসভবনে ঢোকার চেষ্টা করলে চাকুরি প্রত্যাশীদের বাধার মুখে পড়েন। একপর্যায়ে পুলিশ এবং প্রক্টরিয়াল বডির উপস্থিতিতেই শিক্ষকদের সাথে ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়েন তারা। এই ঘটনায় প্রক্টরসহ শিক্ষকরা লাঞ্চিত হন। এইসময় আকাশ নামের এক স্থানীয় যুবক শিক্ষকদের গণমাধ্যমকর্মীদের সামনেই গুলি করে মারার হুমকি দেয়। রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া জানান, হুমকিদাতা আকাশ নামের ওই যুবক স্থানীয় ছাত্রলীগের কর্মী ও রাবিতে চাকরি প্রত্যাশী।
বাংলা বিভাগের অধ্যাপক শফিকুন্নবি সামাদী বলেন, উপাচার্যের সাথে সাক্ষাৎ করতে গেলে আমাদের ঢুকতে বাধা দেয়া হয়। এমনকি আমাদের গুলি করার হুমকি দেয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরকে এভাবে হুমকি দেয়ার সাহস কেউ রাখে না। এটি আমাদের নিরাপত্তার বিষয়। এর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন দায়ী।
এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে সে ব্যবস্থা আমরা করেছি। এ জন্য সকলের সাহায্য প্রত্যাশা করছি।
পরে বেলা সাড়ে ১১টায় এক সংবাদ সম্মেলনে দুর্নীতি বিরোধী শিক্ষকরা লাঞ্ছনা ও হত্যার হুমকি দেয়ার প্রতিবাদ জানান। সম্মেলনে অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, অবৈধ নিয়োগ প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে ভিসির জামাতা ও বিশ^বিদ্যালয়ের প্রভাষক এটিম শাহেদ পারভেজ সোমবার রাতের আঁধারে সিনেট ভবনের তালা ভেঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ও গোপন নথিপত্র নিয়ে যায়। এটি একটি বড় ধরণের অপরাধ।
শিক্ষকদের এই অভিযোগের বিষয়ে প্রক্টর লুৎফর রহমান বলেন, আমি পুলিশের মাধ্যমে জানতে পেরেছি যে এক শিক্ষক বহিরাগতদের সঙ্গে নিয়ে গভীর রাতে সিনেট ভবনের তালা ভেঙ্গে নিয়োগ সংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে যান।
জানতে চাইলে বিশ^বিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আব্দুস সালাম বলেন, সিন্ডিকেটে ১৫০ জনকে নিয়োগ দেয়ার ব্যাপারটি গুজব। এই ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী দফতর থেকেও উপাচার্যকে ফোন করা হয়। এটি রুটিন সিন্ডিকেট সভা হবার কথা ছিল। কিন্তু শিক্ষকদের বাধায় তা হয় নি।
প্রসঙ্গত, উপাচার্য এম আব্দুস সোবহানের বিরুদ্ধে যোগ্যতা কমিয়ে মেয়ে-জামাতাকে নিয়োগ দেয়াসহ আনীত দুর্নীতি ও অনিয়মের একাধিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত করে প্রমাণ পায় ইউজিসি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ডিসেম্বরে রাবিতে নিয়োগের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে শিক্ষামন্ত্রণালয়। ৬ মে বৃহস্পতিবার তার মেয়াদ শেষ হবে। এরই মধ্যে গত রবি ও সোমবার সিনেট ভবন এবং দুটি প্রশাসন ভবন তালাবদ্ধ রেখে বিক্ষোভ করেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের একটি অংশ। নেতাকর্মীরা জানান, উপাচার্য যেন আর কোনো অবৈধ নিয়োগ দিতে না পারেন সে জন্য তারা এই কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। এতে গত ২ মে ফাইনান্স কমিটির সভা স্থগিত করতে বাধ্য হয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

মে ০৫
০৩:০৭ ২০২১

আরও খবর