Daily Sunshine

নওহাটায় জমি দখল করে বাউন্ডারী ওয়াল দেয়ার অভিযোগ

Share

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর নওহাটায় বাড়ির জমি দখল করে বাউন্ডারী দেয়াল দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নওহাটা পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের মদনহাটি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। জমির মালিক জাকীর হোসেন বলেন, মদনহাটি মৌজায়, আর.এস খতিয়ান-২১৬, ভূক্ত জমি যার জেএলনং-১০১, রকম ভিটা, দাগ নং যথাক্রমে ৯৯,১১৩ ও ১১৫। এর মধ্যে ৯৯ নং দাগে মোট জমি রয়েছে ১৮ শতক। এখান থেকে তার এক ছেলে ১ শতক জমি আলাদা করে ক্রয় করেন বলে জানান জাকীর। অবশিষ্ট ১৭ শতক জমি দুই ভাই জাকির হোসেন ও সমসের আলী মনসুরের নিকট হতে ক্রয় করেন। সেইসাথে দুই ভাই সাড়ে ৮শতক করে ভাগ করে নেন।
পরে সমসের আলী বড় ভাই জাকীর হোসেনের নিকট ঐ সাড়ে ৮কাঠা সম্পত্তি ১৪ জানুয়ারী ১৯৯২ সালে বিক্রি করেন। কিন্তু একই গ্রামের প্রতিবেশী আব্দুল মান্নানের স্ত্রী মনোয়ারার নামে সমসের ঐ জমি বিক্রি মুলে দলিল করেন। যার তারিখ ৩০ মে ১৯৯২ সাল। সেখানে সমসের আলীর জাল স্বাক্ষর করা হয়েছে বলে জাকীর হোসেন দাবী করেন। কারণ মাত্র চারমাস পূর্বে তার ভাই সমসের একই জমি তার নিকট বিক্রি করে দেন। আর মনোয়ারা জমি ক্রয় করেছেন একই মৌজায় ১১৫ দাগে। ৯৯ দাগের সঙ্গে মনোয়ারার ক্রয়কৃত সম্পত্তির কোন সম্পর্ক নেই বলে জানান জাকীর হোসেন।
জাকীর আরো বলেন, আব্দুল মান্নান যখন জোর করে নতুন বাড়ি করেন তখন তারা বাধা দিলে মান্নান কোর্টে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে একটি মামলা করেন। পরে জাকীর হোসেন পবা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করে বলে জানান। সেইসাথে জাকীর তারিখ অনুযায়ী কোর্টে জবাব দেন। জাকীর দাবী করেন মান্নান চলতি বছরের ৩ এপ্রিল হাইকোর্টের একটি ফরমএ জমির পূর্বের মালিক মনসুর রহমানের নামে একটি নিষেধাজ্ঞা পত্র যায়। যেখানে কোর্টের কোন বিচারকের নাম ও স্বাক্ষর নাই। এখানে রাজশাহী জর্জ কোর্টের একজন আইনজীবীর সাক্ষর রয়েছে। সেইসাথে সেরেস্তার নাম পবা থানা সিনিয়র সহকারী জজ আদালত রাজশাহীর একটি সিল রয়েছে। এই তথ্য ফরমটি কোর্ট থেকে তাকে দেয়া হয়নি বলে জানান জাকীর। জাকীর এই ফরমটি মনগড়া বলে দাবী করেন।
এদিকে জাকীর বলেন, ১১৩ দাগের খতিয়ানী মোট ২০ শতক সম্পত্তি সমসের ও জাকীরের নামে। এই সম্পত্তি উভয়ে সমান অংশিদার। এই জমির সোয়া ৮শতক জমি সমসের মান্নানের নিকট বিক্রি করেন। অবশিষ্ট পৌনে ১২শতক জাকীরের নিকট রয়ে গেছে। কিন্তু খতিয়ানে সমস্যার কারনে বর্তমানে ঐ দাগে মোট জমি পাওয়া গেছে মাত্র ৮ শতক। এর মধ্যে মান্নান একাই পুরো সম্পত্তি জোর করে দখল করে নেন। এছাড়া কোন প্রকার মাপজোক না করেই ৯৯ ও ১১৩ দাগের তাদের জমির উপর দিয়ে বাউন্ডারী দেয়াল শুরু করেছে বলে জানান জাকীর। তার জমি থেকে বাউন্ডারী দেয়াল অপসারন ও জমি দখলের কবল থেকে রক্ষা করতে আইনশৃংখলাবাহিনী ও ভূমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করেন জাকীর ও সন্তানেরা। এদিকে মান্নানের মোবাইল বন্ধ থাকায় তার কোন বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

এপ্রিল ২৩
০৩:৩৭ ২০২১

আরও খবর