Daily Sunshine

জমি দখল চেষ্টার অভিযোগে নগরীতে সংবাদ সম্মেলন

Share

স্টাফ রিপোর্টার: ১৪৪ ধারা জারিকৃত থাকলেও আদালত অবমাননা করে জোরপূর্বক সম্পত্তি দখল চেষ্টার অভিযোগে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে রাজশাহী মহানগরীতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। রোববার নগরীর খড়িখড়ি বাইপাস এলাকায় এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নগরীর মতিহার থানাধীন মৃত এন্তাজ আলীর মেয়ে সুফিয়া বেগম। লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করে জানান, রাজশাহী জেলার পবা উপজেলার, ললিতাহার মৌজার জেএল নং-১৫৬ তে আর.এস খতিয়ান নং-২৭, আর.এস দাগ নং- ৯৩৫, ৭৭৩, ৭৭৫, তাদের বাড়ি ও ভিটা আছে। তিন দাগে মোট ৩৪ শতাংশ জমি ছিল। রাস্তা তৈরির জন্য সড়ক বিভাগ ৮ শতক জমি অধিগ্রহণ করে। বাকি ২৬ শতাংশ এর উপরে বাড়ি ও দোকান রয়েছে। এরমধ্যে ১৭ শতাংশ এর মধ্যে বাড়ি ও ৯ শতাংশ এর উপরে বাড়ি আছে।
এসব জমি দখলে নিতে দীর্ঘদিন ধরে বারবার মতিহার থানার খড়খড়ি ললিতাহারের মৃত কুড়ানের ছেলে দুঃখ, সমজান আলী, মৃত মেছের উদ্দিনের ছেলে নুর ইসলাম ও মৃত হামুর ছেলে সেহের আলী দখল করার চেষ্টা করে আসছে। এছাড়াও কয়েকজন বহিরাগত কিছু জমি দখল করে আছে। এ নিয়ে তার বড় ভাই জামাল উদ্দীন গত ২০১০ সালে জেলা রাজশাহীর সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে জমির পাশের ফাঁকা জমি লীজ নেয়ার জন্য আদালতে মামলা করে। মামলা নং-৩০৯/২০১০ ইং।
তারপর আবার বহিরাগতরা দখল করতে আসলে তার আরেক বড় ভাই ইয়াছিন মতিহার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে। জিডি নং-৩৫৬। জিডির পরেও বহিরাগতরা জমিটি দখলের চেষ্টা করে। পরে আইনজীবীর মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে লিগ্যাল নোটিশ দেয়া হয়। কিছুদিন বন্ধ থাকার পরে ২০১৬ সালে আবার বহিরাগতরা ক্ষমতা দেখিয়ে লোকজন ভাড়া করে বুলড্রোজার দিয়ে বাড়ি ভাঙ্গার চেষ্টা করে। বাধা দিলে বিভিন্ন হুমকি-ধামকি দেয় তারা। পরে সেটি জেলা রাজশাহীর চারঘাট জজ আদালতে থেকে (মামলা নং-২৬২, ২০১৫) এর মাধ্যমে আদালত সম্পত্তিটি অন্য কারো ব্যবহার না করার জন্য নিষেধাজ্ঞা দেয়। এরপর থেকে কিছুদিন বহিরাগতদের উৎপাত বন্ধ ছিল।
গত ২০২০ সালে আবারো তারা কোন ধরণের কাগজপত্র ছাড়াই লোকজন নিয়ে এসে বাড়ি ও দোকান ভাঙ্গার চেষ্টা করে। বাধা দিলে আবারো হুমকি দেয় তারা। পরে আবেদনের প্রেক্ষিতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত রাজশাহী মামলা নং-৩৩৬-পি/২০ (পবা) ধারা-১৪৪ কাঃ বিঃ সূত্রে ১৪৪ ধারা জারি করে। ১৪৪ ধারায় জমি নিয়ে উভয় পক্ষকে আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে নিষেধ করা হয়। উভয় পক্ষকেই নিজ নিজ অবস্থানে থাকার নির্দেশ দিয়ে আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার আদেশ দেয়া হয়। কেউ আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটালে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ারও কথা বলা হয়। তখন পুলিশ তাদের জমি থেকে চলে যেতে বললে তার চলে যায়।
আবারো চলতি মাসের ১৭ তারিখ শনিবার প্রতিপক্ষরা আবার সেই জমিতে এসে দখল করার চেষ্টা করে। পরে থানা ও ৯৯৯ এ কল দিয়ে বিষয়টি জানালে ঘটনাস্থলে পুলিশ আসলে তারা চলে যায়। সংবাদ সম্মেলনে আরো অভিযোগ করা হয়, বহিরাগতরা জোর করে তাদের দখলিয় দোকান থেকে চাঁদা ও খাজনা আদায় করছে। এ অবস্থায় তারা অসহায় হয়ে পড়েছেন। ১৪৪ ধারা জারিকৃত জমিতে এসে তারা আদালত অবমাননা করছে। এ জন্য বিষয়টি নিয়ে তারা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। যাতে তারা প্রতিপক্ষদের হাত জমি রক্ষা করতে পারেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, সংবাদ সম্মেলনকারী সুফিয়ার মা ফাতেমা বেগম, ভাই শামসুল হক, ভাই বদর, ভাবি শুকতারা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ। এ বিষয়ে প্রতিপক্ষের লোকজনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাদের পাওয়া যায়নি।

এপ্রিল ১৯
০৫:২৩ ২০২১

আরও খবর