Daily Sunshine

ভোক্তাদের জিম্মি করে টাকা লুটে নিচ্ছে ব্যবসায়ীরা

Share

স্টাফ রিপোর্টার : লকডাউন নিয়ে সরব থাকলেও এবার রমজানকে সমনে রেখে রাজশাহীর বাজারে নিত্য পণ্যের দাম উর্ধ্বগতি রোধে প্রশসনের জোড়ালো কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। ভোক্তাদের অভিযোগ এনিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনার পরো প্রশাসন নিশ্চুপ রয়েছে। এদিকে টিসিবির ডিলারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা সিন্ডিকেট গড়ে টিসিবির পণ্য প্যাকেজ করে ক্রেতাদের ক্রয় করতে বাধ্য করছেন। তবে এবিষয়ে টিসিবি কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোন পদক্ষেপের খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরীর রেশমপট্টি এলাকায় অবস্থিত কাজল ব্রাদার্স নামের একটি মুদির দোকান সংলগ্ন বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ টিসিবির পণ্য উদ্ধার করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এসময় ওই বাড়ি থেকে ১ হাজার ৫২০ লিটার সয়াবিন তেল, ৩৫০ কেজি চিনি, ২০০ কেজি ছোলা এবং ৩০০ কেজি ডাল জব্দ করা হয়। বাড়িটি মুদির দোকানী কাজলের। কাজলের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি এর আগেও একই ধরণের অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযেনে ধরা পড়েন এবং জরিমানা দেন। কাজল মুদির দোকানীর পাশাপাশি টিসিবির ডিলার।
রমজানকে সামনে রেখে রাজশাহীর বাজারে এবার তরমুজ কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি তরমুজ ৫৫ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যা রমজানের শুরুতে ছিল ২৫ টাকা কেজি। কলা বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৮ টাকা হালি, ডাব ৬০ থেকে ৯০ টাকা পিস। একই ভাবে খেজুরসহ সবধরণের ফলের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। শুরু থেকেই তরমুজ ব্যবসায়ীদের এমন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোক্তাদের পক্ষ থেকে অভিযোগ আসলেও এবিষয়ে কার্যকর কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি প্রশাসন। গত ২৭ এপ্রিল তরমুজের আড়তগুলোতে জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট গিয়ে তাদেরকে কেজি দরে তরমুজ বিক্রি করতে বলে আসেন। তবে এমন মুখের কথায় কার্ণপাত করেনি ব্যবসায়ীরা। এখনো বাজারে প্রকাশ্যেই কেজি দরে তরমুজ বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে।
রাজশাহী নগরীর বাসিন্দা মো. সজিব জানান, স্থানীয় প্রশাসন ব্যবসায়ীদের পক্ষ নিয়ে কাজ করছে। প্রতিবার রমজান মাসকে সামনে রেখে নানা অভিযানের খবর পাওয়া যায়। এবার কোন অভিযানের খবর পাওয়া যাচ্ছে না। সামান্য তরমুজ ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কাছেই ধলাশাই প্রশাসন।
ভদ্রার বাসিন্দা নলিতা রাণি জানান, টিসিবি থেকে পণ্য ক্রয় করতে হলে ডিলারদের নির্ধারিত প্যাকেজ অনুসারে পণ্য নিতে হচ্ছে। ৪২০ টাকায় দুই কেজি ছোলা, দুই কেজি চিনি ও দুই লিটার তেল নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। তা না হলে পণ্য দিচ্ছে না। একই চিত্র সব টিসিবির ডিলারদের পয়েন্টেই।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হাসান আল মারুফ জানান, টিসিবির ডিলাররা কোন ভাবেই ক্রেতাদের প্যাকেজ নিতে বাধ্য করতে পারে না। ভোক্তার যার যতটুকু পণ্য প্রয়োজন তাকে ততটুকুই দিতে হবে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা আরো জানান, বৃহস্পতিবার ইফতারের কিছু আগে অভিযান চালিয়ে নগরীর রেশমপট্টি এলাকার কাজল ব্রাদার্সের ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ টিসিবির পণ্য উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি পণ্যগুলো বিক্রি না করে বাড়িতে সংরক্ষণ করছিলেন। কাজল ব্রাদার্সের সত্বাধিকারী কাজলকে ১৫ দিন সময় দেয়া হয়েছে। তিনি এই সময়ের মধ্যে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের শুনাতিতে অংশ নিয়ে তার বক্তব্য জানাবেন।
রাজশাহী জেলা টিসিবির সিনিয়র এক্সিকিউটিভ রবিউল মোর্শেদ জানান, কাউকে প্যাকেজ নিতে বাধ্য করা যাবে না। ডিলারদের বিরুদ্ধে প্যাকেজ নিতে বাধ্য করার অভিযোগ পাওয়া গেলে তাদের ডিলারশিপ বাদ দেয়ার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রসঙ্গত, রাজশাহী জেলায় মোট ১৩৭ জন টিসিবির ডিলার রয়েছেন। যাদের মধ্যে সিটিকর্পোরেশন এলাকায় ৬০জন। সম্প্রতি সয়াবিন তেল, চিনি, ছোলা, ডাল এবং খেজুরসহ নিত্য পণ্যের দাম উর্ধ্বমুখি হওয়ায় সরকারের তরফ থেকে নিম্ন আয়ের মানুষদের সুবিধার্থে টিসিবির মাধ্যমে স্বল্পমূলে তেল, ডাল, চিনি, ছোলা, খেজুরের মতো পণ্যগুলো বিক্রি করা হচ্ছে।

এপ্রিল ৩০
০৩:১৬ ২০২১

আরও খবর