Daily Sunshine

পবায় পুকুর খনন বন্ধে জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদন

Share

স্টাফ রিপোর্টার: পবার দামকুড়া ইউনিয়নে আলোকছত্র এলাকায় অবৈধভাবে খনন করা হচ্ছে পুকুর। আর এই কাজ টি করছেন দামকুড়া থানাধীন আজাহার আলী ছেলে হাবিবুর রহমান ও কর্ণহার থানাধীন বেজুড়া গ্রামের মৃদ আলহাজ্ব খোশ মোহাম্মদ এর ছেলে রতন হোসেন। এলাকাবাসী বাধা দিলেও শুনছেন না খননকারীরা। অবশেষে বাধ্য হয়ে তারা রাজশাহী জেলা প্রশাসক বরাবরে পুকুর খনন বন্ধ করার জন্য একটি আবেদন করেছেন। কৃষকদের পক্ষে এই আবেদন করেন মকবুল হোসেন নামে একজন। তিনি আবেদনে উল্লেখ করেন তারা দামকুড়া ইউনিয়নের ৪ ও ৬ নং ওয়ার্ডের আলোকছত্র ও ভীমের ডাইং এলাকার বাসিন্দা।
এই দুইটি গ্রামে প্রায় সাতশত ঘরবাড়ী এবং চার হাজারের উর্ধ্বে জনগণ বসবাস করেন। এছাড়াও এখানে রয়েছে সামাজিক গোরস্থান, মসজিদ, আম বাগান, লিচু বাগান ও প্রায় দুইশ বিঘা বিভিন্ন ফসলের জমি। এই পুকুর খনন শেষ হলে এই এলাকার জলাবদ্ধতার সমস্যা দেখা দেবে। কারন বর্ষা মৌসুমে কোনভাবেই পানি বের হতে পারবেনা।
আবেদনে আরো বলা হয়েছে আলোকছত্র মৌজায় পুকুরের পূর্ব পার্শে আলোক ছত্র গ্রামের মাত্র ২০০ ফিট দুরত্বে মসজিদ ও সামাজিক গোরস্থান এবং পশ্চিমে মাত্র ১৫০ ফিট পূর্বে ভীমের ডাইং গ্রামের সামাজিক গোরস্থান। এখানে মাত্র দুইদিন বৃষ্টি হলে গোরস্থানে পানি উঠে যাবে। এই পানি নিস্কাশনের কোন জায়গা থাকবেনা। এতে লাশ দাফন করা অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। এই আবেদনে প্রায় শতাধিক এলাকাবাসী স্বাক্ষর করেন।
সরজমিনে গেলে অত্র এলাকার বাসিন্দা আশরাফুল হক, মাসুম, মোস্তাফিজুর রহমান, সুলতান আলী ও ইকবালসহ অন্যান্যরা বলেন, তারা এই গ্রামে বাবা দাদার আমল থেকে বংশানুক্রমে বসবাস করে আসছেন। এখানে তাদের সামাজিক গোরস্থান ও ধর্মীয় উপাসনা করার জন্য রয়েছে মসজিদ। এই পুকুর খনন শেষ হলে অত্র এলাকার লোক মহা বিপদে পড়বে। বর্ষা ও বৃষ্টির পানি কোন দিক দিয়েই বের হতে পারবেনা। এতে করে তারা না পারবে মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করতে, না পারবে গোরস্থানে লাশ দাফন করতে। এ অবস্থায় পুকুর থনন বন্ধ করার জন্য জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট আকুল আবেদন জানান তারা।
এবিষয়ে রাজশাহী অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুহাম্মদ শরিফুল হক এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন থেকে পুকুর খনন বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়না। এটা উপজেলা প্রশাসন দেখে থাকে বলে জানান তিনি।
এদিকে পবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিমুল আকতারের নিকট মোবাইলে জানতে বার বার কল করলেও তিনি মোবাইল রিসিভ না করায় কোন প্রকার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে পবা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস কে এহসান উদ্দীন বলেন, বিষয়টি তিনি দেখবেন এবং তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেবেন। এদিকে পুকুর খননকারী হাবিবুর রহমানের নিকট মোবাইলে জানতে কল করলে মোবাইল রিসিভ না করে কেটে দেন। এজন্য তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

মে ০৩
০৩:০৯ ২০২১

আরও খবর