Daily Sunshine

স্বপ্ন বিভোর কৃষক গোলা ভরবে ধানে

Share

মাহফুজুর রহমান প্রিন্স, বাগমারা: জেলার বৃহত্তম বাগমারায় এবার বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে। মাঠে মাঠে ধান পাকা শুরু হয়েছে। তবে অনেক স্থানে কৃষক আগাম রোপনকৃত ধান পুরোপুরি পেকে ওঠেছে। সোনালী ধান দেখে কৃষকের মন কেবলই জুড়িয়ে যাচ্ছে। পাকা ধান এখন গোলায় ওঠার অপেক্ষো।
তবে সার্বিক ভাবে এ উপজেলায় বোরোর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিলেও এখানে বিগত কয়েক বছর ধরে ব্যাপক হারে ধানী জমিতে পুকুর খননের কারণে বোরোর চাষাবাদ অনেকটাই কমে গেছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বাগমারায় এবার লক্ষমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছে। চাষের লক্ষমাত্রা আঠারো হাজার পাঁচশ হোক্টর নির্ধারন করা হলেও প্রকৃত চাষবাদ হয়েছে আরো একহাজার হেক্টর বেশি জমিতে। অনুকূল আবহাওয়া এবং সরকারি ভাবে কৃষকদের বিনামূল্যে বীজসহ অন্যান্য কৃষি উপকরণ বিতরণ করার ফলে কৃষকরা ব্যাপক হারে বোরোর আবাদে নেমে পড়ে। শিলা ঝড় বৃষ্টি পোকামাকড়ের আক্রমন বা অন্য কোন প্রাকৃতিক সমস্যা না হওয়ায় এখন পর্যন্ত বোরোর বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষক।
মাড়িয়ার কৃষক লুৎফর রহমান জানান, তিনি এবার সাড়ে তিন বিঘা জমিতে করেছেন ব্রি-ধান ২৮ এর আবাদ। ধানে ফুল বের হয়েছে। চেহারাও ভাল। তার মতে এবার অনেক ভাল ফলন হবে।
হামিরকৃৎসার কৃষক মঞ্জুর রহমান জানান, তিনি এবার বারো বিঘা জমিতে কয়েক জাতের ধানের আবাদ করেছেন। অন্য বছরের তুলনায় এবার ওষধ, সার সবই কম লেগেছে। প্রকৃতিক দূর্যোগ থেকে রক্ষা পেলে এবার বাম্পার ফলন হবে বলে তিনি আশা করছেন। উপজেলা কৃষি অফিসার (কৃষিবিদ) রাজিবুর রহামন জানান, এবার আবহওয়ার কারণে ধানে চিটার পরিমান খুব কম হওয়ার সম্ভাবনা।
এছাড়া কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ সার প্রদান করায় এবং ব্যাপক বন্যায় জমিপলি যুক্ত হওয়ায় বোরোর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তবে পুকুর খননে ধানী জমি ব্রবহৃত হওয়ায় এ উপজেলায় কী পরিমান বোরোর আবাদ কমেছে এ বিষয়ে কোন পরিসংখ্যান করা নেই উল্লেখ করে কৃষি অফিসার আরো বলেন, ধানের চেয়ে মাছ চাষ করায় কৃষকরা কয়েকগুণ বেশি লাভবান হওয়ায় রাতারাতি ধানী জমিগুলো পুকুরে পরিনত হচ্ছে যা কোন ভাবে রোধ করা যাচ্ছে না।
বিষয়গুলো উপজেলার সমন্ময় সভায় তুলে ধরা হয়েছে। আমরা এর ভবিষ্যৎ কুফল ও পরিবেশের বিপর্যয় সম্পর্কে বলেছি।

এপ্রিল ১৮
০৩:৪২ ২০২১

আরও খবর