Daily Sunshine

টানা ঘরবন্দিতে অসহায়ত্ব বাড়ছে কঠোর লকডাউনেও রাস্তায় মানুষ

Share

স্টাফ রিপোর্টার: ‘আমার বাড়িত ৫ জন সদস্য। আমার অটো কিস্তিতে কেনা। কিস্তির টাকা নিয়মিত পরিশোধ করতে হয়। টানা লকডাউন চলতেছে। বাড়িতে খাবার জন্য টাকা নেই, আর কিস্তির টাকা কই পাবো? তাই বাধ্য হইছি রাস্তায় নামতে অটো লিয়ে।’ রবিবার সকালে নগরীর নওদাপাড়া এলাকায় যাত্রীর আশায় অটোরিকশা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা আমজাদ হোসেন এসব কথা বলেন। কথাগুলোর মধ্যে দু:খ, কষ্ট ও ক্ষোভের ছিটেফোটাও ছিল বেশ।
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণরোধে ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ চলছে। আপাতত এক সপ্তাহের হলেও পরিস্থিতি বিবেচনায় পরে এটি আরও এক সপ্তাহ বাড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে অটোচালক আমজাদ হোসেনের মতো অসহায় মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। অনেকেই লকডাউনের কড়াকড়ি মাথায় না নিয়ে, জীবনের হুমকি জেনেও জীবিকার প্রয়োজনে বেরিয়ে আসছে বাহিরে।
সর্বাত্মক লকডাউনে শক্তভাবে দায়িত্ব পালন করছে থানা পুলিশ। ভ্যান-অটো আটক করছে পুলিশ। জীবিকার টানে ঘর থেকে বেরিয়ে আসা মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। ঘর থেকে বেরিয়ে আসা মানুষদের একটাই কথা, বসে থাকলে পেট কিভাবে চলবে?
রবিবার রাজশাহীর মোড়ে মোড়ে পুলিশ। ‘সর্বাত্মক লকডাউনের’ ভেতর রাস্তায় বের হওয়া মানুষগুলোর পথ আটকাচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা। রিকশা-অটোরিকশা থেকে যাত্রীদের নামিয়েও দেয়া হচ্ছে। তারপরও রাজশাহী শহরে মানুষের চলাচল দেখা যাচ্ছে।
বুধবার থেকে সর্বাত্মক লকডাউন শুরুর প্রথম দিন রাজশাহীতে বেশ কড়াকড়ি দেখা যায়। এরপর বৃহস্পতি ও শুক্রবার খানিকটা ঢিলেঢালা হয়ে পড়ে লকডাউন। শনিবার সকাল থেকে অবশ্য পুলিশকে কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। কিন্তু মুভমেন্ট পাস না থাকলেও কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।
রবিবার সকালে নগরীর শালবাগান এলাকায় বাজার করতে এসেছিলেন মিজান আহম্মেদ (২৮)। তিনি বলেন, ‘আমি কাঁচাবাজার করতে এসেছি। বাজার করেই বাড়ি চলে যাব।’
রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, ‘আমাদের এখানে কেউ একেবারেই মুভমেন্ট পাস নিচ্ছে না, এমনটি নয়। অনেকেই নিচ্ছেন। তবে আমাদের পক্ষ থেকে এটি ব্যাপক আকারে চেক করা হচ্ছে না। শুধুমাত্র আমাদের প্রবেশ পথগুলোতে বেশি আকারে চেক করা হচ্ছে। তবে শহরের ভেতর তেমন চেক করা হচ্ছে না।’
শনিবার নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পুলিশের কড়াকড়ি স্বত্বেও লোকজন বাইরে আসছেন। ছোট ছোট কিছু কিছু দোকানপাটও খুলছে। শহরে আগের চেয়ে রিকশা-অটোরিকশা চলাচলও বেড়েছে। তবে সংখ্যায় কম হওয়ায় রিকশা-অটোরিকশায় চাওয়া হচ্ছে বাড়তি ভাড়া।
এদিকে লকডাউনের মধ্যেই রাজশাহীর এক ব্যক্তির রাস্তায় নামাজ পড়ার ছবি ভাইরাল হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, নগরীর বর্ণালী মোড় এলাকায় এক ব্যক্তি রাস্তায় জায়নামাজ বিছিয়ে নামাজ পড়ছেন। পাশে দাঁড়িয়ে আছেন কয়েকজন পুলিশ সদস্য। পাশে পুলিশের একটি গাড়িও দাঁড়িয়ে আছে। যাঁরা ছবিটি ফেসবুকে পোস্ট করছেন তাঁরা বলছেন, লকডাউনের মধ্যে এই ব্যক্তি রিকশায় চড়ে যাচ্ছিলেন। পুলিশ বাঁধা দেয়ার প্রতিবাদে তিনি রাস্তায় নামাজ পড়ছেন।
ছবিটির বিষয়ে নগরীর বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিবারন চন্দ্র বর্মন বলেন, এ রকম কোন ঘটনা ঘটেছে কিনা তা জানতে পারিনি। ঘটনার সময় পুলিশের যে টিম দায়িত্ব পালন করছিল তারা থানায় ফেরার পর বলা যাবে। ওসি বলেন, লকডাউনে মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। তারপরও নানা অজুহাতে মানুষ রাস্তায় বের হয়ে আসছেন।

এপ্রিল ১৯
০৫:২০ ২০২১

আরও খবর