Daily Sunshine

খোলা সুপারশপ, পাড়া মহল্লার দোকানের ভীড়

Share

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীতে লকডাউনের নামে রাস্তায় প্রহশন শুরু করেছে প্রশাসন। সুপারশপ সহ বাজার-হাট দোকান-পাট খোলা থাকলেও সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যকর্মী, রোগাী ও সাংবাদিকদের হয়রানির অভিযোগ প্রতিদিনই পাওয়া যাচ্ছে। রোগী কিংবা স্বাস্থ্যকর্মীকে পর্যন্ত রিক্সা থেকে নামিয়ে দেয়া হচ্ছে। আর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা নামে আদায় করা হচ্ছে নগদ অর্থ। আর সেই অর্থ দিয়েই ছাড় পেয়ে যাচ্ছেন আইন ভঙ্গকারীরা।
রোববার সকাল ৯টার দিকে কর্মস্থলে যাবার জন্য নগরীর ভদ্রা এলাকায় রিক্সা করছিলেন আরবান স্বাস্থ্য কেন্দ্রের একজন নারী স্বাস্থ্যকর্মী। ঘটনা স্থলে উপস্থিত একজন পুলিশ তাকে সেই রিকশায় চড়তে দেননি। এসময় ওই পুলিশকে তিনি নিজের পরিচয় জানান এবং বলেন তিনি তার কর্মস্থলে যাবার জন্য রিক্সা ভাড়া করছেন। তার পরো তাকে রিক্সায় চড়তে দেয়া হয়নি। লক্ষ্মীপুর মোড়েও একই চিত্র। রোগী রিকশায় থাকলেও তাদেরকে নামিয়ে দেয়া হচ্ছে। সড়কে থাকা রিকশার টায়ারের পাম ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। সেমাবার বেলা ১২ টার দিকে সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টের কাছে বাটার দোকানের সামনে দেখা যায় একজন ট্রাফিক কনসটেবল রিকশা দেখলেই থামাতে ইশারা করছেন। অথচ তার পাশ দিয়ে মোটরসাইকেলে করে দুই জন যাত্রী চলে গেলেও তাদের গতি রোধ করা হচ্ছে না। এদিকে রিকশায় থাকা যাত্রীরা ওই কনসটেবলকে বাজারে যাচ্ছেন জানানোর পরো তাদেরকে নামিয়ে দেয়া হচ্ছে। নগরীর প্রতিটা গুরুত্বপূর্ণ সড়কে চেকাপাস্ট বসানো হয়েছে। আর ঠিক সেই চেক পোস্টের পাশেই চায়ের দোকান নয়তো অন্য কোন ব্যবসার পসরা সুকৌশলে সাজিয়ে বসা হয়েছে।
সোমবার সাহেব বাজর কাঁচাবাজারে বাজার করতে আসা ইসমত আরা জানান, তাকে রিকশা থেকে পুলিশের একজন সদস্য নামিয়ে দিয়েছে। তার প্রশ্ন যদি মানুষ বাজারেই না আসবে তবে বাজর কাদের স্বার্থে খেলা রাখা হয়েছে। এই গরম ও রোজায় কেউ অহেতুক বাইরে বের হয় না বলে তার দাবি। রিকশা চালক জহুরুল জানান, গ্যারেজে গ্যারেজে পুলিশ গিয়ে রিকশা চার্জ না দিতে বলে দিয়েছে। এবার এখন পর্যন্ত কেউ সাহায্য নিয়েও এগিয়ে আসেনি। এভাবে চলতে থাকলে পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে, আত্মহত্যা করতে হবে।
এদিকে সাংবাদিকরা লকডাউনের বিধি নিষেধের আওতার বাইরে থাকলেও সড়কে কর্মরত সাংবাদিকদের নানা ভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাংবাদিক পরিচয় দিলেই পুলিশ সদস্যদের কাছ থেকে নানা ধরণের টিপ্পনি শুনতে হচ্ছেন নয়তো হয়রানি করা হচ্ছে। এসব বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে কর্তব্যরত পুলিশদের সাথে কথা হলে তারা কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কে চেকপোস্ট বসানো হলেও পাড়া মহল্লাগুলোতে দোকানপাট ও চয়ের স্টলগুলো খোলা রয়েছে। প্রতিদিন সন্ধ্যার পরই এলাকাগুলোতে স্থানীয়দের আড্ডা বাড়ছে। এদিকে অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও আমানা বিগ বাজার সহ নগরীর সুপর শপগুলো খুলে ব্যবসা পরিচানলা করতে দেয়া হচ্ছে দেরারছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের বিষয়ে কোন সিদ্ধান নেয়নি স্থানীয় প্রশাসন। অবশ্য এবিষয়ে আমানা বিগ বাজারের ব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুধুমাত্র পচনশীল দ্রব্যগুলো বিক্রি করছেন।
হাসপাতালগুলোতে স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই। করোনা প্রতিষেধক টিকা ও করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দেয়ার কেন্দ্রে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতের বিষয়গুলো চোখে পড়েনি। এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও উদাসিন।

এপ্রিল ২০
০৩:৪৯ ২০২১

আরও খবর