Daily Sunshine

রাজশাহীতে ঢিলেঢালা লকডাউন

Share

স্টাফ রিপোর্টার : সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী রাজশাহীতেও চলছে লকডাউন। গত তিনদিন কঠোরভাবে লকডাউন বাস্তবায়ন হলেও শনিবার (১৭ এপ্রিল) চতুর্থ দিনে বেশ ঢিলেঢালাভাবে লকডাউন পালিত হয়েছে। নগরীর বিভিন্ন রাস্তায় মানুষ চলাচল করতে দেখা গেছে। সাথে বেড়েছে রিকশা, অটোরিকশা, প্রাইভেট কারসহ ছোট যান চলাচল।
নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মানুষের অযাচিত সমাগম দেখা গেছে। রাস্তায় দাঁড়িয়ে আড্ডাও জমিয়েছেন অনেকেই। তবে পুলিশের টহল দলকে মাইকিং করে এসব ভিড় ভাঙ্গতে দেখা গেছে।
নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও চারটি প্রবেশপথে রয়েছে পুলিশ চেকপোস্ট। সেগুলোতে কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরের কোন পরিবহণ প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। নগরীর অভ্যন্তরীণ চেকপোস্টগুলোতে যাত্রী ও চালকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বাইরে বের হওয়ার উপযুক্ত কারণ দর্শাতে না পারলে জরিমানা ও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
পুলিশের জেরা এড়াতে রিকশা ও অটোরিকশা চালকরা কৌশলে এসব চেকপোস্ট থেকে একটি নির্দিষ্ট দূরত্বে যাত্রীদের নামিয়ে দিচ্ছেন। চেকপোস্ট এলাকা হেঁটেই পার হচ্ছেন যাত্রীরা। এছাড়াও পুলিশের ঝামেলা এড়াতে নগরীর ভেতরের সরু রাস্তা দিয়ে যান চলাচল করতে দেখা গেছে।
মহানগরীর শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামান চত্বর, শিরোইল বাস টার্মিনাল, রেলওয়ে স্টেশন, নিউমার্কেট, সাহেববাজার জিরোপয়েন্টের রাস্তাগুলোতে খুব একটা যান চলাচল করতে দেখা যায়নি। ওষুধ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান ছাড়া সব ধরনের দোকানপাট বন্ধ দেখা গেছে।
বেলা বাড়ার সঙ্গে নগরীর কাঁচাবাজারগুলোতে ভিড় জমতে দেখা গেছে। টিসিবির পণ্য বিক্রয় পয়েন্টগুলোতে ব্যাপক ক্রেতা সমাগম লক্ষ্য করা গেছে। তবে সবগুলোতেই উপেক্ষিত হয়েছে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব। রমজান উপলক্ষে বেশ ভিড় লক্ষ্য করা গেছে ফলের দোকানগুলোতেও।
নগরীর আরডিএ মার্কেট, নিউ মার্কেট ও অন্যান্য বড় মার্কেট বন্ধ থাকলেও বিভিন্নস্থানে সাটার নিচে নামিয়ে রেখে বেচাকেনা চালু রেখেছেন অনেক গার্মেন্টস ব্যবসায়ী। নগরীর কোর্ট বাজার এলাকায় বেশ কয়েকটি দোকানের সাটার নামিয়ে দোকান খোলা রাখতে দেখা গেছে। তবে সেখানে ক্রেতার সংখ্যা ছিল হাতে গোনা দুই একজন।
লকডাউনে যান চলাচল বন্ধ থাকায় চলমান রোজায় বেড়েছে মানুষের ভোগান্তি। নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা এলাকায় পঞ্চাশোর্ধ্ব পথচারী আয়েশা বেগম জানান, তিনি টিসিবির পণ্য কিনতে নগরীতে এসেছিলেন। সেখানে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনেছেন। কিন্তু রোজার মধ্যে সেগুলো নিয়ে যাতায়াতে ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন। একটু পরপর গাড়ি পরিবর্তন করে হাঁটতে হচ্ছে। চালকরাও বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন।
অন্যদিকে, জেলার প্রত্যেকে উপজেলাতে পালিত হচ্ছে লকডাউন। উপজেলাগুলোতে লকডাউন বাস্তবায়নে তৎপর রয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ। বিকেল পাঁচটার মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকানপাট বন্ধ করা হচ্ছে। তবে বাজারগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না ঠিকঠাক। মাস্ক ব্যবহারেও সাধারণ মানুষের অনীহা রয়েছে। এসবের মধ্যেই মাঠে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন কৃষকরা।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার মো. আবু কালাম সিদ্দিক জানান, লকডাউন বাস্তবায়নে শহরের প্রবেশপথে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। এছাড়া নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে পুলিশের চেকপোস্ট বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আরএমপির সকল থানাগুলোর টহল দল কাজ করছে। এক্ষেত্রে বাইরে আসা জনসাধারণ সুনির্দিষ্ট কারণ দেখাতে না পারলে তাদের জরিমানা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত অপ্রীতিকর কোন ঘটনা ঘটেনি।
তিনি আরও জানান, দোকানপাট খোলা থাকছে না। কোথাও এরকম কোন তথ্য পাওয়া। তবে কেউ যদি খুলে থাকেন তবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু আসলাম বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কঠোরভাবেই লকডাউন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ অবস্থায় কেউ অহেতুক বাইরে ঘোরাঘুরি করলে তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের শাস্তির মুখেও পড়তে হবে। আর লকডাউনের শিথীলতার কোন সুযোগ নেই। মার্কেট খুললেই সেখানে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এপ্রিল ১৮
০৩:২৭ ২০২১

আরও খবর