Daily Sunshine

দখলে দূষণে শীর্ণদশায় বড়াল

Share

আরিফুল ইসলাম তপু, বাগাতিপাড়া: নাটোরের বাগাতিপাড়ায় কালের খরস্রোতায় বড়াল নদ শুকিয়ে হারাতে বসেছে ঐতিহ্য, চলছে দখল ও দূষণের মহাউৎসব। নদটি নাব্যতা হারিয়ে এখন ফসলের মাঠে পরিনত হয়েছে। নদের বুকে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের জন্য হালচাষ করা হচ্ছে।
উজানে বাঁধ দিয়ে ইরিগেশনের জন্য সেচ দেয়া, অপরিকল্পিত বাঁধ এবং নদীর বুকে অতিরিক্ত ব্রীজ নির্মাণ ফলে নদের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্থ করার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। নদের তলোদেশে পলি জমে জমে উঁচু হয়েছে, দু’পাড় চেপে গেছে এবং নদের পাড়ে বিভিন্ন স্থাপনা তৈরী করা হয়েছে। নদের চর ভূমি গ্রাসীরা দখল করে নিয়েছে। তাছাড়া প্রমত্ত পদ্মায় পানি প্রবাহ স্বাভাবিক না থাকা, চারঘাট ও আটঘরিয়া সুইচগেট দু’টির জন্য পদ্মার শাখা বড়াল নদের এ অবস্থা হয়েছে বলে মনে করে নদী বিশেষজ্ঞরা।
রাজশাহী জেলার চারঘাট নামক স্থান থেকে পদ্মার শাখা হিসেবে বড়াল নদের উৎপত্তি হয়ে বাঘা, বাগাতিপাড়া, বড়াইগ্রাম, চাটমোহর, ভাংগুড়া ও ফরিদপুর উপজেলার মধ্য দিয়ে বাঘাবাড়ী হয়ে হুড়া সাগরের বুকে মিশে নাকালিয়ায় যমুনা নদীতে পড়েছে যা দৈঘ্য প্রায় ২২০ কি.মি। শুধু বাগাতিপাড়া উপজেলার বুক চিরে প্রায় ২২ কি.মি পথ অতিক্রম করেছে। এক সময় যোগাযোগের সুবিধার কারণে বড়াল নদের দুই পাড়ে জামনগর বাজার, তমালতলা বাজার, বাগাতিপাড়া মডেল থানা ভবন, বিহাড়কোল বাজার ও কাদিরাবাদ সেনানিবাসসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ অসংখ্য জেলে পল্লী জীবিকার প্রয়োজনে গড়ে উঠেছে।
কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড ১৯৮১-৮২ অর্থ বছরে নদীর তীরবর্তী উপজেলাগুলোকে বন্যামুক্ত করার জন্য উৎসমুখ চারঘাট ও আটঘরিয়া সুইসগেট ও বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে পানির স্বাভাবিক গতি প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হয়। ফলে ক্রমান্বয়ে বড়াল নদ শুকিয়ে শীর্ণ খালে পরিনত হয়েছে। বর্ষায় নদীতে কিছু পানি জমলেও শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই শুকিয়ে মরা নদীতে পরিনত হয়।
এ সুযোগে এ সময়ে এলাকার কৃষকরা নদীর বুক জুড়ে ফসলের আবাদ করে। পরিনত হয় গবাদী পশুর চারণ ক্ষেত্রে। এক সময় যে বড়ালের পানির সেচে নদীর তীরবর্তি মানুষ তাদের জমিতে ফসল ফলাত এখন সে নদের বুকে অগভীর নলকূপ বসিয়ে চলে ইরি চাষ। নদী আছে, নৌকা আছে, নেই শুধু পানি, নেই নাব্যতা। নদীতে পানি না থাকায় এ নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো তার ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। প্রতিদিনের প্রয়োজনের অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করায় পানির স্তর হারিয়ে পাম্প ও গভীর নলকূপগুলো অকেজ হয়ে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট।
হাইকোর্টের এক নির্দেশনায় সি এস রেকর্ড নকশা মূলে বড়াল উদ্ধারের কথা বলা হলেও কোন দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।
বড়াল রক্ষা আন্দোলনের সদস্য সচিব মিজানুর রহমান বলেন, বড়াল রক্ষা করতে হলে এর দখল ও দূষণের মহাউৎসব বন্ধসহ চারঘাট ও আটঘরিয়া স্লুইচগেট দু’টি ধ্বংস করা। পাশাপাশি আর বড়াল পাড়ের ৮টি পৌরসভার বর্জগুলো এ নদেতে ফেলানো বন্ধ করতে হবে। বনপাড়া এসিল্যাড অফিস ও হাউজিং সোসাইটির বিল্ডিং বড়াল নদের মধ্যে যা মানা যায় না বলেও জানান তিনি।
আই ডাব্লিউ এম ও নদী রক্ষা কমিশনের সুপারিশ মতে, চারঘাট থেকে বাঘাবাড়ী পযন্ত ৫৬ টি স্থাপনা উচ্ছেদ এবং আটঘরিয়া থেকে বনপাড়া ১৮ কি.মি বেদখ চিহ্ন হীন নদীর উদ্ধার করতে হবে। দখল ও দূষণ বন্ধ হয়ে, হারিয়ে যাওয়া জৌলুস বড়াল ফিরে পাবে এমনটা প্রত্যাশা করে বড়াল পাড়ের ৫০ লাখ মানুষ।

এপ্রিল ২৯
০৩:১৮ ২০২১

আরও খবর