Daily Sunshine

মাহে রমজান

Share

সানশাইন ডেস্ক : পবিত্র রমজান মাস রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের মাস। সাধারণ সময়ে কোনো কাজের জন্য যে পুণ্য পাওয়া যায় এ মাসে তার তুলনায় সত্তর গুণ থেকে সাতশ’ গুণ পর্যন্ত অথবা আল্লাহ তা‘আলা চাইলে তারও চেয়ে বেশি পুণ্য বাড়িয়ে দিতে পারেন।
রোজার মাধ্যমে প্রকৃত রোজাদারগণ আল্লাহর কাছে প্রতিদান চান। এই রোজা রাখা একটি বড় বিষয়। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত-এই লম্বা সময় পানাহার ও যৌন তৃপ্তি মেটানো থেকে দূরে থাকতে হয়। অনেক কষ্ট করতে হয়।
রোজাদারদের কষ্ট লাঘবে আমরা অনেক কিছু করতে পারি। এই ক্ষেত্রে যে বিষয়টি সবার আগে চলে আসে তা হচ্ছে রোজার মাস এলেই দেখা যায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম হু হু করে আকাশচুম্বী হতে থাকে। যে খাবার ইফতার ও সেহরিতে বেশি ব্যবহার করা হয়, দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে সেই সব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যকে হাতের নাগাল থেকে বাইরে সরিয়ে দেওয়া হয়। ব্যবসায়ীদের এ ধরনের চিন্তা থেকে ফিরে আসা উচিত। দ্রব্যমূল্য না বাড়ানোর মাধ্যমে রোজাদারকে স্বস্তি দেওয়া যেতে পারে এবং এর মাধ্যমে রোজাদারের কষ্ট লাঘব করা যেতে পারে।
রোজাকে সামনে রেখে মজুদদারি ও কালোবাজারি বন্ধ করার মাধ্যমে রোজাদারের কষ্ট লাগবে অনেক কিছু করণীয় রয়েছে। এই রোজার মাসে অধিক মূল্য পাওয়া যাবে, চাহিদা বেশি থাকবে এমন চিন্তা করে অনেক ব্যবসায়ী নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি মজুদ করে থাকেন। রাসূল (সা.) মজুদদারিকে নিরুৎসাহিত করেছেন এবং সাবধান করেছেন। মজুদদাররা তাদের এই কৃতকর্মের জন্য পরকালে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হবেন। সেই ক্ষেত্রে আমরা মজুদদারি বা কালোবাজারির মতো দুষ্কর্ম হতে দূরে থেকে রোজাদারের কষ্ট লাগবে কাজ করতে পারি।
অনেক সময় রমজানে ব্যবহৃত নিত্য প্রয়োজনীয় খাবার ও দ্রব্য সামগ্রী প্রবাহে এবং পরিবহনে বাধা দিয়ে রোজাদারের জন্য কষ্ট বাড়িয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। নানা কারণে, হরতাল বা ধর্মঘটের মাধ্যমে অথবা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে, যাতে রমজানে ব্যবহৃত নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী ও কাঁচামাল প্রবাহ ও পরিবহন সহজ ও সুন্দর হয় তাতে বাধা সৃষ্টি করা হয়। এতে স্বাভাবিকভাবেই রোজাদারদের জন্য কষ্ট হয়। আমরা এই কষ্ট লাঘবে এ জাতীয় কাজ থেকে দূরে থাকতে পারি।
অসাধু ব্যবসায়ীরা খাবার সামগ্রী বা কাঁচামালে ক্ষতিকর কেমিক্যাল মিশিয়ে রোজাদারদের স্বাস্থ্যহানির জন্য ভয়াবহ ব্যবস্থা তৈরি করে। একথা অবশ্যই স্বীকার করতে হবে যে, বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতিতে খাদ্য সামগ্রী বা কাঁচামাল ইত্যাদি রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে, ক্ষতিকর কেমিক্যাল বা এমন কিছু ব্যবহার না করেই খাদ্য সামগ্রী ঠিক রাখা যায়। শুধু অসাধুতা থেকে আমাদেরকে বেরিয়ে আসতে হবে। আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা যে, আমরা শুধু নিজেদের স্বার্থকেই সামনে নিয়ে আসি। এই কাজের মাধ্যমে আমার ভাইদের কোনো ক্ষতি হচ্ছে কি না, সেই চিন্তা করার সুযোগও যেন আমাদের নেই।

এপ্রিল ২৯
০৩:২০ ২০২১

আরও খবর