Daily Sunshine

মাহে রমজান

Share

সানশাইন ডেস্ক : রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন- তোমরা রোজা রাখো সুস্থ থাকবে। মহানবীর এই বাণী স্মরণ করিয়ে দেয় যে, ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ রোজা, তথা রমজান মাসের রোজা। এটি শুধু একটি ইবাদতই নয় বরং সুস্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ টনিকও। কীভাবে? সে বিষয়টিই আজ সংক্ষেপে বলবো।
প্রথমত রোজা পরিমিত খাবারের সুযোগ করে দেয়। এই পরিমিত খাবারের পর, কমপক্ষে ১২ ঘণ্টা অভুক্ত থাকার সুযোগও করে দেয়। এ বছর যারা আমরা রোজা শুরু করেছি, তারা লক্ষ্য করেছি যে, এবারের পূর্ণাঙ্গ একটি রোজায় কমপক্ষে প্রায় ১৪ ঘণ্টা ২০ মিনিট বা এর কাছাকাছি একটি সময় আমরা পুরোপুরি না খেয়ে, না পান করে কাটাই।
আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষা অটোফেজি বা সেলফ ইটিং অথবা আত্মভক্ষণ সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানি। অটোফেজি নিয়ে যারা গবেষণা করেছেন বা করছেন, সেসব চিকিৎসা বিজ্ঞানী ইতোমধ্যেই স্বীকার করেছেন যে, অটোফেজি অথবা আত্মভক্ষণ প্রক্রিয়া শরীরের কোষের মধ্যে কমপক্ষে ১২ ঘণ্টা পানাহার থেকে দূরে থাকলেই শুরু হয়। আবার কেউ কেউ বলেছেন ১৩ ঘণ্টা, কেউ বলেছেন ১৮ ঘণ্টা, কেউ বলেছেন ২৪ ঘণ্টা, কেউ বলেছেন ৪৮ ঘণ্টা, আবার অনেকে ৭২ ঘণ্টার কথাও বলেছেন। তবে যারা লম্বা সময়ের কথা বলেছেন, সেসব প্রবক্তার বক্তব্য অনুসারে পানাহারের পর থেকে, শুধু পানি ছাড়া কিছুই আর গ্রহণ করা যাবে না।
অন্যদিকে একজন মুসলিম রোজা রেখে পানি এবং খাবার দু’টো থেকেই কিন্তু কমপক্ষে প্রায় ১৪ ঘণ্টা ২০ মিনিট সময় দূরে থাকছে। তাহলে অন্ততপক্ষে দু’ঘণ্টা বিশ মিনিট সময় তার আত্মভক্ষণ প্রক্রিয়াটি চলতে থাকে। আর এটি স্বাস্থ্যের জন্য কতটা উপকারী সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না।
যারা ইসলামে বিশ্বাস করেন না, বা ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞ, তারা বলেন, ‘রোজা ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ, তাই রোজাদার আল্লাহর আদেশ মানার জন্যেই রোজা রাখে’। কথাটি সম্পূর্ণ সঠিক নয়। রোজা একজন মুসলিম এবং তার স্রষ্টার মধ্যে বিশেষ একটি সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ। কেউ যদি রোজা না রাখে, অথবা রোজা রাখে, অথবা রোজা রেখে ভেঙে ফেলে, অন্য কোনো মানুষের পক্ষেই তা বোঝা বা জানা প্রায় অসম্ভব। একমাত্র আল্লাহ্ তার বান্দা সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন। তাই মুসলিমদের রোজা শুধু ইবাদত নয়, ইবাদত এর পাশাপাশি এটি স্বাস্থ্য সুরক্ষারও গুরুত্বপূর্ণ একটি হাতিয়ার। আল্লাহ তা‘আলা কুরআন কারীমে বলেছেন, “তোমাদের জন্য রোজা রাখা খুবই ভালো, যদি তোমরা জানতে।’’
রোজায় পানাহারের নিয়ম কী আর আমরা করছি কী? রাসূল সা. বলেছেন, ইফতার করতে খেজুর দিয়ে, পানি দিয়ে, তাহলে এই খেজুর এবং পানি রক্তের সাথে খুব দ্রুত মিশে যেতে পারে। লম্বা সময় অভুক্ত থাকার পর এই মিশে যাওয়া শরীরের জন্য খুব উপকারী। অন্যদিকে ইফতারের সময় ভারী খাবার খেলে, গোস্ত-রুটি অন্যান্য খাবার খেয়ে উদর পরিপূর্ণ করে নিলে, কখনোই এর সুফল সাথে সাথে তো পাওয়া যায়ই না, বরং তা স্বাস্থ্যের জন্য অপকারী হিসেবে প্রতীয়মান হয়।
ইসলামের নির্দেশ, ইফতার করতে হবে কম পানাহারের মাধ্যমে। গ্রহণ করতে হবে সুষম খাদ্য। সেহরিতে খেতে হবে পরিমিত খাবার। কেউ সেহরিতে গলা পরিমাণ খেয়ে, তারপর যদি রোজা রাখে, সেই রোজার মূল্য রাসূলের বাণী অনুসারে সঠিকভাবে পাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। কেউ যদি ইসলামের দীক্ষা অনুসারে ইফতার খায়, সেহরি গ্রহণ করে এবং রোজা রাখে, তাহলে অবশ্যই তা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভালো।

এপ্রিল ২৮
০৪:৪৬ ২০২১

আরও খবর