Daily Sunshine

চারঘাটে বালুমহাল নিয়ে উত্তেজনা

Share

মিজানুর রহমান, চারঘাট: রাজশাহীর চারঘাটে বালুমহালকে কেন্দ্র করে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় পৃথক ভাবে দুপক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে দুপক্ষের অভিযোগই তদন্তনাধীন রয়েছে বলে জানান মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম। এছাড়াও এখন পর্যন্ত পরিবেশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন রাখতে বালুমহালে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, চারঘাটের বালূমহাল নিয়ে পুর্বের ইজারাদার ও নতুন ভাবে প্রাপ্ত ইজারাদারের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে চারঘাট বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে একপক্ষ অপর পক্ষকে দায়ি করে। এ ঘটনায় শনিবার চারঘাট মডেল থানায় দুপক্ষই পৃথক পৃথক ভাবে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোন পক্ষরই অভিযোগ মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়নি।
জানা যায়, চারঘাট মৌজায় ১ কোটি ২২ লাখ টাকায় এক বছরের জন্য সরকারী ভাবে বালুমহাল ইজারা পায় মেসার্স রনি এন্টারপ্রাইজ। যার মেয়াদ গত ১লা বৈশাখ শেষ হয়েছে। এরই মাঝে দরপত্রের মাধ্যমে সাড়ে ৬ কোটি টাকায় টেন্ডারের মাধ্যমে ওই বালুমহাল ইজারা পায় সোহেল জোবেরী।
এ দিকে পুর্বের ইজারাদারের মজুদকৃত বালূ বালুমহালে থাকায় নতুন ভাবে প্রাপ্ত ইজারাদার বালু উত্তোলণ করতে পারছে না বলে অভিযোগ তোলে। এ অভিযোগে পুরাতন ইজারাদারকে মজুদকৃত বালু সরিয়ে ফেলার জন্য বললে তারা সময় চান। তবে সময় দিতে নারাজ নতুন ইজারাদারের লোকজন।
এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তারই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার রাতে হঠাত করে চারঘাট বাজার চাররাস্তার মোড়সহ বিভিন্নস্থানে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। তবে এ ককটেল বিস্ফোরণের জন্য পুরাতন ইজারাদারের লোকজন নতুন ভাবে প্রাপ্ত ইজারাদারের লোকজনদের দায়ি করে। আবার নতুন ভাবে প্রাপ্ত ইজারাদারের লোকজন ককটেল বিস্ফেরণের জন্য পুরাতন ইজারাদারের লোকজনদের দায়ি করে।
এতে করে নতুন ভাবে প্রাপ্ত বালূমহালের ইজারাদার সোহেল জোবেরীর লোক হিসেবে পরিচিত উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান বিপ্লব পুরাতন ইজারাদারের লোকজনকে দায়ি করে।
এছাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আল মামুন তুষার নতুন ভাবে প্রাপ্ত সোহেল জোবেরীর ক্যাডার বিএনপির জীবনসহ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান বিপ্লবকে দায়ি করে বলেন, আমার বাসায় ককটেল হামলা ছাড়াও আমাদের অফিসে হামলা চালিয়ে টিভি ও সিসি ক্যামেরা ভাংচুর করা হয়েছে।
বিষয়টি সম্পর্কে চারঘাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শান্তি শৃংখলা বজায় রাখতে ইতোমধ্যে বালুমহালে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়াও উভয় পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা সামিরা বলেন, ইতোমধ্যে বালূমহাল প্রাপ্ত সোহেল জোবেরীকে বালুমহাল বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। পুর্বের বালুমহালের ইজারাদারকে দ্রুত মজুদকৃত বালু সরিয়ে ফেরার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এপ্রিল ১৮
০৩:৩৪ ২০২১

আরও খবর