Daily Sunshine

বোরো ঘরে তোলা নিয়ে কৃষকের শঙ্কা

Share

সাপাহার প্রতিনিধি: নওগাঁর সীমান্তবর্তী সাপাহার উপজেলায় বোরো ধান কাটা মাড়াই এর কাজ শুরু হলেও জবই বিল এলাকার বোরো ধান কৃষকের ঘরে উঠতে এখনও ঢের দেরী। কালবৈশাখীর ছোবল ও তান্ডবককে ঘিরে শঙ্কিত এখানকার কৃষক।
ঐতিহ্যবাহী জবই বিল এলাকা ঘুরে দেখা গেছে মাঠের পর মাঠে এখনও সবুজ কাঁচা ধান বাতাসে ধোল খাচ্ছে। ওই এলাকার কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে এবং তারা ক্ষোভের সাথে জানিয়েছেন, এখানকার মৎস্যচাষীরা বর্ষা শেষে বিলের নিম্নাংশে বাঁধ দিয়ে রাখায় বিলের পানি দেরিতে নামায় আমাদের ধান লাগতে অনেক দেরী হয়ে গেছে ফলে দেশের অন্যন্য এলাকায় বোরা ধান কৃষকদের ঘরে উঠলেও আমরা রয়েছি পিছিয়ে।
আমাদের ক্ষেতের ধান পাকতে আরোও কয়েক সপ্তাহ লেগে যাবে। বাংলাদেশ আবহাওয়া দপ্তরের আগাম হুঁশিয়ারীতে আমরা দারুন শঙ্কার মধ্যে রয়েছি। শেষ পর্যন্ত ক্ষেতের ধান ঘরে তুলতে পরব নাকি মাঠেই রয়ে যাবে এ দুঃচিন্তা চিন্তিত এখানকার কৃষকরা। তবে অনেকেই ঝড় ঝঞ্জা থেকে রক্ষা পেতে এখন আধাপাকা ধান কেটে ঘরে তুলছেন।
কর্তনকৃত ৫% শতাংশের কৃষক উপজেলার বাখর পুর গ্রামের জাকারিয়ার সাথে কথা হলে তিনি জানান এবারে বোরো ধানে বাম্পার ফলন হচ্ছে, বাজারে ধানের মূল্যও রয়েছে ভাল শেষ পর্যন্ত এ মূল্য থাকলে এখানকার কৃষকরা এবারে হয়তো ধান বিক্রি করে লাভের মুখ দেখবে।
সাপাহার উপজেলা কৃষি দপ্তরের মতে সাপাহারে এবারে ৫হাজার ২৩০হেক্টর জমিতে বোরো চাষাবাদ হয়েছে, তার মধ্যে খোদ জবই বিলের নিম্নাংশে রয়েছে ১ হেক্টার বা ৭৫০বিঘা। বর্তমানে সারা উপজেলায় বোরো ধানে রয়েছে ৪০% ভাগ নরম দানা, ৪০% ভাগ শক্ত দানা, ১৫% ভাগ পাকা ধান এবং এপর্যন্ত মাত্র ৫% ভাগ ধান কর্তন করা হয়েছে।
এ অঞ্চলের সম্পূর্ণ বোরো ধান কৃষকের ঘরে উঠতে হয়তো একটু দেরী হতে পারে তবে বর্তমানে যে খরা ও তাপদাহ বিরাজ করছে তাতে স্বল্পসময়ের মধ্যে মাঠের সমস্ত ধান পরিপক্ক হয়ে যাবে। সাপাহারে ধানকাটা শ্রমিকের কোন সংকট নেই সে হিসেবে দ্রুতই মাঠের ধান কাটা মাড়াই সম্ভব হবে বলে উপজেলা উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আতাউর রহমান সেলিম জানিয়েছেন।

এপ্রিল ২৯
০৩:৩০ ২০২১

আরও খবর